বাগেরহাটে গৃহবধু হত্যার বিচারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন

নিজস্ব প্রতিবেদক:
বাগেরহাটের শরণখোলায় গৃহবধু হালিমা বেগম (২০) এর হত্যাকারীদের বিচারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন তার ভাই মাসুম মিয়া। শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন চালিয়ে পরিকল্পিতভাবে হালিমাকে হত্যা করা হয় বলে দাবি করেণ নিহত হালিমার ভাই।
বুধবার সকালে বাগেরহাট প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এমন অভিযোগ করে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেণ মাসুম বিল্লাহ। এসময় শরণখোলা উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ন সম্পাদক মোঃ সোবহান মুন্সি, স্থানীয় ইউপি সদস্য রিয়াদুল পঞ্চায়েত, নিহত হালিমার বড় ভাই নাছির উদ্দিন।
লিখিত বক্তব্যে মাসুম মিয়া বলেন, ২০১৭ সালের ২০ মার্চ একই উপজেলার রাজৈর গ্রামের মোঃ মজিদ মুন্সির ছেলে মোঃ আল আমিন মুন্সির সাথে আনুষ্ঠানিকভাবে আমার বোন হালিমার বিয়ে হয়। বিয়ের পর বিভিন্ন সময় আমার বোনের স্বামী আল আমিন মুন্সি ব্যবসা বানিজ্য ও দোকান ঘর নির্মানের জন্য আমাদের কাছ থেকে ১০ লক্ষাধিক টাকা ধার নেয়। এরপরও বিভিন্ন অজুহাত দিয়ে আমার বোনের কাছে টাকা চাইতে থাকে। টাকা না দিলে আমার বোনকে মারধর করে। পরে আল আমিন মুন্সির প্রবাসী বড় ভাইয়ের স্ত্রীর সাথে তার পরকীয়ার বিষয়টি জানতে পারে আমার বোন। এ নিয়ে মাঝে মধ্যে পারিবারিক কলহ চলে আসছিল। পারিবারিক কলহের বিষয়টি আমার বোন মুখ বুঝে সহ্য করলেও মৃত্যুর দুই মাস আগে আমাদের পরিবারকে জানায়। আমরা কাজের জন্য ঢাকায় থাকার কারণে বিষয়টি নিয়ে সমাধানের চেষ্টা করতে পারিনি।
এর মধ্যে গত ২২ অক্টোবর সন্ধ্যায় আমার বোন হালিমাকে মারধর করে হত্যা করে মরদেহ হাসপাতালে ফেলে রেখে পালিয়ে যায় আল আমিন ও তার পরিবারের লোকজন। পরে আমরা থানা পুলিশকে জানালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্ত সম্পন্ন করে। তবে ঘটনার পর থেকে আল আমিনের পরিবারের লোকজন পলাতক রয়েছে। কিন্তু আজও পর্যন্ত হত্যা মামলা না হওয়ায় প্রকৃত হত্যাকারীর বিচার নিয়ে আমরা সংঙ্কায় রয়েছি। আমরা চাই পুলিশ সঠিক তদন্ত করে দোষীদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনে।
শরণখোলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দিলিপ সরকার বলেন, ময়নাতদন্তের রিপোর্টের ভিত্তিতে হত্যা মামলা দায়ের করা হবে। প্রকৃত হত্যাকারীদের কোন ভাবেই ছাড় দেয়া হবে না। তাদেরকে আইনের আওতায় আনা হবে।