বাগেরহাট সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষের পদত্যাগে অনড় শিক্ষার্থীরা

নিজস্ব  প্রতিবেদক.
অধ্যক্ষের অপসারণের দাবিতে তৃতীয় দিনের মত ক্লাস বর্জণ করে আন্দোলন করেছে বাগেরহাট সরকারি মহিলা কলেজের শিক্ষার্থীরা। শনিবার (২ নভেম্বর) দুপুরে কলেজ চত্ত্বরে মিছিল করে শিক্ষার্থীরা । অধ্যক্ষ পদত্যাগ না করলে রোববার থেকে রাজপথে মিছিল করার হুমকী দেন শিক্ষার্থীরা। আর অধ্যক্ষ বলছেন, পদত্যাগ করার কোন সুযোগ নেই। আমার বিরুদ্ধে সড়যন্ত্র চলছে।
এদিকে কলেজের চলমান সংকট নিরসনে শনিবার সাড়ে ১১টায় একাডেমিক কাউন্সিলের সভা ডেকেছিলেন অধ্যক্ষ ড. এসএম রফিকুল ইসলাম। সভায় কোন শিক্ষক অংশগ্রহন করেননি। অধ্যক্ষের দাবি শিক্ষকরা সভায় অংশগ্রহন না করে, অনুমতি ছাড়াই কলেজ থেকে বের হয়ে গেছেন।
আন্দোলন রত শিক্ষার্থীরা জানান, আমরা যেকোন মূল্যে অধ্যক্ষের পদত্যাগ চাই। তিনি এখানে থাকলে আমাদের পড়াশুনা হবে না। আমরা ক্লাস ও পরীক্ষায় অংশগ্রহন করব না। রবিবার যদি অধ্যক্ষ স্যার কলেজে থাকেন তাহলে আমরা তার অপসারণের দাবিতে রাজপথে মিছিল করব।
মিম, শুকরিয়া, তিথি রায়, অনন্যা ও সাদিয়াসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী বলেন, বুধ ও বৃহস্পতিবার আন্দোলনের পরে স্যার তার অবস্থান থেকে একটুও নড়েনি।বরং হোস্টেলের মেয়েদের আন্দোলনে আসতে দিচ্ছেন না। আন্দোলনে আসলে তাদের হোস্টেল থেকে বের করে দেওয়া হুমকী দিয়েছেন। এমনকি এই আন্দোলন নস্যাৎ করতে অধ্যক্ষের তরফ থেকে হোস্টেলের মেয়েদের খাওয়ানো হয়েছে বলে দাবি করেন শিক্ষার্থীরা।
অধ্যক্ষ ড. এস এম রফিকুল ইসলাম বলেন, আমার বিরুদ্বে কাল্পনিক কিছু অভিযোগ আনা হয়েছে। এছাড়া আমার পরিবারকে জড়িয়ে নানা অপ্রচার করছেন কতিপয় শিক্ষক। শিক্ষার্থীদের আমার কোন কথা শুনতে দেয়া হয় না। কলেজের চলমান সংকট নিরসনে শনিবার সাড়ে ১১টায় একাডেমিক কাউন্সিলের সভা ডেকেছিলাম। কোন শিক্ষক সভায় অংশগ্রহন করেন নি। বরং সকল শিক্ষকরা আমাকে না বলে কলেজের বাইরে চলে গেছেন। আমি চাই কলেজে চলমান সংকট নিরসন হোক। এজন্য ইতোমধ্যে আমি স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সাথে এবং উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবহিত করেছি। রবিবার থেকে যদি শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীরা নিয়মিত ক্লাসে না আসেন, তাহলে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানাবো মন্ত্রণালয় তাদের নিয়ম অনুয়ায়ী ব্যবস্থা গ্রহন করব।
তবে এবিষয়ে সরকারি মহিলা কলেজের শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সহযোগী অধ্যাপক সাহানুর আক্তারকে ফোন করা হলে সাংবাদিক পরিচয় দিলে তিনি ব্যবস্তার কথা বলে ফোন কেটে দেন। পরে আর তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
এছাড়া কলেজের উপাধ্যক্ষ ঝর্ণা হালদারসহ কয়েকজন শিক্ষকের সাথে কথা বললে তারা কলেজের সংকটের বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি।
উল্লেখ, নানা অনিয়ম ও দূর্নীতির অভিযোগে বুধবার (৩০ অক্টোবর) বাগেরহাট সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ ড. এস এম রফিকুল ইসলামের অপসারণের দাবিতে আন্দোলন করে শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে সমর্থণ জানিয়ে ৭২ ঘন্টার মধ্যে তার অপসারণ না হলে কলেজের সকল কার্যক্রম, অভ্যান্তরীণ পরীক্ষা, বোর্ড ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন পরীক্ষা হতে বিরত থাকার ঘোষণা দেন শিক্ষকরা।