ঘূর্ণিঝড় আম্পান: বলেশ্বর নদীর পানি বৃদ্ধি, বাঁধ উপচে লোকালয় প্লাবিত হওয়ার শঙ্কা

শরণখোলাবাসীর আশঙ্কা যেন সত্যি হতে চলেছে। ঘূর্ণিঝড় আম্পানের প্রভাবে বুধবার (২০ মে) দুপুর
নাগাদ শরণখোলার কোলঘেষা বলেশ্বর নদীর পানি গতকালের চেয়ে সাতফুট বৃদ্ধি পেয়েছে। শরণখোলা উপজেলার
সাউথখালী ইউনিয়নের বগী ও গাবতলা এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের ৩৫/১ পোল্ডারের ঝুকিপূর্ন বেড়িবাঁধ উপচে
যেকোন সময় লোকালয়ে পনি ঢুকতে পারে। বেড়িবাঁধের উপর পর্যন্ত পানি ছুই ছুই করছে। বেড়িবাঁধের গায়ে ঢেউ আছড়ে
পড়ছে।
অন্যদিকে বুধবার বেলা ১১টার দিকে শরণখোলা উপজেলা সদরের রায়েন্দা বাজারের পূর্বপাশে বলেশ্বর নদী সংলগ্ন পানি
উন্নয়ন বোর্ডের বেড়িবাঁধে ভাঙ্গন দেখা দেয়। ভাঙ্গনের স্থান থেকে লোকালয়ে পানি ঢোকার উপক্রম হয়।প্রথমে
সেখানে স্থানীয়রা স্বেচ্ছাশ্রমে মাটি দিয়ে ভাঙ্গন রোধের চেষ্টা করেন। পরবর্তীতে পানি উন্নয়ন বোর্ড স্কাভেটর দিয়ে ভাঙ্গন
কবলিত স্থানে মাটি দেওয়া শুরু করে।
এদিকে মূল বেড়িবাঁধের বাইরে থাকা শরণখোলা উপজেলার সাউথখালী ইউনিয়নের বলেশ্বর নদী সংলগ্ন খুড়িয়াখালী গ্রামে
রিং বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে লোকালয়ে পানি ঢুকতে শুরু করেছে। বুধবার সকাল ১০টার দিকে খুড়িয়াখালী গ্রামের শাহজাহান
মোল্লার বাড়ির সামনের রিং বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে লোকালয়ে পানি ঢোকা শুরু করেছে। খুড়িয়াখালী গ্রামের আরিফুল আল মামুন
বলেন, সকালে শাহজাহান মোল্লার বাড়ির পাশ থেকে গ্রামরক্ষার জন্য দেওয়া রিং বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে লোকালয়ে পানি ঢোকা
শুরু করে। কিন্তু পানির গতি অনেক বেশি।
বগী গ্রামের আব্দুর রাজ্জাক বলেন, নদীর পানির যে অবস্থা বিকেল নাগাদ হয়ত লোকালয়ে পানি ঢুকে যাবে। এই অবস্থা হলে
বগী, গাবতলা, চালিতাবুনিয়া ও খুড়িয়াখালী গ্রাম প্লাবিত হয়ে যাবে। আশ্রয়কেন্দ্রে যেয়ে হত জীভন বাঁচানো যাবে। কিন্তু
গবাদি পশু ও মূল্যবান জিনিসপত্রের ব্যাপক ক্ষতি হয়ে যাবে।
শরণখোলা উপজেলার সাউথখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ মোজাম্মেল হোসেন বলেন, বগী ও গাবতলা গ্রাম
সংলগ্ন বাঁধের খুব খারাপ অবস্থা। বলেশ^র নদীল পানি অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। পানির বেগ বৃদ্ধি পেলে বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে
লোকালয় প্লাবিত হয়ে যাবে।
গাবতলা গ্রামের ঝুকিপূর্ণ বেড়িবাঁধ এলাকা থেকে বাগেরহাটের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট মোঃ শাহিনুজ্জামান বলেন,
সাউথখালী ইউনিয়নের মানুষের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে। এলাকার লোকজন বেশিরভাগ আশ্রয়কেন্দ্রে গেছেন। বলেশ্বর
নদীল পানি অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। যার ফলে বগী ও গাবতলা এলাকার বেড়িবাঁধটি অধিক ঝুকিপূর্ন হয়ে পড়েছে। পানি
কিছুটা বৃদ্ধি পেলেই বাঁধ উপচে লোকালয়ে পানি ঢুকে পড়বে। খুড়িয়াখালী গ্রামে যে বাঁধটি ভেঙ্গেছে সেটা সরকারি কোন বাঁধ
নয়। এটি মূল বাঁধের বাইরে থাকা কিছু পরিবারের নিজেদের দেওয়া একটি প্রতিরক্ষা বাঁধ। বাঁধটি ভাঙ্গায় কিছু মানুষ
সমস্যায় পড়েছে সত্যি। তবে মূল গ্রামে এর তেমন কোন প্রভাব পড়বে না।

তিনি আরও বলেন, দুপুর পর্যন্ত আমরা শরণখোলা উপজেলায় প্রায় ২৫ হাজার মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে নিয়েছি। তাদেরকে
শুকনো খাবার দাবার দেওয়া হয়েছে। এখনও অনেকে আশ্রয়কেন্দ্রে যাচ্ছে। রোজাদাররা ইফতার নিয়ে আশ্রয়কেন্দ্রে যাচ্ছেন।
এছাড়া যারা ঝুকিপূর্ন বাড়িতে রয়েছেন তাদেরকে আমরা আশ্রয়কেন্দ্রে নেওয়ার চেষ্টা করছি।
বাগেরহাটের পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ নাহিদুজ্জামান খান বলেণ, শরণখোলা এলাকায় বলেশ^র নদীর
পানি প্রায় সাতফুট পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। রায়েন্দা বাজারের পাশে বাঁধে যে ভাঙ্গন সৃষ্টি হয়েছিল সেখানে আমরা কাজ শুরু
করেছি। এছাড়া বগী ও গাবতলা এলাকার বেড়িবাঁধের দিকে আমাদের বিশেষ নজর রয়েছে। পানি বৃদ্ধি পেলে ওই এলাকায়ও
তাৎক্ষনিকভাবে কাজ শুরু করা হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।