বাংলাদেশ ইতিহাস সম্মিলনীর ৬ষ্ঠ বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ ইতিহাস সম্মিলনীর ৬ষ্ঠ বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে । শনিবার (২৩ নভেম্বর) বাংলা একাডেমিতে আয়োজিত সম্মেলনে (২০১৯-২১) নতুন কার্য নির্বাহী পর্ষদ ঘোষণা করা হয়। সম্মেলনে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসের অধ্যাপক ড. মো: মাহবুবর রহমানকে সভাপতি এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসের শিক্ষক ড. চৌধুরী শহীদ কাদেরকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়।

৩৫ সদস্য বিশিষ্ট কেন্দ্রীয় কমিটিতে সহ-সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ ফায়েক উজ্জামান, ইডেন কলেজের অধ্যাপক মাহফিল আরা বেগম, কুমিল্লা  অজিত গুহ মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ হাসান ইমাম মজুমদার, চট্টগ্রামের সাংবাদিক শামসুল হক, দিনাজপুর সিটি কলেজের অধ্যক্ষ মোজাম্মেল বিশ্বাস। সাংগাঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পান জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ পরিদর্শক মনিরুজ্জামান শাহীন, যুগ্ন সম্পাদক তপন পালিত, কোষাধ্যক্ষ হন আহম্মেদ শরীফ, প্রকাশনা সম্পাদক মামুন সিদ্দিকী।

সংগঠনের উপদেষ্টা সভাপতি হন অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন। শিল্পী হাশেম খান, লেখক সাংবাদিক শাহরিয়ার কবিরসহ ১১ সদস্যের উপদেষ্টা কমিটি গঠন করা হয়।

৬ষ্ঠ বার্ষিক সম্মেলন উপলক্ষে আয়োজন করা হয় ‘১৯৭১ – এর গণহত্যা, বাংলাদেশের সুবর্ণজয়ন্তী ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক সম্মেলনের। সম্মেলনের উদ্বোধন করেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কেএম খালিদ এম.পি। সমাপনী অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন সংস্কৃতি সচিব ড. মো. আবু হেনা মোস্তফা কামাল। বিশে^র সাতটি দেশের ৩৫ জন গবেষক এতে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।

সম্মেলনে জাতীয় অধ্যাপক সালাউদ্দীন আহমদ স্মৃতি পুরষ্কার প্রদান করা হয় রেহানা পারভীন ও হোসনে আরা খানম-কে। চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, পাবনা, দিনাজপুর, পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁ, কুষ্টিয়া, খুলনা, বরিশাল রাজশাহীসহ নানা জেলা থেকে তিনশজন শিক্ষক সাংবাদিক গবেষক, বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের শিক্ষক গবেষক ইতিহাসপ্রেমি নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেন।

বিদায়ী সভাপতির ভাষণে অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন বলেন, সবাইকে ইতিহাসচর্চায় এগিয়ে আসতে হবে। অসা¤প্রদায়িক ও উদারনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে ইতিহাসচর্চা না করলে সত্যের বিলোপ ঘটবে। শুধু ইতিহাসচর্চা নয়, ইতিহাসের ভালো শিক্ষক হওয়াও জরুরী। মুজিব বর্ষ ও বাংলাদেশের সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে নতুনভাবে কাজ করার প্রত্যয় তিনি ব্যক্ত করেন। অসা¤প্রদায়িক ও গণমুখী ইতিহাস চর্চার যে ধারার সম্মিলনীর সৃষ্টি করেছে, তার সত্যিকারের বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় সহায়ক হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন। সংস্কৃতি সচিব সম্মেলনের সমাপনী অধিবেশনে রোহিঙ্গা গণহত্যাসহ সকল গণহত্যার বিচার দাবি করেন।

উল্লেখ্য অসাম্প্রদায়িক ও গণমুখী ইতিহাস চর্চার প্রত্যয় নিয়ে অধ্রাপক মুনতাসীর মামুনের নেতৃত্বে গঠিত হয়েছিল ইতিহাস পেশাজীবীদেবে এই সংগঠন। যারা দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় ইতিহাস পাঠ বাধ্যতামূলক করা, শিক্ষকদের পদ সৃষ্টি, ইতিহাস বিকৃতি রোধসহ বিষয় হিসেবে ইতিহাসের গুরুত্ব বৃদ্ধির লক্ষ্যে কাজ করছেন।