করোনা ভাইরাসঃ বাগেরহাটে বেড়েছে মৌসুমি মাস্ক বিক্রেতা

এস.এস শোহান. নভেল করোনা ভাইরাস আতঙ্ক বৃদ্ধি পাওয়ার সাথে সাথে বাগেরহাট শহরে বেড়েছে মাস্ক ও হ্যান্ড ওয়াশ বিক্রেতা। বেকার যুবক ও স্বাভাবিক পরিস্থিতির সময়ে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা এখন দিব্বি বনে গেছেন মাস্ক ব্যবসায়ীতে। শহরের বিভিন্ন জায়গায় টেবিলের উপরে মাস্ক নিয়ে, বন্ধ দোকানের সামনে মাস্ক রেখে এবং নিজের ঘাড় ও গলায় মাস্ক ঝুলিয়ে বিক্রি করছেন হরদম। সাধারণ মানুষও ক্রয় করছেন।

বুধবার সকালে দেখা যায় বাগেরহাট শহরের বেশিরভাগ দোকান ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। কিন্তু মিঠাপুকুর পাড়, সাধনার মোড়, ফলপট্টির মোড়, কাপড় পট্টি, শহররক্ষা বাধা, কেন্দ্রীয় বাস স্টান্ড, ট্রাফিক মোড়সহ অর্ধ শতাধিক স্থানে মৌসুমি মাস্ক বিক্রেতাদের দেখা যায়।

শুধু বাগেরহাট শহর নয় জেলার ৯টি উপজেলার বিভিন্ন বড় বাজার ও গুরুত্বপূর্ন স্থানে মাস্ক বিক্রি করতে দেখা গেছে।

কাপড়র পট্টির সামনে টেবিল নিয়ে মাস্ক বিক্রি করছিলেন বাবুল। স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে বাবুল বিভিন্ন মৌসুমি ফলের ব্যবসা করতেন। তিনদিন ধরে বাবুল মাস্ক বিক্রি করছেন। নিজের স্থায়ী ব্যবসা ছেড়ে মাস্ক বিক্রি করছেন কেন? এমন প্রশ্নের উত্তরে বাবুল বলেন, আগে মৌসুমি ফল বিক্রি করতাম। কিন্তু কয়েকদিন ধরে বাজারে লোকজন কম। মাস্কের প্রচুর চাহিদা রয়েছে। ঔষধের দোকানে সিরিয়াল দিয়েও মাস্ক পাচ্ছে না। তাই মাস্ক বিক্রির সিদ্ধান্ত নিলাম। মাস্ক বিক্রি করে লাভও ভাল হয় বলে জানালেন তিনি।

ফলপট্টির সামনের এক মাস্ক বিক্রেতা বলেন, প্রতিদিন ২ শতাধিক মাস্ক বিক্রি হয়। ৩০ টাকা থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত এক একটি মাস্ক বিক্রি করি। ক্রেতাও অনেক বেশি।

বিক্রেতারা লাভের বিষয়টি অস্বীকার করলেও মূল্য ভেদে প্রতিটি মাস্কে ১৫ থেকে ৪০ টাকা পর্যন্ত ব্যবসা করছেন এই মৌসুমী ব্যবসায়ীরা। ক্রেতারা বাধ্য হয়ে বেশি দামে কিনছেন এই মাস্ক।

মোঃ শহিদুল ইসলাম নামের এক ক্রেতা বলেন, করোনা ভাইরাসের প্রাদূরভাব শুরুর আগে আকাশী রংয়ের টিস্যু কাপড়ের একটি মাস্ক ক্রয় করতাম মাত্র ৫ টাকায়। এখন সেই মাস্ক ক্রয় করতে হচ্ছে ৩০ টাকায়। এছাড়াও ৫০, ৮০ ও ১০০ টাকার মাস্কও রয়েছে। যেসব মাস্ক আগে তেমন দেখিনি।

মৌসুমি ব্যবসায়ীরা মাস্ক ও হ্যান্ড ওয়াশ বিক্রি করায় বাজারে এসবের চাহিদা অনেকটা পূরণ হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন অনেকেই। এদের দাম নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন ক্রেতারা।