অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত দুটি পরীক্ষার বদলে একটির পক্ষে মন্ত্রণালয়

নিজস্ব প্রতিবেদক : প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান বলেছেন, সরকারি সিদ্ধান্ত হলে জাতীয় শিক্ষানীতির আলোকে প্রাথমিক পর্যায়ে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত দুটি পরীক্ষার বদলে একটি পরীক্ষা নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, সরকার চেয়েছে পিইসি ও জেএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হোক, সেটাই হচ্ছে। সরকার যদি অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত একটি পাবলিক পরীক্ষা আয়োজন করার সিদ্ধান্ত নেয় তাহলে সেটিই হবে। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এর পক্ষে রয়েছে।

রোববার রাজধানীর বেইলি রোডে ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজে পরীক্ষা কেন্দ্র পরিদর্শন শেষে মন্ত্রী এ কথা বলেন।

মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, সবার সহায়তায় আজ (রোববার)  সকাল থেকে সারা দেশে সুষ্ঠুভাবে সমাপনী ও ইবতেদায়ি পরীক্ষা শুরু হয়েছে। প্রশ্ন ফাঁস বা কোথাও কোনো বিশৃঙ্খলার ঘটনা শোনা যায়নি।

মন্ত্রী বলেন, যাদের পরামর্শ নিয়ে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী-ইবতেদায়ি পরীক্ষা শুরু করা হয়েছিল তারাও বর্তমানে এ পরীক্ষা আয়োজন নিয়ে ভিন্ন মত প্রকাশ করেছেন। সরকারের সিদ্ধান্তে পঞ্চম শ্রেণিতে পাবলিক পরীক্ষা আয়োজন করা হচ্ছে। শিক্ষানীতি-২০১০ বাস্তবায়িত হলে আমাদের কাছে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত বুঝিয়ে দেওয়া হবে। তখন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত দুটি পরীক্ষার বদলে একটি পরীক্ষা নেওয়া হতে পারে। বিষয়টি সরকারি সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।

এদিন সকাল সাড়ে ১০টায় পরীক্ষা শুরু হয়েছে, শেষ হয় দুপুর ১টায়। পরীক্ষা চলবে ২৬ নভেম্বর পর্যন্ত।

এবার প্রাথমিক সমাপনীতে ২৭ লাখ ৭৭ হাজার ২৭০ জন এবং ইবতেদায়িতে ৩ লাখ ১৭ হাজার ৮৫৩ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিচ্ছে। ছাত্রের চেয়ে এবার ছাত্রীর সংখ্যা ২ লাখ ১৯ হাজার ৭৮৬ বেশি। ৭ হাজার ৪১০টি কেন্দ্রে এ পরীক্ষা হচ্ছে। পরীক্ষার দায়িত্ব পালনে ন্যূনতম অবহেলা বা অনিয়মের বিষয়ে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে মন্ত্রণালয়। এবার পরীক্ষায় থাকছে না এমসিকিউ বা বহু নির্বাচনী প্রশ্ন।

পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য ২০০৯ সাল থেকে প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষা শুরু হয়। আর ইবতেদায়িতে এই পরীক্ষা হচ্ছে ২০১০ থেকে। আগে এই পরীক্ষার সময় দুই ঘণ্টা থাকলেও ২০১৩ থেকে পরীক্ষার সময় আধ ঘণ্টা বাড়িয়ে আড়াই ঘণ্টা করা হয়।

প্রথম দুই বছর বিভাগভিত্তিক ফল দেওয়া হলেও ২০১১ থেকে গ্রেডিং পদ্ধতিতে শিক্ষার্থীদের সমাপনীর ফল দেওয়া হচ্ছে।