বিদ্যুতের স্মার্ট প্রি-পেইড মিটারের সুবিধার আওতায় আসছে বাগেরহাট পৌর এলাকা

বাগেরহাট পৌর এলাকার গ্রাহকরা বিদ্যুতের স্মার্ট প্রি-পেইড মিটারের আওতায় আসছেন। বিদ্যুৎ বিভাগ শহরের এক ও দুই ফিডারের (সোর্স লাইন) গ্রাহকদের পুরাতন মিটার পরিবর্তন করে নুতন প্রি-পেইড মিটার সংযোগ দেয়া শুরু করেছে। কোন প্রকার ঝুট-ঝামেলা, আবেদন ও ফি ছাড়াই গ্রাহকরা স্মার্ট মিটার ব্যবহারের সুবিধা পাচ্ছেন। যার ফলে লাইনে দাড়িয়ে সনাতন পদ্ধতিতে বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ ও মাসিক এক কালীন টাকা প্রদানের মত বিড়ম্বনা থেকে মুক্তি পাচ্ছেন গ্রাহকরা। গ্রাহকরা ঘরে বসে নিজ মোবাইলের মাধ্যমে রিচার্জ করেই বিদ্যুৎ ব্যবহার করতে পারবেন স্মার্ট প্রি-পেমেন্ট মিটারে। তেমনি সরকারও সঠিক সময়ে রাজস্ব পাবেন।

ওয়েস্টজোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ওজোপাডিকো)-এর “স্মার্ট প্রি-পেমেন্ট মিটারিং” প্রকল্পের আওতায় বাগেরহাট পৌরসভার ১৫ হাজার ১৭ জন গ্রাহক পর্যায়ক্রমে প্রি-পেইড মিটারের সুবিধা পাবেন। ১লা মার্চ থেকে শুরু হওয়া প্রথম ধাপে ৭ হাজার ৫‘শ ৪০ জনকে মিটার সংযোগ দেয়া হবে। ইতোমধ্যে ৩ হাজার ১‘শ ৭৫ জন গ্রাহককে প্রি-পেইড মিটার সংযোগ দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ওজোপাডিকো, বাগেরহাটের শীর্ষ কর্মকর্তা।
সম্প্রতি প্রি-পেইড মিটার পাওয়া গ্রাহক মিরাজুল ইসলাম বলেন, আগে মিটার রিডিং নিয়ে বেশ ঝামেলায় পড়তে হত। কোন কোন মাসে সাধারণের চেয়ে বেশি বিল হত। এখন প্রি-পেইড মিটার হওয়ায়, মোবাইল রিচার্জের মত ব্যবহার করতে পারছি। ভাড়াটিয়াদের মিটার প্রে-পেইড কার্ড প্রদান করেছি, তারা যতটুকু ব্যবহার করবেন ততটুকু রিচার্জ করবেন। এক্ষেত্রে আমাদের অনেক সুবিধা হয়েছে।
সরুই এলাকার ভাড়াটিয়া লাইলি বেগম বলেন, প্রতিমাসে বিদ্যুৎ বিল নিয়ে মালিকদের কারণে আতঙ্কের মধ্যে থাকতাম। প্রি-পেইড মিটার সংযোগের পর স্মার্ট কার্ড হাতে পেয়েছি। তাই নিজের ইচ্ছামত ঘরে বসে মোবাইল রিচার্জের মাধ্যমে বিদ্যুৎ ব্যবহার করছি, যা আগে কখনও ভাবতে পারিনি।
বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ, ওজোপাডিকো, বাগেরহাটের নির্বাহী প্রকৌশলী পলাশ কুমার ঘোষ বলেন, সকল গ্রাহকদেরকে প্রি-পেইড মিটারের আওতায় আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে ৭ হাজার ৫‘শ ৪০টি মিটার বরাদ্দ পেয়েছি। পর্যায়ক্রমে আরও বরাদ্দ পাওয়ার প্রক্রিয়া রয়েছে। বিদ্যুৎ বিভাগকে আধুনিকায়নের জন্য সরকার এ উদ্যোগ নিয়েছে। যার মধ্য দিয়ে গ্রাহক ও বিদ্যুৎ বিভাগের মধ্যে সুসম্পর্ক বজায় থাকবে। এমিটার ব্যবহারে গ্রাহকদের বিল দেয়ার ঝামেলা থাকবে না। মিটারটি এমনভাবে তৈরি যাতে বাড়িতে বা প্রতিষ্ঠানে সর্ট সার্কিট হলে সংশ্লিষ্ট মিটারে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে।
তিনি আরও বলেন, মিটারে গ্রাহকের টাকা না থাকলে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে। তবে টাকা না থাকলে সরকারি ছুটি ব্যতিরেকে সকাল ১০ টা থেকে বিকেল ৪টার মধ্যে একশ টাকা পর্যন্ত এমার্জেন্সি ব্যালান্স গ্রহন করতে পারবেন গ্রাহকরা। এছাড়া সরকারি ছুটির দিন এবং বিকেল ৪টা থেকে সকাল ১০টার মধ্যে ব্যালান্স শেষ হলেও বিদ্যুৎ চালু থাকবে। তবে পরবর্তী রিচার্জে ব্যবহৃত বিদ্যুতের বিল সমন্বয় করে নিবে। এই মিটার ব্যবহারে সরকার সঠিক সময়ে গ্রাহকদের কাছ থেকে রাজস্ব পাবে বলে মনে করেণ এ কর্মকর্তা।