শরনখোলায় মাদ্রাসা শিক্ষার্থী ধর্ষণের ঘটনায় সুপার গ্রেফতার

নিজস্ব প্রতিবেদক.
বাগেরহাটে শরণখোলায় মাদরাসা শিক্ষার্থী ধর্ষণ মামলায় ওই মাদরাসা সুপার ইলিয়াস হোসেন (৪৫)কে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। বৃহস্পতিবার (১৭ অক্টোবর) দুপুরে জেলার ফকিরহাট উপজেলার কাটাখালি এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতার ইলিয়াস হোসেন শরণখোলা উপজেলার খোন্তাকাটা রাফেজিয়া ইবতেদায়ী মাদরাসার সুপার এবং একই উপজেলার পূর্ব রাজাপুর গ্রামের গফফার জোমাদ্দারের ছেলে।
মামলা সূত্রে জানাযায়, ৮ আগস্ট মাদরাসার লাইব্রেরীতে নিয়ে ৫ম শ্রেণির ওই শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ করে ইলিয়াস হোসেন। ওই শিক্ষার্থীকে বিষয়টি মা-বাবাকে না জানানোর জন্য ভয় দেখায়। পরে শিশুটির রক্তক্ষরণ হয়। বিষয়টি জানতে পেরে ওই সুপার মেয়েটির বাড়িতে গিয়ে সিড়ি থেকে পড়ে গিয়ে আহত হয়েছে বলে তার পিতা মাতাকে জানায়। শিক্ষার্থীকে সুস্থ্য করতে নিজেই ঝারফুক ও পানি পড়া দেয় ওই সুপার । কিন্তু তাতেও সুস্থ্য না হওয়ায় সুপারের পরামর্শে মোরেলগঞ্জ উপজেলার একটি ক্লিনিকে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করে শিশুটির পিতা-মাতা। সিড়ি থেকে পরে যাওয়া আঘাতের কারণে রক্তক্ষরণ নয়, অন্য কারণ থাকতে পারে বলে চিকিৎসকরা পরিবারকে পরামর্শ দেয়। পরে ১৯ আগস্ট রাতে নির্যাতিত ছাত্রীর পিতা বাদী হয়ে ইলিয়াস হোসেন নামের ওই সুপারের বিরুদ্ধে শরণখোলা থানায় মামলা করেন। মামলার পরে সুপার গা ঢাকা দেয়। থানা পুলিশ আসামীকে আটক করতে না পাড়ায়। ১৪ সেপ্টেম্বর পিবিআই, বাগেরহাট মামলা টেক ওভার করে।পিবিআই এসআই সাইয়েদকে তদন্ত শুরু করে।
পিবিআই, বাগেরহাটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ মোজাম্মেল হক বলেন, আমরা মামলাটি টেক ওভার করার পরে পলাতক আসামী ইলিয়াস হোসেন দফায় দফায় তার অবস্থান পরিবর্তন করতে থাকে। পুলিশের হাত থেকে বাঁচতে তিনি বিভিন্ন কৌশল ব্যবহার করতে থাকে। ঢাকা গাজীপুরসহ বিভিন্ন স্থানে পালিয়ে ছিল। সর্বশেষ আধুনিক তথ্য প্রযুক্তির সহয়তায় ইলিয়াস হোসেনের অবস্থান সনাক্ত করে কাটাখালী এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হই।তাকে আদালতে প্রেরণের প্রস্তুতি চলছে।