ঘূর্ণিঝড় ‘ফণী’র প্রভাবে ভেড়িবাঁধ ভেঙ্গে লোকালয় প্লাবিত

নজরুল ইসলাম, শরণখোলা
ঘূর্ণিঝড় ‘ফণী’র প্রভাবে বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার ভেড়িবাঁধ ভেঙ্গে লোকালয় প্লাবিত হয়েছে। অনেকেই ঘরবাড়ি ছেড়ে গুরুত্বপূর্ণ মালামাল নিয়ে পার্শ¦বর্তী নিরাপদ স্থানে যেতে শুরু করেছে। শুক্রবার (৩ মে) সকাল থেকে বলেশ্বর নদীর পানি বৃদ্ধি ও ¯্রােতের চাপে উপজেলার পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) ৩৫/১ পোল্ডারের ভেড়িবাঁধ ভেঙ্গে বগী, সাতঘর এলাকার লোকালয়ে পানি ঢুকে ঘরবাড়ি প্লাবিত হয়েছে। অনেকেই ঘরবাড়ি ছেড়ে সন্তান-সন্ততি ও মূল্যবান জিনিসপত্র নিয়ে পার্শ্ববর্তী এলাকায় অবস্থান নিয়েছেন। পরিস্থিতির অবনতি হলে আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ারও প্রস্তুতি রয়েছে তাদের।
বগী গ্রামের রাজ্জাক তালুকদার বলেন, সিডরে মরেছে আত্মীয় স্বজন। ফণীর কথা শুনেই আতঙ্কে আছি। আজ সকালে ভেড়িবাঁধ ভেঙ্গে লোকলয়ে পানি ঢুকেছে। খুব বিপদে আছি।
আবুল হাশেম বলেন, ঝুকিপূর্ণ এলাকায় অবস্থান করছি। ভেড়িবাঁধ ভেঙ্গে আমার বাড়িতে পানি ঢুকে পড়েছে। কি হবে জানি না। সন্তানদের আত্মীয় বাড়িতে পাঠিয়েছি।


স্থানীয় ইউপি সদস্য রিয়াদুল হোসেন পঞ্চায়েত বলেন, আগে থেকেই ঝুকিপূর্ণ ভেড়িবাঁধ সকালে জোয়ারের পানির চাপে ভেঙ্গে লোকালয়ে ঢুকে পড়েছে। বেশকিছু ঘরবাড়ি প্লাবিত হয়েছে। পানির চাপ বৃদ্ধি পেলে আরও কয়েকটি এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ইতোমধ্যে ভেড়িবাধের আশপাশের মানুষগুলো ঘর ছেড়ে অন্যত্র অবস্থান নিতে শুরু করেছে। আমরা এর আগেও দাবি জানিয়েছিলাম মজবুত করে ভেড়িবাধ দেয়ার জন্য কর্তৃপক্ষের খামখেয়ালিতে অসহায় মানুষদের ভোগান্তি হচ্ছে।
সাউথখালি ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান খলিলুর রহমান বলেন, বগী এলাকার ভেড়িবাঁধের একটি অংশ ভেঙ্গে নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। লোকালয়ে পানি ঢুকছে। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী আশ্রয়কেন্দ্র ও স্বেচ্ছাসেবকরা প্রস্তুত রয়েছে।
এদিকে ঘূর্ণিঝড় ফণী আতঙ্কে মোংলা, রামপাল ও কচুয়ার মাছ চাষীরা ঘেরের পাশে নির্ঘুম রাত কাটিয়েছে। আতঙ্কে ঝড়ের তোরে ঘেরের পাড় ভেঙ্গে মাছ ভেসে যাওয়ার ভয়ে আছে তারা।
কচুয়া উপজেলার মনিরুল ইসলাম বলেন, মাছ চাষ করে জীবন চালাই। জলচ্ছাস হলে মাছ ভেসে যাবে। বড় ধরণের ক্সতি হয়ে যাবে।
মোংলার মুকুন্দ বিশ্বাস বলেন, সিডরে বেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিলাম। ঘর-জমি-বেরি সব ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল। এবারের ঘরটা নিয়েও আমরা বেশ ভয়ে আছি।
বাগেরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী নাহিদুজ্জামান খান বলেন, ভেড়িবাঁধ ভাঙ্গার খবর শুনেছি। আমরা খোজ নিচ্ছি। প্রকল্পের লোকদের সাথে যোগাযোগ করে চেষ্টা করছি দ্রুত মেরামত করার।