খানজাহান আলী  (রহঃ) মাজারে দুইদিন ব্যাপি ওরশ

মো: শহিদুল ইসলাম: বাগেরহাট খানজাহান আলী (রহঃ)র মাজারে দুই দিন ব্যাপি বাৎসরিক ওরস শুরু হয়েছে। ২৪ অগ্রহায়ন শনিবার (৮ ডিসেম্বর) ফরজরের নামাজের পর আনুষ্ঠানিকভাবে ওরশ মোবারক শুরু হয়। যদিও আগেরদিন শুক্রবার (৭ডিসেম্বর) জুমআর নামাজের পর থেকে ভক্ত ও দর্শনার্থীদের ভীড়ে কানায় কানায় পূর্ণ হেয় মাজার প্রাঙ্গন। ২৫ অগ্রহায়ন রবিবার (৯ডিসেম্বর) রাতে এ ওরশ শরীফ শেষ হবে।

ওরশ উপলক্ষে হাজার হাজার ভক্ত ও দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখরিত এখন মাজার প্রাঙ্গন। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব শ্রেণির হাজার হাজার মানুষ আসেন এ ওরশ শরীফে। মাজার কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে তাদের জন্য কোন প্রকার থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা নেই। তারপরও সকলে খুশি এখানে এসে।কেউ পাটি লেছে, কেউ ছালা বিছিয়ে, কেউ কাথা বিছিয়ে যে যার মত করে থাকছে। অনেক আবার দুই দিনে খাবার নিয়ে এসেছেন এখানে।কেউ কেউ আবার মাজারে নিজেদের ব্যবস্থাপনায় রান্না করে খায়। প্রত্যেকে নিজ নিজ ধর্মমতে আরাধনা করছেন সৃষ্টিকর্তার।তবে মুসলিম সম্প্রদায়ের দর্শনার্থীরা সংখ্যাই বেশি।

মাজারে আগত দর্শনার্থী মামুন আহমেদ জানান, বন্ধু-বান্ধব নিয়ে প্রতিবছরই মাজারে ওরশ শরীফে আসি। এখঅনে এসে খুব ভাল লাগে।

কুষ্টিয়া থেকে আগত লালন একাডেমীর সদস্য ফকির শহিদুল ইসলাম বলেন, আমি লালনের ভক্ত। দেশ এবং দেশের বাহিরের সকল মাজারে আমার পদচারণা আচে। আমি বাবা খান জাহান আলী (রহঃ) এর মাজারের ওরশ শরীফে নিয়মিত আসি। এখানে আদ্ধাতিক গান করি। দুইদিন থেকে আবার চলে যাই।

দর্শক রুস্তম আলী বলেন, এখানে এসে আল্লাহ-র সন্তুষ্টির জন্য জিকির আজগর করি। এখানে আসলে মনটা ভাল হয়ে যায়। এখানে সব ধর্মের ও বর্ণের  দর্শনার্থীরা আসেন।

বাগেরহাট মাজারের প্রধান খাদেম ফকির শের আলী বলেন, প্রায় সারে ৫‘শ বছর ধরে বাগেরহাটের খানজাহান আলী মাজারে বাৎস্যরিক ওরশ মোবারক পালিত হয়। এ দুই দিনে লক্ষ লক্ষ ভক্ত ও দর্শনার্থীরা এখানে ভীড় জমায় সৃষ্টি কর্তার সন্তুষ্টির জন্য। শুরু হওয়ার আগের দিনই বিভিন্ন জেলা থেকে দর্শনার্থী ও ভক্তবৃন্দের সমাগম হয়। শনিবার সকালে ফজরের নামাজের পর থেকেই এ ওরশের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। আসা করি এবার বিগত বছরের তুলনায় দর্শক ও ভক্ত অনেক বেশি আসবে।