রাসমেলা শুরু বুধবার ৮রুট দিয়ে দর্শনার্থী যাবেন দুবলার চরে

নিজস্ব প্রতিবেদক:
প্রতি বছরের ন্যয় এবারও সুন্দরবনের দুবলার চরে ঐতিহ্যবাহী রাস মেলা শুরু হবে বুধবার (২১ নভেম্বর)। শুক্রবার (২৩ নভেম্বর) পূর্ণস্নানের মাধ্যমে তিন দিনব্যাপী এ মেলা শেষ হবে।
রাস পূর্ণিমায় নিরাপদে যাতায়াতের জন্য তীর্থযাত্রীদের জন্য সুন্দরবন বন বিভাগ ৮টি পথ নির্ধারণ করেছে। অনুমোদিত পথগুলো হচ্ছে- ঢাংমারী অথবা চাঁদপাই স্টেশন-পশুর নদী-ত্রিকোনা আইল্যান্ড হয়ে দুবলার চর আলোরকোল। বগী-বলেশ্বর-সুপতি স্টেশন-কচিখালী-শেলারচর হয়ে দুবলার চর আলোরকোল। শরণখোলা স্টেশন-সুপতি স্টেশন-শেলারচর হয়ে দুবলার চর আলোরকোল। বুড়িগোয়ালিনী, কোবাদক থেকে বাটুলা নদী-বল নদী-পাটকোষ্টা খাল হয়ে হংসরাজ নদী হয়ে দুবলার চর আলোরকোল। কদমতলা হতে ইছামতি নদী, দোবেকী হয়ে আড়পাঙ্গাসিয়া, পরে কাগাদোবেকী হয়ে দুবলার চর আলোরকোল। কৈখালী স্টেশন হয়ে মাদার গাং, খোপড়া খারী ভারানী, দোবেকী হয়ে আড়পাঙ্গাসিয়া পরে কাগাদোবেকী হয়ে দুবলার চর আলোরকোল। কয়রা, কাশিয়াবাদ, খাসিটানা, বজবজা হয়ে আড়–য়া শিবসা পরে শিবসা নদী-মরজাত হয়ে দুবলার চর আলোরকোল। নালিয়ান স্টেশন হয়ে শিবসা-মরজাত নদী হয়ে দুবলার চর আলোরকোল।
এ সব পথে বন বিভাগ, পুলিশ, বিজিবি ও কোস্টগার্ড বাহিনীর টহল দল তীর্থযাত্রী ও দর্শনার্থীদের জানমালের নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত থাকবে।
অন্যান্য বছর মেলা শুরুর কয়েকদিন আগে থেকে দর্শনার্থীরা সুন্দরবনে গমন করলেও নিরাপত্তার সার্থে এবছর ২১ নভেম্বর ৬ টা থেকে যেতে পারবে। ২৩ নভেম্বর রাতে ফিরে আসতে হবে সকল দর্শনার্থীদের। প্রবেশের সময় এন্ট্রি পথে নির্দিষ্ট ফি দিতে হবে। যাত্রীরা নির্ধারিত রুটের পছন্দমতো একটিমাত্র পথ ব্যবহারের সুযোগ পাবেন এবং দিনের বেলায় চলাচল করতে পারবেন।
সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মোঃ মাহমুদুল হাসান জানান, সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মোঃ মাহমুদুল হাসান জানান, এবারের রাস মেলায় বাড়তি নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। পুলিশ, নৌ-পুলিশ, কোস্টগার্ড, বনিবিভাগ, রাস কমিটির সাথে জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমান ম্যাজিষ্ট্রেটও থাকবে।
তিনি আরও বলেন রাস মেলায় আগত দর্শকরা বনবিভাগের চেকিং পয়েন্ট ছাড়া অন্য কোথাও নৌকা, লঞ্চ বা ট্রলার থামাতে পারবে না। প্রতিটি ট্রলারের গায়ে রং দিয়ে বিএলসি অথবা সিরিয়াল নম্বর লিখতে হবে। রাস পূর্ণিমায় আগত পুণ্যার্থীদের সুন্দরবনে প্রবেশের সময় জাতীয় পরিচয়পত্র অথবা ইউপি চেয়ারম্যানের কাছ থেকে প্রাপ্ত সনদপত্র সঙ্গে রাখতে হবে। পরিবেশ দূষণ করে এমন বস্তু, মাইক বাজানো, পটকা ও বাজি ফোটানো, বিস্ফোরক দ্রব্য, দেশীয় যে কোনো অস্ত্র এবং আগ্নেয়াস্ত্র বহন থেকে যাত্রীদের বিরত থাকতে হবে। সুন্দরবনের অভ্যন্তরে অবস্থানকালীন সবসময় টোকেন ও টিকিট নিজের সঙ্গে রাখতে হবে।