আশ্রয় কেন্দ্রে ছুটছে বাগেরহাটবাসী, অপ্রতুল সুযোগ সুবিধায় আশ্রয়প্রার্থীদে ক্ষোভ

মোঃ শহিদুল ইসলাম

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ এর প্রভাবে সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে নিকটস্থ আশ্রয়কেন্দ্রে ছুটছেন বাগেরহাট জেলার উপকূলীয় উপজেলা মোরেলগঞ্জ, শরণখোলা, মোংলা ও রামপালের বাসিন্দারা।কেউ কেউ আবার নিকট আত্মীয়ের বাসায়ও যাচ্ছেন বুলবুল‘র হাত থেকে বাঁচতে। শনিবার (৯ নভেম্বর) সন্ধ্যার আগে থেকে বৃষ্টি বাড়ার সাথে সাথে আশ্রয়কেন্দ্রেও ভীড় বাড়তে থাকে। নিজ বাড়ি ছেড়ে সকলে যেতে থাকে আশ্রয়কেন্দ্রে। শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত প্রায় ৮০ হাজার মানুষ জেলার বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছেন।তবে আশ্রয়কেন্দ্রে সুপেয় পানি, খাবার ও পয়নিস্কাশনের পর্যাপ্ত সুযোগ সুবিধা না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন আশ্রয়প্রার্থীরা।

শনিবার বিকেলে সোয়া পাঁচটার দিকে মোরেলগঞ্জ উপজেলার দোনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কাম ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্রে দেখা যায় বেশ কিচু মানুষ আসছেন। সেখানে লিপি বেগম বলেন, সন্তান নিয়ে আসছি। কিন্তু এখানে পানি নেই, খাবার ব্যবস্থা নেই। এখানে এসে আরও বিড়ম্বনায় পড়েছি।

গুলবানু বলেন, অনেক আগে আসছি এখানে। জনপ্রতিনিধিরাও আসে নেই, সরকারি লোকও আসেনি। আমাদের সাথে অনেক প্রতিবন্ধী মানুষও রয়েছে, এক ধরণের মানবেতর জীবন যাপন করতে হচ্ছে আমাদের এখানে।

এছাড়া শরণখোলা, মোংলা ও রামপালের বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রেও মানুষ যাচ্ছে। জেলা প্রশাসন আসা করছেন সন্ধ্যার পরে রাত গভীর হওয়ার আগেই ঝুকিপূর্ণ এলাকার সব মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে চলে আসবেন।

রায়েন্দা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আছাদুজ্জামান মিলন বলেন, ঘূর্ণিঝড়েরর খবর থেকেই আমরা আশ্রয়কেন্দ্রগুলোকে প্রস্তুত রেখেছি। এলাকার অনেক মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে চলে গেছে। অন্য যারা ঝূকির মধ্যে আছে তাদেরকেও আশ্রয় কেন্দ্রে নেয়ার জন্য চেষ্টা চলছে। ঘূর্ণিঝড়ের ক্ষয়-ক্ষতি কমাতে আমাদের নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবক, সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারীরা সতর্ক অবস্থায় রয়েছে।

বাগেরহাটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোঃ কামরুল ইসলাম বলেন, বুলবুল‘র ক্ষতি এড়াতে আমাদের ৩৪৬টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রয়েছে। লোকজন দুপুর থেকেই আশ্রয় কেন্দ্রে যাওয়া শুরু করেছে। আশ্রয় প্রার্থীদের জন্য পর্যাপ্ত খাবারের ব্যবস্থা রয়েছে। আশা করছি তাদের কোন সমসা হবে না।