ব্যারিস্টার জাকিরের মহানুভবতায় স্থায়ী শহীদ মিনার পেল শিক্ষার্থীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক
ভাষা আন্দোলনের ৬৮ বছর পরে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে ব্যারিস্টার জাকিরের মহানুভবতায় কনক্রিটের তৈরি স্থায়ী শহীদ মিনার পেল কেজেএসপিইউ (রাজাপুর) স্কুল এ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী। বাংলাদেশ স্বাধীনের দুই বছর আগে ১৯৬৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় বিদ্যালয়টি। প্রতিষ্ঠার পর থেকে অদ্যাবদি কোন শহীদ মিনার ছিল না এখানে। ভাষার মাসে কখনও কলা গাছ, কখনও কাঠ, কখনও লাঠির সাথে খড়-কুটো পেচিয়ে শহীদদের প্রতি নিজেদের শ্রদ্ধা জানাতেন বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী।
২০১৮ সালের বিদ্যালয়ের এক অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের আবেদনের প্রেক্ষিতে বাগেরহাট ডেভেলপমেন্ট সোসাইটির চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার শেখ মোহাম্মাদ জাকির হোসেন এখাকে একটি শহীদ মিনার করে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। আশায় বুক বাধনে শিক্ষার্থীরা। সেই অনুযায়ী নিজ অর্থায়নে এবছর কনক্রিটের তৈরি শহীদ মিনার তৈরি করে দেন তিনি।
শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীকে সাথে নিয়ে বৃহস্পতিবার সকালে সদর উপজেলার মগরাবাজার সংলগ্ন বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে নবনির্মিত শহীদ মিনারের উদ্বোধন করেণ ব্যারিস্টার শেখ মোহাম্মাদ জাকির হোসেন। এর আগে বিদ্যালয় প্রাঙ্গন থেকে শহীদদের স্মরণে একটি শোক র্যালী বের হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিন করে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এসে শেষ হয়। পরে শহীদদের স্মরণের আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কালি প্রসাদ দেব নাথের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য দেন, সুপ্রিম কোর্টের এ্যাডভোকেট ব্যারিস্টার মনিরুজ্জামন, ব্যারিস্টার মাসুদ হোসেন দোলন, ব্যারিস্টার শেখ মোহাম্মাদ জাকির হোসেন, প্রফেসর আছাদুজ্জামান, শিক্ষক মোল্লা আকরাম হোসেন, আজাহার আলী, সুদিপ কুমার দাসসহ আরও অনেকে।
বিদ্যালয়ের ৭ম শ্রেণির শিক্ষার্থী সোহেল মাহমুদ রুহিন বলেন, আমাদের স্কুলে কোন শহীদ মিনার ছিলনা। অনেক সুন্দর স্থায়ী এ শহীদ মিনার পেয়ে আমাদের খুব ভাল লাগছে। প্রতিবছর আমরা এ শহীদ মিনারে শহীদদের শ্যদ্ধা জানাতে পারব।
৭ম শ্রেণির আরেক শিক্ষার্থী রাফিয়া নওশীন নিমু প্রতি বছর মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে কলা গাছ, কাঠ, বাস ও খরকুটো দিয়ে শহীদ মিনার তৈরি করে শ্রদ্ধা জানাতাম। স্থাীয় ও নতুন এ শহীদ মিনারে ফুল দিতে পেরে আমরা খুব খুশি। আমরা শহীদ মিনারের পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা ও রক্ষনাবেক্ষনের জন্য কাজ করব। বাহাদুর জামান বাধন, আল আমিন, মিতু, সানজিদাসহ আরও অনেক শিক্ষার্থী একই ধরণের অীভব্যক্তি প্রকাশ করেছেন।
প্রধান শিক্ষক কালি প্রসাদ দেব নাথ বলেন, বিদ্যালয়ের অনেক সীমাবদ্ধতার কারণে এতদিনে আমরা স্থায়ী কোন শহীদ মিনার তৈরি করতে পারিনি। এবছর স্থায়ী শহীদ মিনার নির্মান হওয়ায় বিদ্যালয়ের মর্যাদা অনেকাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে।
বাগেরহাট ডেভেলপমেন্ট সোসাইটির চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার শেখ মোহাম্মাদ জাকির হোসেন বলেন, এটি আমার গ্রামের বিদ্যালয়। বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সুবিধা ও শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের ক্ষুদ্র প্রয়াস হিসেবে আমি এটি করেছি। আমি চাই দেশের সকল বিদ্যালয়ে স্থায়ী শহীদ মিনার তৈরি হোক।