ফটো সাংবাদিক শান্তর উপর হামালার ঘটনায় ডাঃ সুমন রায়কে অভিযুক্ত করে চার্জশীট

আহত ফটো সাংবাদিক শান্ত
আহত ফটো সাংবাদিক শান্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক

খুলনার ফটো সাংবাদিক শেখ শান্ত ইসলামের উপর সন্ত্রাসী হামলায় মারধোর ও ক্যামেরা ভাংচুরের ঘটনায় খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মেডিক্যাল অফিসার ডাঃ সুমন রায়সহ ৪ জনের নামে আদালতে চার্জশীট প্রদান করা হয়েছে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা খালিশপুর থানার উপ-পরিদর্শক মিঠুন দত্ত গত ১৪ নভেম্বর খুলনা মখ্যু মহানগর হাকিম (সিএমএম) আদালতে এ চার্জশীট (প্রদিবেদন) জমা দিয়েছেন। মামলার অন্যান্য আসামীরা হলেন জংশন রোডের এস,এম পয়েন্ট কেয়ার এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক হান্নান মোল্যা (২৫), জংশন রোডের কড়াই কোম্পানির আবাসিক প্লটের মোঃ ইউসুফের পুত্র মোঃ রাব্বি (২৪), বৈকালী ঝুড়িভিটার মৃত সিরাজুল ইসলামের পুত্র ওয়াহিদুল ইসলাম চাঁন (২৬) ও বাগমার এলাকার ১৩৩/৪ ব্যাংকার্স লেনের হিরন্ময় কৃষ্ণ রায়ের পুত্র খুমেক হাসাপাতেলর মেডিক্যাল অফিসার ডাঃ সুমন রায়। আদলতে পাঠানো প্রতিবেদনে জানাগেছে গত ২৭ জুলাই দৈনিক ভোরের কাগজ ও খুলনা থেকে দৈনিক সংযোগ বাংলাদেশ পত্রিকার ফটো সাংবাদিক শেখ শান্ত ইসলাম খুলনা সিএসডি গোডাউন সংলগ্ন জংশন রোড দিয়ে পেশাগত দায়ীত্ব পালন করার জন্য যাচ্ছিলেন। এ সময় ইউসেফ স্কুলের সামনে এলে ডাঃ সুমন রায়ের ঢাকা মেট্রো-গ-২৮-১৬৮০ নম্বরের প্রাইভেট কারটি এলোমেলো ভাবে চালিয়ে শেখ শান্ত ইসলামের মোটরসাইকেল ধাক্কা মারার চেস্টা করে। ফটো সাংবাদিক শান্ত ইসলাম গাড়ির ভিতরে থাকা ডাঃ সুমন রায়কে এলোমেলো ভাবে গাড়ি চালানো ও ধাক্কা মারার বিষয়টি জিজ্ঞাসা করলে গাড়ি থেকে নেমে শান্ত ইসলামকে মারধোর করা শুরু করে। পাশর্^বর্তি এস,এম পয়েন্ট কেয়ার এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ভিতর থেকে হান্নান মোল্যা, মোঃ রাব্বি ও চাঁন লাঠিসোটা নিয়ে বেরিয়ে এলে ডাঃ সুমন রায়ের নিদের্েেশ সন্ত্রাসীরা শান্তর উপর হামলা করে। তারা প্রত্যেকেই শান্তকে মারধোর করে রক্তাক্ত্য জখম করে। শান্তর ব্যবহারিত ক্যামেরা সড়কে উপর আছাড় দিয়ে ভেঙ্গে ফেলে এবং মোবাইল ফোন ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নিয়ে যায়। ঘটনা স্থল থেকে হান্নান মোল্যাকে পরে রাব্বি ও চাঁনকে গ্রেফতার করে আদলাতে পাঠায় পুলিশ। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মিঠুন দত্ত প্রায় সাড়ে ৩ মাস মামলাটি তদন্ত করে ডাঃ সুমনসহ অন্যান্য আসামীরা ঘটনার সাথে জড়িত তার প্রমান পান। ফলে তিনি আদালতে চার্জশীট প্রদান করেন। তদন্তকারী কর্মকর্তা মিঠন দত্ত জানান, মামলার ৪ জন আসামীর মধ্যে হান্নান মোল্যা, মোঃ রাব্বি ও চাঁন আদালত থেকে জামিন নিয়েছে। আসামী সুমন রায়ের বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট ইস্যু করার জন্য বিজ্ঞ আদালতে আবেদন করেছেন। এ দিকে ফটো সংবাদিক শেখ শান্ত ইসলাম জানান, মামলা প্রত্যাহার করার জন্য ডাঃ সুমন রায় তাকে বিভিন্ন লোকজন দিয়ে হয়রানি করেছে। আদালতে চার্জশীট প্রদান করায় তিনি সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। এ বিষয়ে ডাঃ সুমন রায় জানান, তার সামনে এ ঘটনা ঘটেছে। তিনি অন্যান্য আসামীদের মারধোর করার জন্য নিষেধ করেন। তবে তিনি কাওকে মারধোর করেননি বলে জানান।