কচুয়ার প্রত্যন্ত গ্রামে গড়ে উঠেছে ক্রিকেট একাডেমী

নিজস্ব প্রতিবেদক.
মাদক থেকে যুবকদের দূরে রাখতে ও ভাল খেলোয়াড় তৈরি করতে প্রত্যন্ত গ্রামেও গড়ে উঠেছে ক্রিকেট একাডেমী। যেখানে শিশু-কিশোর, যুবকরা প্রশিক্ষণ নিয়ে ক্রিকেটার হওয়ার স্বপ্ন পূরণ করছে। সাইনবোর্ড স্পোর্টিং ক্রিকেট একাডেমী নামে এমনই একটি একাডেমী গড়ে উঠেছে জেলার কচুয়া উপজেলার সাইনবোর্ড এলাকায়। চার মাস আগে শুরু হওয়া এই একাডেমীতে এখন ১৮ জন শিশু কিশোর প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। ক্রিকেটার হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে প্রতিদিনই শিশু-কিশোররা আসছেন এই একাডেমীতে। সপ্তাহে তিনদিন (শনি, সোম ও বুধবার) বিকেলে ৪টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলে কঠোর অনুশীলন। ভাল কিক্রেটার হওয়ার স্বপ্নে নিয়মিত প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন এলাকার অনেকে।
স্থানীয় যুবলীগ নেতা মেহেদী হাসান বাবুর পৃষ্ঠপোষকতায় ক্রিকেটার মোঃ হাসান শিকদার এ একাডেমী গড়ে তুলেছেন। এখানে নিয়মিত প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন গাজী টায়ার ক্রিকেটারর্স হান্ট-২০১৭ প্রতিযোগীতায়  ইউকেট কিপারর্স-ব্যাটস্ ম্যান ক্যাটাগরিতে দেশ সেরা ক্রিকেটার মোঃ হাসিবুল ইসলাম। যিনি এখন খুলনা মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবে নিয়মিত খেলছেন। তিনি চেষ্টা করছেন নিজ এলাকার ছেলেদের ভাল ক্রিকেটার হিসেবে গড়ে তোলার। তার প্রশিক্ষণ পেয়ে খুশি প্রশিক্ষনার্থীরা।
প্রশিক্ষনার্থীরা বলেন, নিজ এলাকায় এমন একটি প্রশিক্ষণ সেন্টার হবে তা কখনও ভাবতে পারিনি। এই প্রশিক্ষণ সেন্টারের প্রশিক্ষন নিয়ে আমরা আমাদের স্বপ্ন পূরণ করব।
প্রশিক্ষনার্থী গাজী রাফিউশান বলেন, ছোট বেলা থেকে স্বপ্ন ছিল ক্রিকেটার হব। কিন্তু গ্রামে বড় হওয়ার কারণে কো সুযোগ সুবিধা পাইনি প্রশিক্ষন নেওয়ার। তারপরও নিজ প্রচেষ্টা খেলা চালিয়ে গেছি। এরমধ্যে গেল কিছু দিন আগে সাইনবোর্ড স্পোর্টিং ক্রিকেট একাডেমী কার্যক্রম শুরু করে আমি সেখানে ভর্তি হই। প্রশিক্ষন নিয়ে খুবই উন্নতি হচ্ছে আমার। বর্তমানে আমি জেলা ক্রিকেট দলে অনুর্ধ ১৮ টিমে ব্যাটস্ ম্যান ক্রিকেটার হিসেবে খেলছি। আশাকরি আরও বড় জায়গায় খেলার সুযোগ পাব।
প্রশিক্ষনার্থী আছাদুল্লাহ গালিব বলেন, সাইনবোর্ড স্পোর্টিং ক্রিকেট একাডেমীতে প্রশিক্ষন নিয়ে আমি ক্রিকেট সম্পর্কে জেনেছি। ক্রিকেটার হওয়ার জন্য প্রশিক্ষনের কোন বিকল্প নেই। আশা করি আমরা এখানে প্রশিক্ষনের মাধ্যমে ভাল ক্রিকেটার হতে পারব।
একাডেমীর প্রশিক্ষক মোঃ হাসিবুল ইসলাম বলেন, ভাল ক্রিকেটার হওয়ার জন্য ছোট বেলা থেকেই চেষ্টা করা প্রয়োজন। এ জন্য বয়স ভিত্তিক (এজ লেভেল) ক্রিকেটে অংশগ্রহন প্রয়োজন। আর প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার জন্য ছোট বেলা থেকেই প্রশিক্ষন নিতে হবে, তাহলে একসময় ভাল জায়গায় খেলার সুযোগ পাবে।
তিনি আরও বলেন, আমরা যখন খেলেছি, এলাকায় কোন ভাল প্রশিক্ষনের সুযোগ ছিল না। সেই অভাব থেকে সাইনবোর্ড স্পোর্টিং ক্রিকেট একাডেমীতে প্রশিক্ষন প্রদান করছি। যাতে আমাদের এলাকার ছেলেরা ক্রিকের প্রতি আগ্রহী হয়ে ওঠে এবং ভাল খেলোয়ার হিসেবে নিজেকে তুলে ধরতে পারে।
সাইনবোর্ড স্পোর্টিং ক্রিকেট একাডেমীর পরিচালক মোঃ হাসান শিকদার বলেন, বর্তমান সময়ে শিশু-কিশোর, যুবকরা মাদক ও ভার্চুয়াল নেশায় ডুবে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু তারা যদি খেলাধুলার মধ্যে থাকত তাহলে তারা এধরণের খারাপ কাজে যেতে পারত না। তাই এলাকার শিশু, কিশোর ও যুবকদের একটু ভাল পথে নিতে এবং ভাল ক্রিকেটার হিসেবে গড়ে তুলতে আমি ক্রিকেট একাডেমী গড়ে তুলেছি। বর্তমানে ভাল সারা পাচ্ছি। আশাকরি এই একাডেমী থেকে একদিন জাতীয় দলের ক্রিকেটার তৈরি হবে।
একাডেমীতে ভর্তির জন্য যা প্রয়োজন: নির্ধারিত ফরমে আবেদন করতে হবে। আবেদনের সাথে এক কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি ও জন্ম নিবন্ধনের ফটোকপি জমা দিতে হবে। ভর্তির সময় শিক্ষার্থী ২‘শ টাকা ফি দিয়ে যেকোন সময় ভর্তি হতে পারবেন। প্রতিমাসে তিনশ টাকা বেতনে প্রশিক্ষনের সুযোগ পাবেন শিশু-কিশোররা।

