বাগেরহাট-পিরোজপুর মহাসড়কের কাজে ধীরগতি

নিজস্ব প্রতিবেদক। বাগেরহাট-পিরোজপুর মহাসড়কের সংস্কার ও প্রশস্তকরণ কাজে দীর্ঘদিন ধরে চলছে ধীরগতি । বর্ষা মৌসুমের আগে চলাচলের উপযোগী দৃশ্যমান কাজ না হওয়ার আশঙ্কায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে এলাকাবাসী। তবে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের দাবি হঠাৎ করে পাথরের সংকট ও দাম বৃদ্ধির কারণে সাময়িক সময়ের জন্য ধীর গতিতে চলছে। তবে ঈদের আগেই দৃশ্যমান হবে সড়কের কাজ এমনটাই আশা করছেন প্রতিষ্ঠানটি।
বাগেরহাট-পিরোজপুর মাহসড়কের নওয়াপাড়া মোড় থেকে বলেশ্বর সেতু পর্যন্ত ৩৯ দশমিক ৫ কিলোমিটার সড়কে ১‘শ ৭ কোটি ৯৬ লক্ষ টাকা ব্যয়ে সংস্কার ও প্রশস্তকরণ কাজ চলছে। দুটি প্যাকেজে রানা বিল্ডার্স ও আব্দুল মোনেম এন্টারপ্রাইজ যৌথভাবে কাজ করছে।
একটি প্যাকেজে রয়েছে নওয়াপাড়া মোড় থেকে বাগেরহাট বাসস্টান্ড পর্যন্ত ১৮ দশমিক ২ কিলোমিটার এবং অন্য প্যাকেজে রয়েছে বাগেরহাট বাসস্টান্ড থেকে বলেশ্বর সেতু পর্যন্ত ২১ দশমিক ৩ কিলোমিটার সড়কে কাজ চলছে।
নওয়াপাড়া মোড় থেকে বাগেরহাট বাসস্টান্ড পর্যন্ত ১৮ দশমিক ২ কিলোমিটার সড়কের দুই পাশে পাঁচ ফুট করে মোট দশ ফুট প্রশস্ত হচ্ছে। এ সড়কে ৬ দশমিক ২ কিলোমিটার সড়ক খুড়ে উচু করে কার্পেটিং করা হবে। অবশিষ্ট ১২ কিলোমিটার সড়ক সার্ভিসিং (প্রোফাইল কারেকশন) এবং উচু করে কার্পেটিং করা হবে। এর মধ্যে ভুটিমারি বেইলি সেতুকে ভেঙ্গে ৩১ দশমিক ২৮ মিটার আরসিসি (ঢালাই) সেতু করা হচ্ছে। এছাড়া ষাটগম্বুজ, বারাকপুর ও সিএন্ডবি বাজারে দুইশ মিটার করে মোট ছয়শ মিটার বাস-বে হবে। এসব কাজের জন্য প্যাকেজ মূল্য ধরা হয়েছে ৫১ কোটি ৯৬ লক্ষ টাকা।
বাগেরহাট বাসস্টান্ড থেকে বলেশ্বর সেতু পর্যন্ত ২১ দশমিক ৩ কিলোমিটার সড়কে দুই পাশে তিন ফুট করে মোট ৬ ফুট প্রশস্ত করণ হচ্ছে। এ সড়কে ১০ কিলোমিটার সড়ক খুড়ে উচু করে কার্পেটিং করা হবে। অবশিষ্ট ১১ দশমিক ৩ কিলোমিটার সড়ক সার্ভিসিং (প্রোফাইল কারেকশন) এবং উচু করে কার্পেটিং করা হবে। ফতেপুর বেইলি সেতুকে ভেঙ্গে ৩৭ দশমিক ৯২ মিটার আরসিসি (ঢালাই) সেতু এবং ৪টি আরসিসি কালভার্ট করা হচ্ছে। এর সাথে ১০টি ঝুকিপূর্ণ বাক সোজাকরণও রয়েছে। এসব কাজের জন্য প্যাকেজ মূল্য ধরা হয়েছে ৫৭ কোটি টাকা। ২০১৮ সালের আগস্ট মাসে শুরু হওয়া কাজদুটি ২০২০ সালের জুন মাসে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।
এরপর পুরাতন রাস্তা খোড়াখুড়ি এবং প্রশস্তকরণের জন্য দুই পাশে গর্ত খুড়ে পুরোদমে কাজ চলছিল। কিন্তু এ বছরের মার্চের দিক থেকে হঠাৎ করে কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ভোগন্তিতে পড়েছে পথচারী, যানবাহন চালক ও স্থানীয় লোকজন। প্রতিনিয়তই ধুলোর মধ্যে চলতে হচ্ছে পথচারীদের। যানবাহনগুলোও বিপাকে পড়ছে ভাঙ্গা ও খোড়া রাস্তায়।
রানা বিল্ডার্সের প্রকল্প ব্যবস্থাপক আব্দুল বাতেন বলেন, হঠাৎ করে পাথর সংকট ও দাম বৃদ্ধি হওয়ায় কাজে কিছুটা ধীরগতি হয়েছে। তবে সেতুগুলোক কাজ চলছে। ঈদের আগেই খুব দ্রুত গতিতে কাজ শুরু হবে বলে আমরা আশা করছি।
বাগেরহাট সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ আনিসুজ্জামান মাসুদ বলেন, আমরা প্রতিনিয়তই ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের সাথে যোগাযোগ রাখছি। কাজের মান ও দ্রুত কাজ সম্পন্ন করার জন্য নিয়মিত পর্যবেক্ষন করা হচ্ছে। আগামী সপ্তাহে দ্রুত গতিতে কাজ শুরু করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ঠিাকাদার প্রতিষ্ঠান।