মোংলায় সাংগঠনিক তদন্তে এসে অভিযুক্তের সাথে ভ্রমণ, নেতা-কর্মীদের ক্ষোভ

মোংলা প্রতিনিধি
বাগেরহাটের মোংলা পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোঃ জুলফিকার আলীর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক তদন্তে এসে স্থানীয় নেতা-কর্মীদের জনরোষের শিকার হয়েছেন কেন্দ্রীয় নেতা জয়ন্ত কুন্ড। শনিবার জুলফিকার আলীর সংগঠন বিরোধী কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে তদন্ত করতে কেন্দ্রীয় কমিটির সহ সাংগঠনিক সম্পাদক (খুলনা বিভাগ) জয়ন্ত কুমারকে পাঠায় দলীয় হাই কমান্ড। কিন্তু তদন্তকারী এই নেতা মোংলায় এসে অভিযুক্ত স্থানীয় বিএনপির নেতা জুলফিকার আলীর সাথে লঞ্চযোগে ভ্রমণসহ দুপুরে ভুরিভোজ করায় ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন স্থানীয় নেতা-কর্মীরা। তাদের অভিযোগ, যার বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় নেতা তদন্ত করতে আসলো, সে কিভাবে অভিযুক্ত ব্যক্তির সাথে ঘুরে বেড়ায়। হাই কমান্ডের নির্দেশে জয়ন্ত কুন্ড তদন্তে এসে স্থানীয় নেতা-কর্মীদের সাথে কথা বলেননি। সে আসলেন, খেলেন আর ঘুরে বেড়ালেন। তিনি জুলফিকারের বিরুদ্ধে আর কি প্রতিবেদনই দিবেন?
মোংলা পৌর বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি মোঃ খলিলুর রহমান বলেন, সাংগঠনিক তদন্তে এসে খুলনা বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক জয়ন্ত কুন্ড তার সাথে কোন কথাই বলেননি।
পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও পৌর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মাহাবুবুর রহমান মানিক বলেন, জয়ন্ত কুন্ড আসার খবরে আমি তার কাছে গিয়ে দেখি, যার (জুলফিকার আলী) বিরুদ্ধে তদন্ত তাকে নিয়ে সুন্দরবন ভ্রমণে লঞ্চে উঠছেন। এ সময় জয়ন্ত কুন্ড স্থানীয় কর্মীদের তোপের মুখে পড়েন। তিনি আরো বলেন, তার (জয়ন্ত কুন্ড) সাথে দেখা হলেও তিনি আমার কাছে সাংগঠনিক কোন বক্তব্য জানতে চাননি।
পৌর বিএনপির প্রচার সস্পাদক ও পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি মোঃ বাবলু ভূইয়া বলেন, বিএনপির খুলনা বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক জয়ন্ত কুন্ড মোংলায় এসেই জুলফিকার আলীকে সাথে নিয়ে সুন্দরবনে ভ্রমণে যায় এবং সেখানে তার সাথে বনভোজনে অংশ নেয়। আমরা তৃণমুল কর্মীরা ওই দিন সন্ধ্যা পর্যন্ত অপেক্ষা করে জয়ন্ত কুন্ড’র সাক্ষাত পাই। এরপর সে আমাদের কাছে কিছু জানতে চায়নি, আমরাই তাকে আগ বাড়িয়ে বলি, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জুলফিকারের সাথে তৃণমুলের কোন কর্মীরা নেই, সে কি সরকার দলীয় লোক নাকি বিরোধী দলের তার কর্মকান্ডে বুঝতে পারিনা !
থানা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক এম এ আবুল কাশেম ও পৌর ছাত্রদলের সভাপতি মাহমুদ রিয়াদও একই অভিযোগ করেন। তারাও বলেন, বিএনপির তদন্তকারী নেতা স্থানীয় কোন সিনিয়র নেতা-কর্মীদের কাছ থেকে সাংগঠনিকভাবে কোন বক্তব্য নেননি, বরং তিনি অভিযুক্ত জুলফিকারের সাথে সুন্দরবন ঘুরে বেড়ানোয় আমরা সন্ধিহান তদন্তের ফলাফল কি হবে। এ ঘটনার আমরা কেন্দ্রীয় সিনিয়র নেতাদের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
এদিকে তদন্তে আসা কেন্দ্রীয় নেতা জয়ন্ত কুন্ড’র বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার মোবাইল ফোন (০১৭১৬ ২২৯৬৬৬) বন্ধ পাওয়া যায়।