ফকিরহাটের গুড়গুরিয়া স্লুইচ গেটের কপাট নেই, ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্থ ইরি চাষীদের বীজ তলা

মো: সোহরাব হোসেন রতন:
ফকিরহাট উপজেলার ডোঙ্গার খালের স্লুইচ গেটটি,র ৫টি রেগুলেটর (কপাট) তার একটি ও নেই। স্থানী ইরি চাষীদের বীজ তলা নষ্ট হচ্ছে জোয়ারের পানীতে। কতৃপক্ষের নেই কোন তদারকি, না আছে নজর দারী। উপজেলার মুলঘর ইউনিয়নের এই স্লুইচ গেটটি দীর্ঘ দিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে গরীব কৃষকরা। গেটের পাচঁটি রেগুলেটর (কপাট) তার একটিও না থাকায় সাধারন জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হচ্ছে আশপাশের ফসলি জমি। ফলে এই এলাকায় ইরি মৌসুমে চাষীদের ইরি বীজতলা তৈরী করা একেবারেই অসম্ভব হয়ে পড়ছে। যার ফলে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে স্থানীয় ইরি কৃষকেরা। এ এলাকার মানুষেরা চিংড়ি চাষের পাশাপাশি ব্যাপকভাবে ধান চাষের উপর নির্ভরশীল। বর্তমানে বিশ^ বাজারে চিংড়ি বাজার মন্দাহওয়ার কারনে চিংড়ি চাষিরা ধ্বংসের পথে। ফলে এখানকার মানুষ ধান চাষের উপর ঝুকে পড়েছে। বেড়েছে রোপা আমনসহ ইরিও বোর ধানের আবাদ। আর একারনে ডোঙ্গার খালের স্লুইচ গেটের নিয়ন্ত্রন খুবই জরুরী। অথচ গেটটি নির্মানের পর থেকে পাউবো এপর্যন্ত্য একবারের জন্য ও ফিরে দেখে নাই। এলাকাবাসির অভিযোগ রয়েছে, কর্তৃপক্ষের তদারকির অভাবে মরিচা পড়ে নস্ট হয়ে গেছে সুইচ গেটের মুখসহ পানি ওঠা-নামার দরজাগুলো। চলতি মৌসুমে কৃষকের পানির প্রয়োজন না হওয়া সত্বেও এই দরজা গুলো দিয়ে জোয়ারের পানি এসে ফসলি জমি ডুবিয়ে দিয়ে যাচ্ছে। যার ফলে কৃষকেরা ধানের চারা বপন করতে পারছে না। ফলে কেড়ে নিচ্ছে কৃষকের চোখের ঘুম। বন্যা ও জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য নির্মিত এই সুইচ গেট এখন কৃষকের গলার কাঁটায় পরিণত হয়েছে। এই খালে বছরের অধিকাংশ সময় কচুরিপানা দিয়ে ভরা থাকে। এই কচুরিপানার কারনে এখানে পানি নিষ্কাশনেরও ব্যাপক সমস্যা হয় বলে এলাকাবাসি জানায়। এ বিষয়ে ৭নং মূলঘর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান এ্যাডঃ হিটলার গোলদার জানান, কপাট দরজা গুলো সংস্কার করার দ্বায়িত্ব পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষের লোকদের। বর্তমানে গেটের কপাট না থাকাসহ বিভিন্ন ধরনের সমস্যা কর্তপক্ষকে জানালে তারা ঠিক করতে আসবো আসবো বলে কিন্তু এই গেট মেরামতের কাজে তারা আসে না। তিনি আরো বলেন, স্থানীয় চাষীরা বিষয়টি তাকে জানিয়েছে কিন্তু এই সুইচগেটটির মেরামতের অভিজ্ঞতা স্থানীয়দের না থাকায় এর সমস্যা সমাধান করা যাচ্ছে না। যার ফলে এলাকার কৃষকেরা খুবই বিপাকে পড়েছে। এ বিষয়ে ফকিরহাট উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা মোসাঃ শাহনাজ পারভীনের সাথে কথা হলে তিনি জানান, সংশ্লিষ্ট যথাযথ কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হয়েছে এবং স্থানীয় জনসাধারন যাতে আর ক্ষতিগ্রস্থ না হয় তার জন্য দ্রুত আবারো প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন বলে এলাকাবাসিকে তিনি আশ্বস্থ করেছেন।