ভোট দিতে পেরে খুশি বাগেরহাটের ভোটাররা

মোঃ শহিদুল ইসলাম:
দীর্ঘ দশ বছর পর ভোট দিতে পেরে খুশি বাগেরহাটের ভোটাররা। ২০১৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জেলার ৪টি আসনের ৩টি আসনেই বিনা প্রতিদ্বন্দীতায় আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা নির্বাচিত হয়। যার ফলে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগ থেকে বঞ্চিত হয় বাগেরহাটের ভোটাররা। শুধুমাত্র বাগেরহাটের ৪(মোরেলগঞ্জ-শরণখোলা) আসনে নামেমাত্র নির্বাচন হয়েছিল। সেখানে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ডা. মোজাম্মেল হোসেনের সাথে প্রতিদ্বন্দীতা করেছিল আওয়ামী লীগ নেতা মনিরুল হক তালুকদার। যার ফলে সাধারণ ভোটাররা বঞ্চিত হয়েছিল ভোট প্রদান থেকে।
দীর্ঘ দশ বছর পরে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জেলার ৪টি আসনেই ভোট প্রদান করতে পেরে খুশি বাগেরহাটের সর্বস্তরের ভোটাররা।
রবিবার (৩০ ডিসেম্বর) সকাল থেকে জেলার বিভিন্ন কেন্দ্রে ঘুরে ভোটারদের সতস্ফুর্ত ভীড় লক্ষ করা যায়। প্রতিটি কেন্দ্রেই নারী-পুরুষের পাশাপাশি তরুণ ভোটারও ছিল চোখে পড়ার মত। সকাল থেকে আবহাওয়া ভাল থাকায় ভোটাররা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই ভোট কেন্দ্রে এসে তাদের ভোটাধিকার প্রদান করেছেন।
জেলার কচুয়া উপজেলার নরেন্দ্রপুর কেন্দ্রের হাকিম শেখ বলেন, ২০০৬ সালে প্রথম ভোটার হয়েছে। কয়েকবার ভোট বিভিন্ন নির্বাচনে ভোট প্রদান করলেও সংসদ নির্বাচনে ভোট দিতে পারি নাই। দীর্ঘদিন পরে এবার ভোট দিতে পেরে খুব ভাল লাগছে।
দুপুরে বাগেরহাট শহরের যদুনাথ ইনস্টিটিউট ভোট কেন্দ্রের সামনে কথা হয় তরুণ ভোটার হাসানুজ্জামানের সাথে। হাসান বলেন, জীবনের প্রথমবার ভোট দিয়েছি। নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পেরে আমার খুব ভাল লাগছে।
চিতলমারী উপজেলা সদরের মডেল টেস্ট বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্র থেকে ভোট প্রদান করে বের হলেন তরুনী শায়লা। শায়লা বলেন, জীবনের প্রথম ভোট দেয়ার সময় সবাই একটু এক্সাইটেড থাকেন। সকাল থেকে আমিও বেশ এক্সাইটেড ছিলাম। লাইনে দাড়িয়ে থেকে শেষ পর্যন্ত ভোট দিতে পেরে আনন্দ বোধ করছি।
বারইপাড়া ইউনিয়নের কাটাখালী গ্রামের বৃদ্ধ আলী আশরাফ বলেন, অনেক দিন যাবৎ ভোট দিতে পারিনা। এবার ভোট দেয়ার সুযোগ আছে, তাই অনেক কষ্ট করে বাড়ি থেকে ভোট কেন্দ্র পর্যন্ত এসেছি। ভোট কক্ষের সামনে থাকা আনসার সদস্যদের সহযোগিতায় ভোট কেন্দ্রের ভিতরে যেতে পেরেছি। সেখানে কোন প্রকার ঝামেলা ছাড়া ভোট দিয়েছি। এবার ভোট দিতে এসে আমার খুব ভাল লেগেছে।
মুক্তিযোদ্ধা শওকত আলী বলেন, দেশের উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে এবার নির্বাচনে স্বাধীনতার পক্ষের শক্তিকে আমরা ভোট দিয়েছি। আশা করি স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি রাষ্ট্র ক্ষমতায় যাবে। আমাদের দুই আসন থেকে তরুণ প্রার্থী শেখ তন্ময় বিপুল ভোটে বিজয়ী হবে আশা করছি।
বাগেরহাট জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা তপন কুমার বিশ্বাস বলেন, বাগেরহাট জেলার ৪টি আসনে শান্তিপূর্ন ভাবে ভোট গ্রহন সম্পূর্ন হয়েছে। কোথাও কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। সকাল থেকেই উৎসব মুখর পরিবেশে জেলার ৪‘শ ৬৮ কেন্দ্রে ভোটাররা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। নির্বাচন পরবর্তি সময়ে জেলার আইন শৃক্সখলা পরিস্থিতি ¯স্বাভাবিক রাখতে সব ধরণের ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়েছে বলে জানান তিনি।