“ভালোবাসায় নেই পবিত্রতা, হারিয়ে যাচ্ছে মানবিকতা” ‘ভালোবাসার শক্তি ছড়িয়ে পড়ুক সকলের অন্তরে’

তানজীম আহমেদ:
ভালোবাসা শুধু চার অক্ষরের একটি শব্দ নয়,এই শব্দের মধ্যে দিয়ে বেঁচে থাকি আমরা। যদি কোনোদিন ভালোবাসা উঠে যায় তবে সেদিন বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়বে এ পূথিবী। প্রশ্ন হচ্ছে ভালোবাসার সংজ্ঞা আসলে কি?বর্তমানে সত্যিকারের ভালোবাসা বিরল কোনো বস্তুতে পরিণত হয়েছে কেনো? কারন মানুষ এখন প্রতিদানের ভালোবাসায় বিশ্বাসী হয়ে উঠছে,ফলশ্রুতিতে হুমকির মুখে পড়ছে মানবসত্তা।অথচ প্রতিদানের প্রত্যাশা না করে ভালোবাসতে পারাটাই হচ্ছে সত্যিকারের ভালোবাসা।
ভালোবাসা বললেই এখন আমরা প্রেমিক-প্রেমিকার ভালোবাসাকে বুঝি। কিন্তু বিষয়টি হওয়ার কথা ছিলো অন্যরকম।ভালোবাসা হওয়া উচিৎ সার্বজনীন। সেটা হতে পারে পিতা-মাতার প্রতি,বন্ধুর প্রতি,দিনমজুর,কুলি,রিক্সাচালক সকল মানুষ সহ জীব-জন্তু,গাছপালা সব কিছুর প্রতিই ভালোবাসা থাকতে হবে। আমাদের বর্তমান প্রজন্ম পিতা-মাতাকেই ভালোবাসি বলে না, অন্যরা তো অনেক দুরে। ভালোবাসা বলতেই তারা শুধু প্রেমকেই বোঝে। যার ফলে সমাজ থেকে উঠে যাচ্ছে ভালোবাসার পবিত্রতা। আমরা এখন ভালোবাসতে পারিনা,ভালোবাসতে শিখিনা।কে নেবে এ দায়ভার,কে দেবে এ প্রশ্নের উত্তর?
ছোটবেলায় আমাদের ভালোবাসতে শেখানো হয়না,ভালোবাসার পবিত্রতা বুঝানো হয়না।ফলে মানবিকতা নামক বস্তু দিন দিন বিলোপ হয়ে যাচ্ছে আমাদের মাঝ থেকে। অন্যের দুঃখ আমাদের কাঁদায় না,নির্মমতা আমাদের ভাবায় না। ভালোবাসা পরিণত হয়েছে পার্ক গুলোর ব্যবসায়ীক পণ্যতে। পবিত্রতা রূপান্তরিত হয়েছে নষ্টামিতে।স্বস্তা প্রচারণার জন্য টিভি সিরিয়াল গুলোতে ভালোবাসার নামে দেখানো হয় বিবাহিত হওয়া স্বত্তেও অন্য কাওকে পছন্দ করা, সেখানে অসামাজিক প্রণয়কেই ভালোবাসার একমাত্র পরিমাপকে রূপান্তর করা হচ্ছে।এসব দেখে কি শিখবো আমরা? আমাদের তো নিতী নৈতিকতা, সামাজিকতা কি তা দেখানো হয়না, জানানো হয়না।তাহলে কিভাবে ভালোবাসার অন্তর্নিহিত অর্থ আমরা উপলদ্ধি করবো?আমাদের মাঝে কিভাবে দেশপ্রেম,দেশের প্রতি ভালোবাসা জাগ্রত হবে।আমার জানা মতে,একমাত্র উপলক্ষ ছাড়া কখনোই মূলধারার ভালোবাসা আমাদের প্রচার মাধ্যম প্রচার করেনা। আমরা একদিনের জন্য মাকে ভালোবাসি,একদিনের জন্য বাবাকে,একদিনের জন্য দেশকে অর্থ্যাৎ শুধুমাত্র দিবস গুলোতেই আমাদের মাঝে ভালোবাসা জেগে ওঠে।দিন শেষে আমরা আবার পূর্বের অবস্থাতেই ফিরে যাই।আশানুরুপ কোনো পরিবর্তন আমাদের মাঝে আসেনা।
ছোটবেলা থেকেই আমরা শিখি “আমার সোনার বাংলা,আমি তোমায় ভালোবাসি” কিন্তু কিভাবে ভালোবাসা প্রকাশ তথা এর মর্যাদা ধারণ করতে হবে তা আমরা শিখিনা বা আমাদের শেখানো হয়না।
মেয়েটাকে ভালোবেসে ছেলেটি হাত কেটে মেয়েটির নাম লিখলো,আবার সেই মেয়েটি যখন চলে যায় জীবন থেকে তখন নেশা শুরু করলো,মেয়েটির নামে বাজে কথা প্রচার শুরু করলো।আমাদের ভালোবাসার দৌড় ঠিক এই পর্যন্ত।আমরা ভালোবাসা বুঝতে এইসবই বুঝি।কিন্তু এই ভালোবাসা যে ভালোবাসার সবচেয়ে নিম্ন স্তর আমাদের বোধে তা কুলায় না।
কখনো নিজের পিতা-মাতা কে বলেছেন ভালোবাসি তোমাদের,বা নিজের ভাই-বোনকে?আমরা বেশিরভাগই কখনো বলিনা।কখনো রিক্সা থেকে নেমে চালককে বলেছেন,মামা ভালোবাসি তোমায় বা রাস্তার পাশে বাদাম বিক্রি করা বাচ্চাটাকে?কখনই বলেননি।কারন বলার সময়ই আমার বা আপনার নেই।গড্ডালিকা প্রবাহে ভাসছি আমরা।
আমাদের পারিবারিক,সামাজিক ব্যবস্থাই এ সমস্যার জন্য দায়ী।কিন্তু সমস্যা থেকে উত্তরনের দায় আমাদের সবার।আপনি যদি শত্রুকেও ভালোবাসতে পারেন তবেই আপনি সফল হতে পারবেন।ভেদাভেদ ভুলে আমরা যদি ভালোবাসা ছড়িয়ে দিতে পারি বিশ্বময় একমাত্র তবেই সম্ভব সুখি সমৃদ্ধ বিশ্ব গড়া।
আমরা ভালোবাসতে চাই, ভালোবাসা নিয়ে বাঁচতে চাই।আশা থাকে বলেই মানুষ বেঁচে থাকে।সেই আশা থেকে বলতে চাই ভালোবাসায় আলোকিত হোক এ ভুবন। ভালোবাসার শক্তি ছড়িয়ে পড়ুক সকলের অন্তরে।
বাগেরহাট, ১২-১১-১৮