বাগেরহাট-০৩ আসনের বিএনপি’র প্রার্থী লায়ন ফরিদ ‘মানবতার ফেরিওয়ালা

নিজস্ব প্রতিবেদক:
নানা ধর্ম-গোত্রসহ সর্বস্তরের সাধারণ মানুষের বিভিন্ন রোগ-ব্যাধী বিশেষ করে অন্ধ-প্রতিবন্ধীদের চোখের চিকিৎসা, অসহায় নারী-পুরুষকে স্বাবলম্বী, লেখা-পড়ার খরচ, বিয়ে, ঈদ, পূজা ও পার্বনে সহযোগিতা রয়েছে লায়ন ফরিদের। আর্থিক সহযোগীতা ছাড়াও মামলা-মকদ্দমায় জড়িয়ে হয়রানীর শিকার দলীয় নেতা-কর্মীদের আইনী সহায়তার ব্যবস্থা করেছেন তিনি। একারনেই এলাকার মানুষের কাছে মোংলা-রামপালের ‘মানবতার ফেরিওয়ালা’।
বাগেরহাট-০৩ আসনে বিএনপি’র প্রার্থী লায়ন ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম সম্পর্কে জানতে চাইলে রামপাল উপজেলার গিলাতলার বাসিন্দা তারাপদ, কানন মিস্ত্রি, শেখ মোঃ আব্দুল্লাহ ও খাঁন আলী আজমনসহ একাধিক ব্যক্তি বলেন, তিনি (ড. ফরিদ) যদি এ এলাকার এমপি হন তাহলে দু:স্থ অসহায় গরীর মানুষের আর দুঃখ থাকবে না। কারণ হিন্দু, মুসলমান বা অন্য যে কোন সম্প্রদায়ের মানুষ বিপদে-আপদে পড়ে তার (ফরিদের) কাছে গেলে তিনি কেউকেই ফিরিয়ে দেন না, সাহায্য করেন, কোন দল মতের তা দেখেন না তিনি। এমন মানুষ এ এলাকার উন্নয়নে প্রয়োজন আছে বলেও জানান তারা। এছাড়া মোংলা পৌর শহরের জয়বাংলা এলাকার ভ্যান চালক মো: মিন্টু বলেন, বিনামূল্যে তার বাবার চোখের চিকিৎসা করিয়ে লায়ন ফরিদ যে মানবতা দেখিয়েছেন, তা অমূল্য। বাবাকে নিয়ে তার কাছে যাওয়া মাত্রই তিনি চিকিৎসার সকল ব্যবস্থা করে দিয়েছেন।
রামপাল উপজেলার প্রাক্তন চেয়ারম্যান আব্দুল ওহাব বলেন, এ আসনে বিগত দিনে জোটগতভাবে জামায়াতকে প্রার্থী করা হলে আ’লীগের প্রার্থীর কাছে বার বার পরাজিত হন। এর বড় কারণ হলো সংখ্যালঘু (হিন্দু-বৌদ্ধ- খ্রীষ্টান) সম্প্রদায়ের ভোটাররা। এখানকার ৬০ থেকে ৬৫ হাজার সংখ্যালঘু ভোটার কখনও জামায়াত প্রার্থীকে ভোট দেন না, ফলে একটি ভোটও জামায়াত প্রার্থী পান না। এবার যেহেতু বিএনপি থেকে এই প্রথম লায়ন ফরিদকে ধানের শীষের মনোনয়ন দেয়া হয়েছে সেহেতু তিনিই বিএনপির প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করলে সংখ্যালঘুদের প্রায় অর্ধেকের বেশি ভোট পাবেন। মোংলা উপজেলার বুড়িরডাঙ্গা ইউনিয়ন বিএনপি’র সভাপতি অধ্যাপক নিতিশ বিশ্বাসও বলেন, হিন্দুসহ সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের লোকজন কখনও জামায়াত প্রার্থীকে ভোট দেন না, পছন্দ করেন না এবং কোনভাবেই জামায়াত প্রার্থীকে ভোট দিতে আগ্রহীও নয়। তাই এ আসনে বিএনপি প্রার্থী লায়ন ফরিদ মাঠে থাকলেই এ ভোটারদের বিশাল একটা অংশ তার পক্ষেই যাবে বলে আমি বিশ্বাস করি।
বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার বাঁশতলী ইউনিয়নের বড়দিয়া গ্রামের বাসিন্দা লায়ন ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম দীর্ঘ ১২ বছর ধরে নিজ উদ্যোগে ব্যতিক্রম সেবার মধ্যদিয়ে মোংলা-রামপালের প্রায় ৫০ হাজারেরও বেশি দরিদ্র মানুষকে বিনামূল্যে চোখের চিকিৎসা (অপারেশন) করিয়ে দিয়ে সাড়া ফেলেছেন। সাবেক ছাত্রনেতা ড. ফরিদ মোংলা ও রামপালের বিভিন্ন স্কুল-কলেজ, মসজিদ-মাদ্রাসা, মন্দিরে আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি গরীব মানুষদের রিক্সা-ভ্যান, নৌকা, জাল, সেলাই মেশিন দিয়ে আত্মনির্ভরশীল হতে সহায়তা করছেন। নিয়মিত শিক্ষা বৃত্তি প্রদাণ, দরিদ্র ছাত্র-ছাত্রীদের পরীক্ষার ফিস, বই কেনা, গরীব শিক্ষার্থীদের স্কুল ব্যাগ প্রদাণ, কয়েক হাজার শিক্ষার্থীকে স্কুল ড্রেস দিয়ে বিদ্যালয়ে যেতে উৎসাহিত করেছেন। সে কারণেই এ এলাকার হত দরিদ্ররাই তাদের পূঞ্জবিত ভালবাসার প্রতিদানের মূল্য দিতে লায়ন ফরিদকে ভোট দিতে চান।
অপরদিকে সুন্দরবনের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে রামপাল কয়লা ভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের বিরুদ্ধে জাতীয় ও আর্ন্তজাতিক পর্যায়ে জনমত গঠনে ২০১১ সাল থেকে কাজ করে যাচ্ছেন। সুন্দরবনের মধ্যে জাহাজ ডুবি, বিষ প্রয়োগ করে মাছ শিকার, বৃক্ষ নিধনসহ বিভিন্ন অপকর্ম বন্ধে সচেতনতা তৈরি করতে তার নিজস্ব সংগঠন ‘সেভ দ্যা সুন্দরবন ফাউন্ডেশন’ স্বোচ্ছার ভূমিকা পালন করে চলেছে।
ফরিদুল ইসলাম বলেন, মোংলা-রামপালের মানুষের ইচ্ছায় এবারের নির্বাচনে অংশ নিতেই দলীয় মনোনয়ন দিয়েছে। এলাকার মানুষের ভালবাসার অনুরোধে আমাকে নির্বাচনে অংশ নিতে বলেছেন। তিনি আরো বলেন, নির্বাচিত হতে পারলে কোন বিশেষ গোষ্ঠী নয়, সকল মানুষের প্রতিনিধিত্ব করতে চাই। রাজনীতির নামে অবৈধ দখল ও অনৈতিক কর্মকান্ড বন্ধ করে মানুষের মৌলিক অধিকার ফিরিয়ে দিতে চাই। এছাড়া মোংলা সমুদ্র বন্দর, খান জাহান আলী বিমান বন্দর, ইপিজেড ও সুন্দরবন কেন্দ্রিক ইকো-ট্যুরিজমের মাধ্যমে এই এলাকার উন্নয়নে কাজ করার ভাল সুযোগ রয়েছে। এই সব প্রকল্প নিয়ে কাজ করলে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান ও বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব, যা দেশের আর্থিক উন্নয়নসহ সার্বিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।