মুক্তিযোদ্ধার সন্তান রাজুকে ঢাকা মহানগর দক্ষিন যুবলীগের সভাপতি হিসেবে চায় কর্মীরা

 

নিজস্ব প্রতিবেদক

ক্যাসিনো ও দূর্নীতি বিরোধী অভিযানে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের অন্যতম সহযোগী সংগঠন যুবলীগের মধ্যে এখন আতঙ্ক বিরাজ করছে। ১৯৭২ সালের বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক শেখ ফজলুল হক মনির হাতে গড়া সংগঠনটি সাধারণ মানুষের কাছে দিন দিন গ্রহনযোগ্যতা হারিয়েছে।সংগঠনটি পূর্ব ঐতিহ্য ধরে রাখতে এবং সংগঠনের প্রতি মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনতে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা ফজলুল হক মনির ছেলে ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপসকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব প্রদান করেছেন। ২৩ নভেম্বর আওয়ামী যুবলীগের ৭ম সম্মেলনের ঘোষনা দেওয়া হয়েছে।

তবে ক্যাসিনো ও দূর্নীতি বিরোধী অভিযানের কারণে দলের নতুন নেতৃত্ব ও পদ প্রত্যাশীরা নিজেদের নাম ঘোষনা করতে ভয় পাচ্ছে। ইতোমধ্যে সংগঠনের ঢাকা মহানগর দক্ষিন যুবলীগের শীর্ষ নেতৃত্ব এখন আইনের আশ্রয়ের পাশাপাশি অনেকেই দল থেকে বহিস্কার হয়েছে। যারা বহিষ্কার কিংবা গ্রেফতার হননি তারাও আছেন আতঙ্কে। কর্মীরাও ক্লিন ইমেজের নেতৃত্ব পাচ্ছে না। তবে আওয়ামী ও মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের ক্লিন ইমেজের নেতারা এবারের সম্মেলনে কর্মীদের সাপোর্ট পাবে বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছেন।এবারের সম্মেলনে ঢাকা মহানগর দক্ষিন যুবলীগের শীর্ষ পদে যুবলীগের নিবেদিত কর্মী শেখ রাসেল রাজুর নাম শোনা যাচ্ছে।

দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি বাংলাদেশ ছাত্র লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য এবং ২০০৩ সালে শেখ হাসিনার প্রতিষ্ঠিত `মুক্তিযুদ্ধ প্রজন্ম কমান্ড’র সাধারন সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি ঢাকা মহনগর দক্ষিন যুবলীগের সহ-সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন। রাজু বিএনপি-জামাত ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় বহুবার কারাবরণ করেন এবং ছাত্রদলের পক্ষ থেকে গুলিতে আহত হবার পাশাপাশি অনেক নির্যাতনের স্বীকার হন।

রাজু মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদ পরিবারের একজন সন্তান। তার দাদা শেখ মোজাম মুক্তিযুদ্ধের সময় শহীধ হন। তার পিতা শেখ লতিফুজ্জামান মুক্তিযুদ্ধকালীন কমান্ডার ছিলেন, বর্তমানে কচুয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের নেতা এবং কচুয়া উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ডেপুটি কমান্ডার । বঙ্গবন্ধু ও দেশকে ভালবেসে দেশের জন্য কাজ করার প্রত্যয়ে রাজনীতি করেন শেখ রাসেল রাজু।বঙ্গবন্ধুর আদর্শ লালন করে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশকে এগিয়ে নিতে কাজ করতে চান তিনি।

শেখ রাসেল রাজু বলেণ, রাজনীতি হওয়া উচিত সকল স্বার্থের উর্দ্ধে। জননেত্রী শেখ হাসিনার মত শুধু দেশকে ভালবেশে রাজনীতি করা উচিত। আমার কোন চাওয়া পাওয়া নেই আমি দেশকে ভালবাসি, তাই রাজনীতি করি। যদি নেত্রী চান তাহলেই আমি ঢাকা মহানগর দক্ষিন যুবলীগের সভাপতি হব।আমি সভাপতি হলে, দলের মধ্যে যে কলঙ্ক তৈরি হয়েছে তা মোচনের চেষ্টা করব। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে যারা বিশ্বাস করে তাদেরকে নিয়েই আমি সংগঠনের কাজকে এগিয়ে নিব।

তিনি আরও বলেণ, আমার ছোট রাজনৈতিক জীবনে যা জেনেছি এবং দেখেছি,  আসলে স্বচ্ছ রাজনীতি ছাড়া মানুষের জন্যতো ভাল কিছু করা সম্ভবইনা, নিজের জন্যও ভাল কিছু করা সম্ভবনা। তাই আমি আসলে আওয়ামী যুবলীগের মেধাবি, দক্ষ, পরিচ্ছন্ন ও জবাবদীহিতামূলক রাজনীতিতে বিশ্বাসি।