বাগেরহাটে দূরশিক্ষণ কার্যক্রমের উদ্বোধন

নিজস্ব প্রতিবেদক: কম্পিউটার লিটারেসি প্রগ্রাম (সিএলপি) এর আওতায় বাগেরহাট সদর উপজেলার  উদ্দীপন বদর-সামছু বিদ্যানিকেতনে অনলাইনের মাধ্যমে দূরশিক্ষণ কার্যক্রমের মাধ্যমের উদ্বোধন করা হয়েছে। সোমবার(২৩ ডিসেম্বর)  দুপুরে উপজেলার চিতলী বৈটপুর গ্রামের  উদ্দীপন বদর-সামছু বিদ্যানিকেতনে এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, এমপি। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক মো. মামুনুর রশীদ, পুলিশ সুপার পংকজ চন্দ্র রায়, সমাজসেবা বাগেরহাট কার্যালয়ের উপপরিচালক এসএম রফিকুল ইসলাম, সামছুদ্দিন নাহার ট্রাস্টের ট্রাস্টি মো. শফিক, প্রধান সমন্বয়ক সুব্রত কুমার মুখার্জী, উদ্দীপন বদর-সামছু বিদ্যানিকেতন প্রধান শিক্ষক দীপঙ্কর পাল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

অনলাইনের মাধ্যমে দূরশিক্ষণ কার্যক্রম উদ্বোধনের মূল আকর্ষণ ছিল রাশেদ খান মেননের নাতী যুক্তরাষ্ট্রের নিউজার্সি একটি স্কুলের ১২ গ্রেডের শিক্ষার্থী কীয়ান রাশেদ সাদী।তিনি গেল ৯মাস ধরে অনলাইনের মাধ্যমে এই বিদ্যালয়ের ৪র্থ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ইংরেজি শিক্ষা দিচ্ছেন। এই প্রকল্পের আওতায় প্রত্যন্ত গ্রামের শিক্ষার্থীরা অনলাইনের মাধ্যমে দেশ বিদেশের অভিজ্ঞ শিক্ষক ও পেশা জীবীদের ক্লাসে অংশ গ্রহণের সুযোগ পাবে। গেল কয়েক বছর ধরে এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অনলাইনের মাধ্যমে দূরশিক্ষণের এই কার্যক্রম চলছে।

অনুষ্ঠানের এক ফাঁকে কীয়ান সাদী তার শিক্ষার্থীদের নিয়ে চলে যান ক্লাসে। চতুর্থ শ্রেণির ১৪ জন শিক্ষার্থী সেখানে তার সাথে গল্প আড্ডা আর নানা বিষয়ে কথা বলেন। লেখার বিষয়বস্তু ও কিভাবে ইংরেজিতে লেখার মান ভালো করা যায় তা নিয়ে কথা বলেন শিক্ষার্থীদের সাথে। তাদের টি-শার্ট ও চকলেট উপহার দেন।

কীয়ান রাসেদ সাদি বলেন, প্রবাসী বাংলাদেশিদের একটি বৃহৎ সংগঠন সিএলপি। এর মাধ্যমে দূর থেকে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের পড়ানোর একটু সুযোগ পাই। বাংলাদেশি বংশভুত রিত্তিকা সামসুদ্দীন নামের এক নারীর মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পারি এবং স্বেচ্ছাসেবক হিসেব যুক্ত হই। চলতি বছরের মার্চ থেকে আমি এই বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ইংরেজি ক্লাস নিচ্ছি। এখানে এসতে পেরে আমি সত্যিই অভিভূত।’

দূরশিক্ষণ উদ্বোধন হওয়া প্রতিষ্ঠানটি চলে স্থানীয় সামছুদ্দিন নাহার ট্রাস্টের মাধ্যমে। ট্রাস্টের  প্রধান সমন্বয়ক সুব্রত মুখার্জী বলেন, তবে নানা সংকটের মাঝে গ্রামের স্কুলের জন্য ভালো মানের শিক্ষক পাওয়াটা ছিল সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। এখন এখানে পরিবার ও প্রতিষ্ঠানের সূহৃদরা স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে অনলাইনে বিভিন্ন ক্লাস নেন। আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে এই দূরশিক্ষণ কার্যক্রমে শিক্ষার্থীদের ভালো সাড়া মিলছে।

রাশেদ খান মেমন বলেন, ‘আমি এখানে এসেছি নানা হিসেবে, আমার নাতীর সাথে। নতুন প্রজন্মের সাথে এখানে এসে আমি দেখছি কিভাবে তাঁর কাজ করছে। সুদূর প্রবাসের একজন অ্যামেরিকানের সাথেও আমাদের গ্রামের শিশুদের ইন্টারঅ্যাকশনটা কত গভীর হতে পারে এখানে এসে আমি তা দেখলাম। এই শিশুরা অনেক মেধাবী। শুরু তাদের সুযোগটা দেওয়া দরকার। তথ্য প্রযুক্তির এই যুগে শিক্ষার প্রসারে এই বিষয়টি আরও ঢেলে সাজানো দরকার। আমি প্রবাসী ছাড়াও দেশের মধ্যে যারা আছেন সবাইকে আহ্বান জানাবো যাদের হাতে সময় থাকে কোচিং ক্লাসে না দৌড়ে তারা যদি এভাবে অন্যদের শেখাতে উদ্যোগী হন। তা অনেক বেশি কাজে লাগবে বলে আমার বিশ্বাস।’