গাড়ির বাজার নিয়ে সাদী ওয়ামীর ব্লগ

সাদী ওয়ামী: আমাদের সমাজে গাড়িকে একটি বিত্তের প্রতীক হিসেবে দেখা হলেও গাড়ির বাজার এখন সাধারণ মধ্যবিত্তেরে হাতের নাগালে। কিন্তু বাংলাদেশের বাজারে গাড়ির দাম ন্যায্য এর তুলনায় অতি বেশি বললেও বোধহয় কম হবে। যেসব গাড়ি বহির্বিশ্বে রিজেক্ট করে রেখেছে বহু আগেই,আমাদের দেশে সেটা দেখা যাচ্ছে একটা বিলাসবহুল গাড়ি হিসেবে খ্যাত। উদাহরণ হিসেবে টয়োটা এক্স করলা,অ্যাক্সিও,এক্স ফিল্ডার,জি করলা ইত্যাদির নাম বলা যেতে পারে। তাছাড়া দেখা যাচ্ছে দেশে ব্রান্ড নিউ গাড়ির আমদানির চেয়ে রিকন্ডিশনড গাড়ি আমদানি বেশি। প্রশ্ন করা যেতেই পারে যে,একটা উন্নয়নশীল দেশের জনগণের কি ব্রান্ড নিউ গাড়ি কেনার ক্ষমতা আছে? উত্তরটা,একশোবার হ্যা। আমি আমাদের দেশে ভালো গাড়ির অভাবের পিছনে প্রথমেই দায়ী করবো অত্যাধিক শুল্ককে। শুল্ক হাইব্রিড গাড়িতে একরকম আবার নন হাইব্রিডে আর একরকম। আবার গাড়ির ইঞ্জিনের ক্ষমতার ওপর ভিত্তি করে আর একরকম। কিন্ত কোনক্ষেত্রেই এই ট্যাক্স পার্সেন্টিজ ১০৫% এর কম না এবং চার হাজার সিসির উপরের গাড়িতে এই পার্সেন্টিজ ৮৩৩% এর চেয়ে বেশি। অর্থ এই যে,দেশে ভালো গাড়ি ঢোকার সব পথ একেবারে রুদ্ধ। কিন্ত কি আর করার,বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশ। পার্শবর্তী দেশ ভারতের কথাটা ভেবে দেখুন। বিএমডাব্লিউ,মার্সেডিজ,অডি,ফোর্ড,শ্রেভলেট ইন্টারন্যাশনাল কার প্রডিউসার ব্রান্ডগুলোর গাড়ি ভারতে সস্তা। বিএমডাব্লিউ সেভেন সিরিজ বিশ্বের ভিতরে লাক্সারিয়াস গাড়ি হিসেবে পরিচিত। ইন্ডিয়াতে ব্রান্ড নিউ সেভেন সিরিজ এর প্রাইজ স্টার্ট ৫৬ লাখ রুপি থেকে যা টাকাতে কনভার্ট করলে আসে ৬৯ টাকা। আর একই গাড়ির প্রিওউনড ১৪ সালের মডেল ১৬ লাখ রুপি যা টাকাতে কনভার্ট করলে আসে ২০ লাখের মতো। আর আমাদের ২০ লাখের ভিতরে টয়োটার পনেরোশ সিসি পাওয়াটাই দুস্কর। আমার বক্তব্য এটাই যে,কেন আমরা বেশি দাম দিয়ে খারাপ গাড়ি কিনতে বাধ্য হচ্ছি ? হাজার হাজার গাড়ি পোর্ট এ পড়ে আছে ট্যাক্স পরিশোধের অভাবে। কতৃপক্ষ যদি শুল্কটা কমিয়ে দুই ডিজিটের ভিতরে নিয়ে আসতো তাহলে প্রতি মধ্য এবং নিন্ম মধ্যবিত্তের গাড়ির প্রয়োজনটা মিটতো। গাড়ি কোন শখ বা বিলাসিতা বা শো অফের বস্তু না,আপনার আমার একটি প্রয়োজনীয় সামগ্রী। আমাদের একটা বাইকের দামে আপনি অন্যত্র একটা ভালো গাড়ি পেয়ে যাবেন। আমাদের আশা একটাই,দেশের ট্যাক্স কমিশন একদিন সদয় হবেন শুল্কের সূচকটা নিন্মগামী করতে।