বাগেরহাটে পরিষদে ডেকে নিয়ে বৃদ্ধকে পেটালেন চেয়ারম্যান

নিজস্ব প্রতিবেদক

বাগেরহাটের রামপালে পরিষদে ডেকে নিয়ে আরব আলী ঢালী (৬০) নামের এক বৃদ্ধকে  মারধর করেছে গৌরম্ভা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন। আহত আরব আলী বাগেরহাট সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনায় আহত আরব আলীর ছেলে আমীর আলী ঢালী বাগেরহাটের পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

শুক্রবার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বাগেরহাট সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আরব আলী জানান, বুধবার (১১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে আমার বাড়ির সামনে নিজের দোকানে ব্যবসায়িক বিষয় নিয়ে আমি এবং আমার ছেলে আমীর আলী হাসাহাসি করছিলাম। এসময় আমার প্রতিবেশী সৎ বোন বেবী ঢালী চেয়ারম্যানের কাছে নালিশ করে এই বলে যে আমরা তাকে দেখে হাসাহাসি করেছি। তার কিছুক্ষন পরে চেয়ারম্যান পরিষদের দফাদার বাবর আলী সরদারকে দিয়ে আমাকে পরিষদে ডেকে নেয়। জোহরের নামাজ শেষে পুত্রবধু আকলিমা বেগম (২৬) কে সাথে নিয়ে পরিষদে যাই। সেখানে কোন কিছু না শুনেই বেশি বুঝিস, বলেই আচমকা আমাকে চর থাপ্পর মারে। এসময় আমি প্রতিবাদ করে আল্লাহ তুমি এর বিচার কর। এরপরে আরও ক্ষিপ্ত হয়ে আমাকে এলো পাথাড়ী মারপিট শুরু করে। মারি ফ্লোরে লুটিয়ে পড়লে আরও মারধর করে।

আকলিমা বেগম বলেন, পরিষদে ডেকে নিয়ে চেয়ারম্যান আমার শশুরকে বেধরক মারধর করে। আমি আমাকে ঠেকানোর কোন সুযোগও দেয় নি। আমি মারধরে ভিডিও চিত্রি ধারণ করছিলাম। পরে চেয়ারম্যান তার পরিষদের মহিলা দফাদার দিয়ে আমাকে মারধর করে মোবাইলের সিম ও মেমোরি কার্ড নিয়ে যায়।

আকলিমার স্বামী আমীর আলী ঢালী বলেন, আমার বৃদ্ধ পিতাকে অন্যায়ভাবে চেয়ারম্যান মারধর করেছে। আমাকে থানায়ও জানাতে দেয়নি। পিতার কাছ থেকে সাদা কাগজে জোরপূর্বক টিপসই রেখেছে। কোথাও নালিশ না করার জন্য হুমকীও দিয়েছে। বাধ্য হয়ে পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। আমি এ ঘটনার বিচার চাই।

গৌরম্ভা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন বলেন, আমি কাউকে মারধর করিনি। এসব মিথ্যা ও বানোয়াট।

রামপাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ তুহিন হাওলাদার বলেন, আরব আলীর ছেলে পুলিশ সুপারের কাছে অভিযোগ করেছেন। অভিযোগের কপি আমি পেয়েছি। তদন্ত স্বাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।