বাগেরহাটে নির্বাচনের শেষ মুহুর্তে পক্ষে বিপক্ষে অভিযোগ প্রার্থীদের

নিজস্ব প্রতিবেদক.
বাগেরহাটের প্রচার-প্রচারণার শেষ মুহুর্তেও ছিল প্রার্থীদের অভিযোগ পাল্টা অভিযোগ। জেলার মাত্র তিনটি উপজেলাতে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন হচ্ছে। এর আগে ৬টিতে চেয়ারম্যান পদে নৌকা প্রতিকের প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। তিনটি উপজেলায় প্রতিদ্বন্দি প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন, মোল্লাহাটে নৌকা প্রতিকের শাহিনুল আলম ছানা এবং স্বতন্ত্র (বিদ্রোহী) প্রার্থী মোঃ মোতাহার হোসেন মোল্লা। মোরেলগঞ্জে নৌকা প্রতিকের এ্যাড. শাহ-ই-আলম বাচ্চু এবং স্বতন্ত্র (বিদ্রোহী) প্রার্থী মিজানুর রহমান বাবুল। ফকিরহাটে নৌকা প্রতিকের স্বপন দাস এবং বাংলাদেশ ওয়ার্কাস পার্টির নুর মোহাম্মাদ। মোরেলগঞ্জ ও মোল্লাহাট উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে বিদ্রোহী প্রার্থীরা নৌকার প্রার্থী ও পুলিশের বিরুদ্ধে পক্ষপাতের অভিযোগ তুলেছেন। দলীয় প্রার্থীরা তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ অস্বীকার করে উল্টো বিদ্রোহী প্রার্থীদের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অভিযোগ করেন।
মোরেলগঞ্জে দোয়াত কলম প্রতিকের স্বতন্ত্র (বিদ্রোহী) প্রার্থী মিজানুর রহমান বাবুল বলেন, মোরেলগঞ্জ উপজেলার থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা একের পর এক আমার নেতাকর্মীদের বাড়িতে যেয়ে হয়রানি ও মিথ্যা মামলার হুমকী দিচ্ছে। সে নির্বাচনকে একটি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করছে। সুষ্ঠ নির্বাচনের স্বার্থে আমি বর্তমান ওসির প্রত্যাহার চাই।
এ উপজেলার নৌকা প্রতিকের প্রার্থী এ্যাড. শাহ-ই-আলম বাচ্চু স্বতন্ত্র প্রার্থীর অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, নৌকা প্রতিকের জোয়ার দেখে নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে তারা এ ধরণের অহেতুক অভিযোগ তুলছে।
মোল্লাহাট উপজেলার আনারস প্রতিকের স্বতন্ত্র (বিদ্রোহী) চেয়ারম্যান প্রার্থী মোতাহার হোসেন মোল্লা বলেন, সরকার দলীয় প্রার্থী আমাকে প্রচার-প্রচারণায় বাঁধা দিচ্ছেন। আমি চাই সুষ্ঠ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পরিবেশ। তাহলে বিজয় আসবেই, ইনশা-আল্লাহ।
নৌকা প্রতিকের প্রার্থী শাহীনুল আলম ছানা বলেন, বিগত দিনে উপজেলা চেয়ারম্যান এবং জনগনের সেবক হিসেবে সাধারণ মানুষের পাশে ছিলাম। উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে জনগণ ভোট দিয়ে আমাকে বিজয়ী করবে।
বিদ্রোহী প্রার্থীর অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি আরও বলেন, মোতাহার হোসেন মোল্লা একজন দলছুট রাজনৈতিক। তিনি জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ায় এসব অভিযোগ করছেন।
বাগেরহাটের রিটার্নীং কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, বাগেরহাটের নয় উপজেলায় চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে মোট ৬০ জন প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দিতা করছেন। এরমধ্যে বাগেরহাট সদর উপজেলায় ইভিএম এর মাধ্যমে ভোট নেয়া হবে। নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে। ৩১ তারিখ নির্বাচনের দিনে ৯ উপজেলার ৭৫টি ইউনিয়নে ৪‘শ ৬৭ কেন্দ্রে ১১ লক্ষ ১৩ হাজার ৩‘শ ৫১ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।