চিতলমারীর ৯ কিলোমিটার ভাঙা রাস্তায় ২০ গ্রামের মানুষের চরম ভোগান্তি

নিজস্ব প্রতিবেদক:
‘কি বলব বাবা। সেই সকাল থেকে বসে আছি। দুপুর গড়িয়ে গেল। এখনও একটি খ্যাপও পায়নি। ভাঙা রাস্তায় কেউ ভ্যানে চড়তে চায়না। গুরুত্বপূর্ণ এ রাস্তাটি কমপক্ষে ৬ বছর ধরে মেরামত হয়না। সে কারণে ৯ কিলোমিটার রাস্তা এখন ২০ গ্রামের মানুষের জীবনে চরম ভোগান্তি হয়ে দেখা দিয়েছে। শুধু আমিই নই, প্রায় দেড় শতাধিক ভ্যান ও অটো চালক বর্তমানে পরিবার নিয়ে না খেয়ে মরতে বসেছে।’মঙ্গলবার বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার বিপদের মোড় ভ্যানস্ট্যান্ডে বসে আক্ষেপের সাথে কথা গুলো বলছিলেন ভ্যান চালক নবের আলী শেখ (৬০)।


তিনি আরও জানান, উপজেলা সদর বাজার থেকে পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের সামনে দিয়ে চিতলমারী-পাটরপাড়া-বাখেরগঞ্জ বাজার সড়কটি প্রায় ১৮ বছর আগে নির্মান হয়। নিম্মমানের সামগ্রী দিয়ে নির্মানের কারণে এটিতে অল্পদিনের মধ্যেই কার্পেটিং উঠে বড়বড় গর্তের সৃষ্টি হয়। দীর্ঘ ৬-৭ বছর রাস্তাটিতে কোন মেরামত বা সংস্কারের কাজ না হওয়ায় এটি একেবারে চলচলের অনুপযোগি হয়ে পড়ে। এক সময় এই রাস্তায় প্রতিদিন শতাধিক ভ্যান, অটোবাইক, নছিমন এবং ভটভটি চলাচল করত। কিন্তু বর্তমানে রাস্তাটির বেহাল দশার কারণে কুরমুনি, খড়মখালী, সুরশাইল, ব্র²গাতি, দূর্গাপুর, শ্যামপাড়া, খুদাড়ী, পাটরপাড়া, সাবোখালী, দানোখালী, চৌদ্দহাজারী, সন্তোষপুর, আদিখালী, কাঠিপাড়া, রায়গ্রাম, করাতেরদিয়া, মান্দ্রা, বাদোখালী, আলীপুর ও বাখেরগঞ্জসহ ২০ গ্রামের মানুষের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। এক সময়ের ব্যস্ততম এ রাস্তাটি এখন সারাদিনই থাকে প্রায় জনমানব শূণ্য। সে জন্য প্রায় দেড়শতাধিক ভ্যান চালক পরিবারের খেয়ে না খেয়ে দিন চলছে।
এ ব্যাপারে বাদাম বিক্রেতা জামাল ফরাজী, কৃষক রেজাউল খান, সুধাংশু মন্ডল, ভ্যান চালক আরশাফ মোড়ল, শহর আলী, মেকার রোকা বিশ্বাস, ফল বিক্রেতা ফারুক মিয়া, মাছ বিক্রেতা কাঙ্গাল রাজবংশীসহ শতাধিক ব্যাক্তি প্রায় অভিন্নসুরে জানান, গুরুত্বপূর্ণ এই রাস্তাটি এ অঞ্চলের মানুষের জীবন ও জীবিকার সাথে জড়িত। তাই অতিশীঘ্র এটি সংস্কারের দাবি জানান তারা।
তবে চিতলমারী উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ জাকারিয়া হোসেন জানান, গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কটি ৮ কিলো ৬০০ মিটার লম্বা। এটির একটি ইস্টিমেট ইতিমধ্যে পাঠানো হয়েছে। ইস্টিমেট পাশ হলে টেন্ডার আহব্বান করা হবে।