সাবেক ক্রিকেটার সরদার এনামুল হক বলেন, গোয়ালমাঠ রসিকলাল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বড় মাঠে অনেক বড় ক্রিকেট টুর্নামেন্টের আয়োজন হয়েছে। বাংলাদেশ জাতীয় দলের পেসার রুবেল হোসেন, বাংলাদেশ জাতীয় দলের প্রাক্তন উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান মোহাম্মদ সেলিম, আবু তাহের ,জনি ,মুন্না ও রাজিব ভাইয়ের মতো ক্রিকেটাররা এই মাঠে খেলেছেন। আমরা আশা করছি ক্রিকেট একাডেমীর এই কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে এই অঞ্চলের ক্রিকেট পূর্বের ঐতিহ্য আবার ফিরে পাবে।

সাইনবোর্ড স্পোর্টিং ক্রিকেট একাডেমীতে ভর্তির জন্য যা প্রয়োজনঃ নির্ধারিত ফরমে আবেদন করতে হবে। আবেদনের সাথে এক কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি ও জন্ম নিবন্ধনের ফটোকপি জমা দিতে হবে। ভর্তির সময় শিক্ষার্থী ২‘শত টাকা ফি দিয়ে যেকোন সময় ভর্তি হতে পারবেন। প্রতিমাসে তিনশ টাকা বেতনে প্রশিক্ষনের সুযোগ পাবেন শিশু-কিশোররা। ভর্তির জন্য যোগাযোগ করুণ-পরিচালক মোঃ হাসান শিকদার-০১৭১১-৯৫৪৫৯৫।