ভিকারুননিসার শ্রেণিশিক্ষক হাসনা হেনা গ্রেপ্তার

ভিকারুননিসা নূন স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থী অরিত্রি অধিকারীর আত্মহত্যার মামলায় তার শ্রেণিশিক্ষক হাসনা হেনাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মহানগর পুলিশের মুখপাত্র মাসুদুর রহমান জানিয়েছেন বুধবার রাত ১১টার দিকে উত্তরা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় । আত্মহত্যা ঘটনায় প্ররোচনা দেয়ার অভিযোগ এনে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ, শাখা প্রধান এবং শ্রেণিশিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে পল্টন থানায় মামলা করেন অরিত্রি অধিকারীর বাবা দিলীপ অধিকারী। সেই মামলায় শিক্ষক হাসনা হেনাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। পুলিশের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মামলায় অভিযোগ আনা অপর দুই শিক্ষককে খোঁজা হচ্ছে।

এর আগে বুধবার বিকালে ভিকারুননিসা নূন স্কুলের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সহ তিনজন শিক্ষককে বরখাস্ত করা হয়েছে। এর আগে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি তদন্ত কমিটি এই তিন শিক্ষককে বরখাস্তের সুপারিশ করেছিল। স্কুলের নবম শ্রেণীর এক ছাত্রী অরিত্রি অধিকারীর আত্মহত্যার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছিল স্কুলের ছাত্রী এবং অভিভাবকদের মধ্যে। তাদের অভিযোগ ছিল, এই ছাত্রী এবং তার বাবা-মা’র সঙ্গে যে ধরণের আচরণ করা হয়েছিল, তাতেই অপমানিত হয়ে অরিত্রি অধিকারী আত্মহত্যা করে। স্কুল কর্তৃপক্ষ বলেছিল, পরীক্ষার হলে মোবাইল ফোন নিয়ে এসে নকলের চেষ্টা করায় অরিত্রির বিরুদ্ধে শাস্তিমুলক ব্যবস্থা নেয়া হয়। কিন্তু এই আত্মহত্যার ঘটনার পর বাংলাদেশে এখন তীব্র সমালোচনা এবং তর্ক-বিতর্ক চলছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে শিক্ষকরা যে ধরণের আচরণ করে তা নিয়ে।

অভিভাবক এবং শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ভিকারুননিসা নুন স্কুলের ঘটনার তদন্তে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। এই কমিটি স্কুলের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নাজনীন ফেরদৌস, প্রভাতী শাখার ইনচার্জ জিনাত আক্তার এবং শ্রেণী শিক্ষক হাসনা হেনাকে বরখাস্তের সুপারিশ করে। শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের বরাত দিয়ে এক সরকারি তথ্য বিবরণীতে বলা হচ্ছে, তদন্ত কমিটির রিপোর্টে দোষীদের চিহ্ণিত করা হয়েছে। এতে ভিকারুননিসা নুন স্কুলের নানা অনিয়ম-অসঙ্গতি বেরিয়ে এসেছে।

শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেছেন, অরিত্রি অধিকারীর সঙ্গে যে ধরণের নির্দয় আচরণ করা হয় সেটি তাকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে এবং আত্মহত্যায় প্ররোচিত করে বলে তদন্ত কমিটির মনে হয়েছে। এর দায় এই তিনজন শিক্ষক এড়াতে পারে না। স্কুলের পরিচালনা কমিটিকে এই তিন শিক্ষককে বরখাস্তের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এছাড়া এই তিন শিক্ষকের বেতনের সরকারি অংশ (এমপিও) বাতিলেরও নির্দেশ দেয়া হয়েছে।