বাগেরহাটে গৃহবধু হত্যার বিচার দাবিতে সোচ্চার এলাকাবাসী

নিজস্ব প্রতিবেদক
বাগেরহাটে যৌতুকের দাবিতে ঘরে আটকে রেখে মারধর করে গৃহবধু রুমিচা আক্তারকে হত্যার বিচারের দাবি জানিয়েছে নিহতের স্বজন ও এলাকাবাসী। রুমিচা হত্যার ঘটনায় পুলিশ মামলা না নেয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নিহতের স্বজনরা। প্রশাসনের কাছে ঘটনায় জড়িতদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
পারিবারিক কলহ ও যৌতুকের দাবিতে ১৬ এপ্রিল মঙ্গলবার বিকেলে সদর উপজেলার চরগ্রামে নিজ বাড়িতে রুমিচাকে আটকে মারধর ও নির্যাতন করে তার স্বামী শামীম শেখ, শাশুরী কোমেলা বেগম এবং শামীমের বোন হেনা আক্তার। পরে রুমিচা অতিরিক্ত অসুস্থ্য হলে তার মুখে বিষ ঢেলে দিয়ে সন্ধ্যার দিকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। সেখানে রুমিচাকে মৃত ঘোষনা করেন কর্তব্যরত চিকিৎসক। পরে মৃতদেহ রেখে পালিয়ে যায়, স্বামীর বাড়ির লোকজন। তবে নিজেদের নির্দোষ দাবি করে অভিযুক্ত শামীম শেখ ও তার মা কোমেলা বেগম বলেছেন, রুমিচার ছোট মামা তাকে মারধর করায় সে সানফুরান খেয়ে আত্মহত্যা করেছে।
প্রতিবেশী মোঃ সবির উদ্দিন শেখ বলেন, ঘটনার দিন সকালে শামীমদের বাড়িতে রুমিচার কান্না ও ডাক চিৎকার শুনতে পাই। রাতে শুনি রুমিচা মারা গেছে।
স্থানীয় সাহেরা বেগম বলেন, শামীমসহ তার পরিবারের লোকজন রুমিচাকে ঘরে আটকে রেখে প্রচন্ড মারধর করে। সন্ধ্যায় হাসপাতালে নেয়ার পথেও শামীমের মা রুমিচাকে লাথি দেয়। পরে রাতে শুনতে পারি রুমিচা মারা গেছে।
আলোকদিয়া ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কামাল শেখ বলেন, ঘটনার দিন শামীম রুমিচাকে হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছিল। তখন দেখেছি রুমিচা খুব অসুস্থ্য, তাকে মারধর করা হয়েছে। পরে শুনলাম সে নাকি আত্মহত্যা করেছে।
রুমিচার পিতা মিকাইল শেখ বলেন, বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবীতে আমার মেয়ের উপর শামীমের পরিবারের লোকজন অমানুষিক নির্যাতন চালায়। ঘটনার দিন বিকেলে রুমিচাকে ওর শাশুরী কমলা বেগম ও ননোদ হেনা আক্তার মেরে মুখে বিষ দিয়ে হত্যা করেছে। আমি মেয়ের হত্যাকারীদের বিচার চাই।
সদর উপজেলার বেমরতা ইউনিয়নের চরগ্রামের বাদশাহ শেখের পুত্র শামীম শেখের সাথে একই এলাকার আলোকদিয়া গ্রামের মিকাইল শেখের কন্যা রুমিচা আক্তারের ২ বৎসর পূর্বে বিয়ে হয়।
বাগেরহাট মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ মাহতাব উদ্দিন বলেন, প্রাথমিকভাবে একটি অপমৃত্যু মামলা নেয়া হয়েছে। ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পেলে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।