তিন জেলার শিক্ষার্থীদের আলো ছড়াচ্ছে যে বিদ্যালয়

মোল্লাহাট থেকে ফিরে শহিদুল ইসলাম.
বাগেরহাটের মোল্লাহাটের সাচিয়াদাহ-চুনখোলা এমবি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পড়ালেখা করছেন তিন জেলার শিক্ষার্থীরা। একই বিদ্যালয়ে পড়ার কারণে ভিন্ন জেলা হলেও শিক্ষার্থীদের মাঝে একধরণের মেলবন্ধন তৈরি হয়েছে। এই বিদ্যালয়ের পড়ালেখার মানেও খুশি অভিভাবকরা। শতবর্ষী বিদ্যালয়টি নিয়ে এলাকাবাসীরও গর্বের শেষ নেই। বৃটিশ আমলে খুলনা জেলার সাচিয়াদাহ ও বাগেরহাটের চুনখোলা গ্রামের নামে ১৯১৬ সালে বিদ্যালয়টির নামকরণ করা হয়।
বাগেরহাট, খুলনা ও নড়াইল জেলার সীমান্তবর্তী মোল্লাহাট উপজেলার চুনখোলা ইউনিয়নের চুনখোলা গ্রামে ৬ একর জমির উপর নানা প্রতিকূলতার মধ্যে কাঠের ঘরে যাত্রা শুরু হয় বিদ্যালয়টির। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই শিক্ষার আলো ছড়িয়েছে বিদ্যালয়টি। নানা চড়াই উৎড়াই পার করে বর্তমানে বিদ্যালয়টি তার সুনাম অক্ষুন্ন রেখে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসায় বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি পেয়েছে নতুন রুপ। বর্তমানে মাধ্যমিক স্তরে ৬‘শ ৩ জন শিক্ষার্থী পড়ালেখা করছেন। এসব শিক্ষার্থীদের জন্য ১৩ জন শিক্ষক ও ৪জন কর্মচারী রয়েছে। তবে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ে শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। এর মধ্যে নড়াইলের পাখিমারা, বল্লাহাটি খুলনার তেরখাদা উপজেলার সাচিয়াদাহ গ্রামের শতাধিক শিক্ষার্থী এই বিদ্যালয়ে পড়ালেখা করছে।
নড়াইল জেলার কালিয়া উপজেলার পাখিমারা গ্রামের সরদার নিজাম উদ্দিন বলেন, আমরা নড়াইল জেলার শেষ প্রান্তে বসবাস করি। নিজ উপজেলার থেকে পাশর্^বর্তী মোল্লাহাট উপজেলার সাথে আমাদের যোগাযোগ অনেক বেশি। আমরা মোল্লাহাটের চুনখোলা বাজারে সাংসারিক মালামাল ক্রয় করি। সন্তানরাও পড়াশুনা করে সাচিয়াদাহ-চুনখোলা এমবি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে। অন্য জেলার হলেও একই জায়গায় থাকায় আমাদের মধ্যে আন্তরিকতা রয়েছে।
সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী সুমন মোল্লার পিতা নান্নু মোল্লা বলেন, আমার পিতা ও আমি এই বিদ্যালয়ে পড়াশুনা করেছি। বােেগরহাট জেলা হওয়ার পরে বিদ্যালয়টি বাগেরহাট জেলার ভৌগলিক সীমানায় পড়ে। তারপরও আমাদের সন্তানরা এই বিদ্যালয়ে পড়াশুনা করে। শুধু পড়াশুনা নয় ঐতিহ্যবাহী চুনখোলা বাজারে সপ্তাহে দুই দিন চার জেলা অর্থ্যাৎ গোপালগঞ্জ, বাগেরহাট, নড়াইল ও খুলনার মানুষ তাদের নিত্য প্রয়োজনীয় পন্যের চাহিদা মেটায়।
নয়ন মুন্সি, তাহারা আক্তার, মহিদুল চৌধূরীসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী বলেন, আমরা পড়ালেখা করি, সকলেইর মধ্যে আমাদের ভাল সর্ম্পক। ১৫-২০ মিটিনে বন্দুদের বাড়িতে ঘুরে আসা যায়, আমরা ভাগ্যবান, এক সঙ্গে বিভিন্ন জেলার ছাত্র-ছাত্রীরা পড়ালেখা করছি।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শামীম হাসান বলেন ১৯৮৪ সালে আমি এই বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাশ করেছি। আমার পিতাও এই বিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলেন। ১৯৯১ সালে এই বিদ্যালয়ে সহকারি শিক্ষক হিসেবে যোগদান করি। ২০১৫ সালে প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহন করি। এরপর থেকে নিজের মত করে প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নের চেষ্টা করছি। তিনটি জেলার শিক্ষার্থী আমার এই বিদ্যালয়ে পড়ার কারণে শিক্ষার গুনগত মানও দিনি দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। বর্তমান সরকারের আমলে বিদ্যালয়ে অবকাঠামোগত ব্যাপক উন্নয়ন সাধিত হয়েছে। আশাকরি বিদ্যালয়ের এই উন্নয়নের ধারাবাহিকতা চলমান থাকবে।
বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি মুন্সি মিজানুর রহমান বলেন, ঐতিহ্যবাহী এই বিদ্যালয়টি আমাদের গর্ব। তিন জেলার শিক্ষার্থীরা একই সাথে মিলেমিশে এই বিদ্যালয়ে পড়াশুনা করেন। বাংলাদেশের অন্যকোন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এভাবে সমান তালে তিন জেলার শিক্ষার্থী পড়াশুনা করেন কি না আমার জানা নেই। আমরা চাই বিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়ন ও লেখাপড়ার বিষয়ে ভূমিকা রাখতে চাই।
চুনখোলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মুন্সি তানজিল হোসেন বলেন, বিভিন্ন দিক থেকে চুনখোলা গ্রামটি বিখ্যাত। চুনখোলা বাজারে একই সাথে ৪টি জেলার মানুষ নিয়মিত আসেন। তারা তাদের নিত্য প্রয়োজনীয় পন্যের চাহিদা এই বাজার থেকে মেটান। সাচিয়াদাহ-চুনখোলা এমবি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে ৩টি জেলার শিক্ষার্থীরা পড়াশুনা করেন। আমি নিজেও এই বিদ্যালয়ে পড়েছি। তাই আমরা বিদ্যালয়ের পড়াশুনা ও অবকাঠামোর বিশেষ নজর দেই। ভবিষ্যতে বিদ্যালয়টিকে আরও উন্নত যুগোপযোগী করার জন্য আমাদের চেষ্টা অব্যাহত থাকবে বলে জানান এই জনপ্রতিনিধি।