দুবলার চরের শুটকিতে আড়াই কোটি টাকা রাজস্ব আদায়

এস.এস শোহান, বাগেরহাট
চলতি বছরে সুন্দরবনের শুটকি পল্লীতে রাজস্ব বৃদ্ধি পেয়েছে। আবহাওয়া অনুকূল ও জলদস্যুদের উৎপাত না থাকায় রাজস্ব বৃদ্ধিতে জেলেদের আয়ও বেড়েছে। গত বছরের তুলনায় এ মৌসুমে ৫৬ লক্ষাধিক টাকা বেশি রাজস্ব আয় করেছে সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগ।
প্রতি বছরের অক্টোবর থেকে এপ্রিল পর্যন্ত সুন্দরবনের দুবলার চরসহ বঙ্গোপসাগরের ৬টি চরে প্রায় ১৫ হাজার জেলে মাছ আহরণ করে শুটকি প্রক্রিয়াজাত করণের কাজে নিয়োজিত থাকে।
সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, এবার আলোরকোল (দুবলার চর), মেহের আলীর চর, অফিস কেল্লা, মাঝের কেল্লা, নারকেল বাড়িয়া ও শেলার চরে মোট ১ হাজার ২৫টি জেলে ঘর, ৪৮টি ডিপো ঘর, নিত্য প্রয়োজনীয় ষড়ঞ্জামাদির দোকান ৭৯টি ও ৭টি ভাসমান দোকানের পারমিট (অনুমতি) দেয়া হয়েছে। এসব জেলেদের থেকে এবার মৌসুমে (৩০ এপ্রিল পর্যন্ত) ২ কোটি ৪৪ লক্ষ ৮৫ হাজার ৬‘শ ৮০ টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছে। গেল বছর (২০১৭-১৮) পুরো মৌসুমে রাজাস্ব আদায় হয়েছিল ১ কোটি ৮৮ লক্ষ ৮০ হাজার ৪‘শ ৩৯ টাকা। এর আগে ২০১৬-১৭ অর্থ বছরে রাজস্ব ছিল ২ কোটি ২৮ লক্ষ ৬৩ হাজার ৪‘শ ৮৮ টাকা। হিসেব অনুযায়ী গেল দুই মৌসুমের থেকে এবছর অনেক বেশি রাজস্ব আদায় হয়েছে।
জেলেরা সমুদ্র থেকে লইট্যা, ছুড়ি, চ্যালা, ভেটকি, কোরাল, চিংড়ি, রুপচাঁদা, কঙ্কন, মেদসহ বিভিন্ন প্রকার মাছ সমুদ্র থেকে আহরণ করে মাচায় শুকিয়ে শুটকি তৈরি করে। কেউ কেউ চরে বসেই তাদের তৈরি শুটকি বিক্রি করে দেয়। কেউ আবার নিয়ে এসে লোকায় বাজারে বিক্রি করে। তবে বেশিরভাগ শুটকি স্থানীয় দ্বাদন প্রদানকারী ব্যবসায়ীরা ক্রয় করে নেন।
সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মোঃ মাহমুদুল হাসান বলেন, মাছ আহরণের সময় প্রাকৃতিক কোন দুর্যোগ না হওয়ায় এবং দস্যুদের কোন উৎপাত না থাকায় জেলেরা অনেক বেশি মাছ আহরণ করতে পেরেছে। এছাড়া বন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কঠোর নজরদাড়িতে রাজস্ব আয় বেড়েছে। রাজস্ব আয়ে আমাদের লক্ষমাত্রা অর্জিত হয়েছে।