১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেতেও সচেতন নয় সাধারণ মানুষ, চরম পর্যায়ের অপেক্ষা

তানজীম আহমেদ

কয়েকদিন ধরে সাবরমুখে মুখে একটা নাম ছিল। সেটা হচ্ছে বুলবুল। শুক্রবার (৮ নভেম্বর) সকাল থেকে বুলবুলকে নিয়ে শুরু হয় তোরজোড়। একের পর এক সভা ও মাইকিং চলে স্থানীয়ভাবে। আবহাওয়া অধিদপ্তেরের ৩ ও ৪ নম্বর সতর্ক সংকেত বৃদ্ধি পায় সাতে। সবশেষ শনিবার (৯ নভেম্বর) সকালে বুলবুল‘র প্রভাবে উপকূলীয় ১০টি জেলাকে ১০ নম্বর মহা বিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়।এরপর থেকে জনসাধারণকে ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্রে নিতে জেলা প্রশাসন, সিপিবি, ফায়ার সার্ভিস, পুলিশসহ বিভিন্ন সংস্থা মাইকিং করছে। এমনকি শুক্রবার দিবাগত রাতেও বিভিন্ন এলাকায় মাইকিং করা হয়েছে। জন প্রতিনিধিরাও চেষ্টা করছেন যাতে জনগণ আশ্রয় কেন্দ্রে যায়। কিন্তু বাগেরহাটের সাধরণ মানুষ বুঝছেনা মহা বিপদ সংকেতের গুরুত্ব। বুঝলেও গুরুত্ব দিচ্ছে না বিষয়টির। চরম পর্যায়ের জন্য অপেক্ষা করছেন জন সাধারণ।

এর কারণ হিসেবে দেখানো হচ্ছে কিছুদিন আগের ঘূর্ণিঝড় ফণীকে। ঘূর্ণিঝড় ফণীর সময় ৭ নম্বর বিপদ সংকেত থাকলেও হালকা বৃষ্টি ও দমকা বাতাস ছাড়া বড়ধরণের কোন সমস্যা হয়নি।  যারফলে সাধারণ মানুষ মনে করছে আগের বারের মত এবারও স্বাভাবিক থাকবে সব কিছু। এর জন্য আশ্রয়কেন্দ্রে যাচ্ছে না লোক জন।

শনিবার দুপুরে মোংলা উপজেলার দিগন্ত প্রকল্প মাধ্যমিক বিদ্যালয় কাম আশ্রয়কেন্দ্রে দেখা যায় মাত্র ৪-৫ জন লোক। আর পুরো আশ্যয়কেন্দ্রই ফাকা। কথা হয় আশ্রয়কেন্দ্র আগতদের সাথে। তারা বলেন, হয়ত সন্ধ্যার আগে আগে আসবেন। বাড়ির হাসমুরগী, মূল্যবান মালামাল রেখে কেউ আসতে চায় না আশ্রয়কেন্দ্রে।

শনিবার সকালে মোরেলগঞ্জ উপজেলার আমিনুল ইসলাম বলেন ঝড় আসার কথা মাঝে মধ্যেই তো শুনি, এতে কিছু হবে বলে মনে হয়না।

রাস্তার পাশে দাড়িয়ে থাকা কয়েকজন নারী বলেন, ফণীর সময় হাস-মুরগী রেখে আশ্রয়কেন্দ্রে গেছি, পরে কিছু হয়নি আরো হাস-মুরগী হারায়ে গেছে। এবার আর যাচ্ছি না। তবে ঝড় বৃষ্টি বেশি হলে যাব।

মোংলা উপজেলার ইসমাইল হোসেন বলেন, রাত পর্যন্ত দেখব। যদি বৃষ্টি ও বাতাস থঅকে তাইলে রাতের খাবার খেয়ে সকলকে নিয়ে যাব আশ্রয়কেন্দ্রে। এছাড়াও কেউ কেউ বাড়ি ফাকা রেখে আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছে।

বাগেরহাট জেলা প্রশাসক মোঃ মামুনুর রশীদ বলেন, বুলবুল‘র প্রভাব থেকে রক্ষা পেতে আমরা সকলকে ঘূর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্রে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করেছি। কাল থেকে বিভিন্নভাবে নিরবিচ্ছিন্ন প্রচার চলছে। কিছু কিছু আশ্রয়কেন্দ্রে লোকজন যাওয়া শুরু করেছে।প্রত্যন্ত এলাকায় সব থেকে বেশি মানুষ যাচ্ছে আশ্রয়কেন্দ্রে। কিন্তু কিছু মানুষ ভয়াবহতা সম্পর্কে সন্দিহান, তাই যাচ্ছে না। তবে যদি বৃষ্টি ও বাতাসের গতি বৃদ্ধি পায় তাহলে বেশিরভাগ মানুষ সাইক্লোন শেল্টারে চলে যাবেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।