খুশির আমেজ নেই দুবলারচর শুটকী পল্লীতে

দুবলার চর থেকে ফিরে নজরুল ইসলাম।
বঙ্গোপসাগরের কোল ঘেষে সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের দুবলা জেলে পল্লীসহ ৫টি চরে শুটকি মাছ আহরণ মৌসুমে জেলেদের মধ্যে নেই খুশির আমেজ। সম্প্রতি আঘাত হানা ঘূর্নিঝড় বুলবুল ও প্রচন্ডশীতের সাথে বৃষ্টির কারণে সাগরে কাঙ্খিত মাছ পাচ্ছেনা জেলেরা। যার ফলে এবার কাঙ্খিত শুটকী আহরণ না হওয়ায় জেলে, বহরদর ও শুটকী ব্যবসায়ীদের মাঝে একধরনের হতাশা বিরাজ করছে। তবে আগামী দুৃইমাস আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ক্ষতি কিছুটা পুষিয়ে উঠতে পারবে বলে আশা করছে বন বিভাগ।
সুন্দরবন উপকুল দুবলার চরে অক্টোবর থেকে মার্চ এই ৫ মাস ব্যাপি চলে শুটকি আহরন মৌসুম। পূর্ব সুন্দরবন বিভাগ থেকে নির্ধারিত রাজস্ব পরিশোধ করে পাশ-পারমিট নিতে ডিপো মালিক, বহরদারসহ কয়েক হাজার জেলে শুটকির জন্য সাগরে মাছ আহরণ করেন। এবছর সুন্দরবনের ৫টি চরে ৫৩টি ডিপো মালিক, ১০৪০ টি জেলে ঘরে প্রায় ২০ হাজার জেলে শুটকির জন্য মাছ আহরন করছে। কিন্তু এবার ১০ অক্টোবর ঘূর্নিঝড় বুলবুলের আঘাতে শুটকী নষ্ট হওয়া এবং ডিসেম্বরের শেষের দিকে শত্য প্রবাহের কারণে প্রচন্ড ঠান্ডার সাথে বৃষ্টি হওয়ায় মরার উপর খাড়ার ঘা‘রমত ঘটনা ঘটেছে শুটকী পল্লীতে। এ অবস্থায় জেলেদের মধ্যে হাতাশা বিরাজ করছে।
দুবলার চরের বহরদর পঙ্কজ রায় বলেন, ঘূর্নিঝড় বুলবুলের পর থেকে সাগরে তেমন মাছ পাওয়া যাচ্ছে না। এছাড়া প্রচন্ড শীতের সাথে আছে মাঝে মাঝে বৃষ্টি হচ্ছে সাগরে যার কারণে উৎপাদন এতকম যে আমাদের পুজিই টিকবে না।

জেলে নজরুল বলেন, বিরুপ আবহাওয়ার কারণে মাছের উৎপাদন কম। যে মাছ পাচ্ছি তার আকার-আকৃতিও ছোট। তাই জেলেদের মনে কোন আনন্দ নেই। কারণ আপনজন ছেড়ে প্রায় ৬ মাসের জন্য সাগরে আসতে হয়। ৬মাস কাজ করে যদি শুন্য হাতে বাড়ি ফিরতে হলে এর থেকে কষ্টের কিছু নেই।
দুবলা ফিশারম্যান গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক কামাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, প্রতিবছর শুটকী মৌসুমে জেলেদের একটি লক্ষমাত্রা থাকে। এবছর জেলেদের লক্ষমাত্রা কোনভাবেই পূরণ হবে না। তবে মৌসুমের বাকি দিনগুলোতে যদি আবহাওয়া ভাল থাকে এবং মাছ বেশি পাওয়া যায় তাহলে কিছু ক্ষতি পূষিয়ে ওঠা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের বিভাগীয় বনকর্মকর্তা মুহাম্মদ বেলায়েত হোসেন বলেন, বুলবুল ও শীতের কারণে জেলেরা গেলবছরের থেকে মাছ কম পাচ্ছে। গেল বছর ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত যেখানে রাজস্বের পরিমান ছিল ১ কোটি ৪১ লক্ষ সেখানে এবছর একই সময়ে সে রাজস্ব মাত্র ১ কোটি ৩ লক্ষ। গেল বছর পুরো মৌসুমে আমাদের রাজস্ব আদায় ছিল ২ কোটি ৬৬ লক্ষ ৬৭ হাজার ৮‘শ ১৯ টাকা।