বাগেরহাটে স্ত্রী হত্যার অভিযোগে বিজিবি সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক:
বাগেরহাটে নিজ স্ত্রী রিক্তা বেগমকে যৌতুকের দাবিতে নির্যাতন করে মুখে বিষ ঢেলে হত্যার অভিযোগে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের সদস্য সরদার গিয়াস উদ্দিনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। সোমবার দুপুরে রিক্তার পিতা শেখ দেলোয়ার হোসেন বাদী হয়ে ৪ জনকে আসামী করে বাগেরহাট নারী ও শিশু নির্যাতন দমন বিশেষ ট্রাইব্যুনাল আদালতে মামলা দায়ের করেন। আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে সংশ্লিষ্ট ফকিরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নথিভুক্ত করতে নির্দেশ দিয়েছেন।
আসামীরা হলেন, জেলার ফকিরহাট উপজেলার বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের বাবুল সরদারের ছেলে সরদার গিয়াস উদ্দিন, গিয়াসের মাতা হাসিনা বেগম, দাউদ সরদারের ছেলে আব্দুল্লাহ সরদার ও একই উপজেলার গোয়ালখালী গ্রামের ইয়াকুবের ছেলে আছলাম শেখ।
মামলার বিবরণে উল্লেখ করা হয়, ২০১৭ সালে ফকিরহাট উপজেলার কাকডাংগা গ্রামের দেলোয়ার হোসেনের মেয়ে রিক্তার সাথে বিজিবি সদস্য সরদার গিয়াস উদ্দিনের বিয়ে হয়। বিয়ের সময় গিয়াসকে সোনাদানাসহ ২ লক্ষ টাকার প্রয়োজনীয় মালামাল দেন রিক্তার বাবা। তারপরও বিয়ের পর থেকে বিভিন্ন ভাবে যৌতুকের দাবিতে রিক্তার উপর নির্যাতন চালাতো গিয়াস ও তার আত্মীয় স্বজনরা। এর ধারাবাহিকতায় ১৭ নভেম্বর রাতে মাদকাসক্ত হয়ে বাড়ি ফিরে গিয়াস রিক্তাকে মারধর করে। আছলাম শেখ রিক্তাকে মাটিতে ফেলে দেয়। পরে গলা চেপে ধরে রিক্তার মুখে বিষ ঢেলে দেয় গিয়াস উদ্দিন। রিক্তার পরিবারের লোকেরা খবর পেয়ে রিক্তাকে প্রথমে ফকিরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে, পরে খুলনা নার্গিস মেমোরিয়াল ক্লিনিকে, খুলনা মেডিকেল কলেজে এবং গাজী মেডিকেলে চিকিৎসা করান। তার অবস্থার আরও অবনতি হলে, উন্নত চিকিৎসার জন্য ২০ নভেম্বর রাতে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দিলে যাওয়ার পথে রিক্তা মারা যায়। পরে ফকিরহাট থানায় সুরতহাল শেষে বাগেরহাট সদর হাসপাতালে ময়নাতদন্ত সম্পূর্ন হয় রিক্তার।
রিক্তার বাবা দেলোয়ার হোসেন বলেন, আমার মেয়েকে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে। আমি ন্যায় বিচারের দাবিতে আদালতে মামলা দায়ের করেছি।