উপকুলবাসির ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা !

নিজস্ব প্রতিবেদক.  জাহাঙ্গীর হোসেন। পেশায় একজন চা বিক্রেতা। কোনমতে চলে ৭ জনের সংসার। থাকেন ভেড়িবাধেঁ পাশে। গেল আম্পান ঘুর্নিঝড়ে বসতঘর ভেঙ্গে গেছে ও চায়ের দোকান ঘরের টিনের চালা উড়ে গেছে। জলোচ্ছাসে দোকানের মেঝের (পোতা) সরে গেছে মাটি, ভেসে গেছে দোকানের আসবাবপত্রসহ মালামাল। খুটির উপর দাঁিড়য়ে আছে টিনের ঘরটি। এরপর জাহাঙ্গীরের অপেক্ষার পালা। ঘর মেরামতের আর্থিক কোন সহায়তা না পাওয়ায় হতাশায় বাড়িয়ে দেয় তার পরিবারে। নিজের মনোবল বৃদ্ধি করে সংসার চালানোর জন্য ঘুরে দাড়ানোর চেষ্টা করছেন। তবে শরনখোলা উপজেলার সাউথখালীর ভঙ্ককর বলেশ্বর নদীর ভেড়িবাধেঁ পাশের আশ্রয় নেয়া জাহাঙ্গীরের মতো অনেকেরই একই অবস্থা।
দক্ষিন সাউথখালী গ্রামের চা বিক্রেতা জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, নদী ভাঙ্গনের কারনে ১৬ বছরে বাপ-দাদার ভিটাবাড়ি তিনবার নদীতে ভেঙে গেছে । বিলিন হয়েছে ফসলী জমি। বর্তমানে ভেড়িবাধেঁর পাশে বাবার দেড় শতক জমিতে বসতঘর ও চায়ের দোকান দিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছি। মাত্র ২০-২৫ হাত দুরে ভাঙ্গন কবলিত ভেড়িবাধঁ । এই টুকু সম্পত্তি নদীতে চলে গেলে ভুমিহীন হয়ে পড়তে হবে। এই চিন্তায় রাতে ঘুম আসে না। ছেলে মেয়ে নিয়ে কোথায় যাব। একে তো করোনা ভাইরাসের কারনে চা বিক্রি কম হচ্ছে। অন্যদিকে ঝড়ের কারনে নি:শ্ব হয়ে পড়েছি।
তিনি আরও বলেন, ঘুর্নিঝড় আম্পানের পর কি করবো, কোথায় যাবো, কিভাবে চলবে সংসার বুঝে উঠতে পারেনি। পরে কোন সহযোগিতা না পেয়ে সন্তানদের নিয়ে মাটি কেটে দোকান ঘরের পোতাটা (মেঝে) ঠিক করছি । চিন্তা করলাম নিজের মত কর নিজেকে গড়ে তুলতে হবে। আয়-উপার্যন করতে হবে। তাই যতটুকু পারি ঠিক ঠাক করে নিচ্ছি। এভাবে চেষ্টা করছেন ঘুরে দাড়াঁবার।
একই এলাকার মাহবুব কবিরাজ, সোহাগ হাওলাদার, ফুলমিয়া, হেমায়েত ফরাজীসহ আরও অনেকে বলেন, ভেরিবাধ ভাঙে আর আমাদের বাড়িঘর নিয়ে সরে আসতে হয়। এভাবে প্রায় সব পৈত্তিক সম্পত্তি হারিয়েছি। এরপর ঝড়-জলোচ্ছাসের চলে আমাদের জীবন যাপন। এবার ঘুর্নিঝড় আম্পানের অনেক ক্ষতি হয়েছে। এর আগে বুলবুল । সর্বোপরি সিডরে আমাদের এই গ্রামের ১৮৪টি পরিবারের ৫শতাধিক মানুষ মারা যায় । আমাদের বসবাস আতঙ্কের মধ্যে। এখন আমাদের একটাই দাবি এান চাই না, চাই টেকসই ভেড়িবাঁধ। তাহলে হয়তো জীবন ও মালের রক্ষা হবে। এমনটাই দাবি উপকুল বাসির।

শরনখোলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোস্তফা শাহিন বলেন, ঘুর্নিঝড়ের আগে আমি সারারাত উপস্থিত থেকে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সহযোগিতায় ওই ভেড়িবাধের ঝুকিঁপূর্ন অংশ মাটি দিয়ে উচু করেছিলাম, যাতে জোয়ারের পানিতে ঢুকতে না পারে। এরপর ঘূর্নিঝড় আম্পানে বগী থেকে গাবতলা পর্য়ন্ত দুই কিলোমিটার বাধেঁর বিভিন্ন অংশ ভেঙে ও জলো”্ছাসে লোকালয়ে পানি ঢুকে পড়ে । এতে বেশকিছু ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্থ হয়। পরবর্তীতে আমরা তালিকা তেরী করে সহয়োগিতা করছি। এছাড়া সেখানকার মানুষের দাবী টেকসই বেড়িবাঁেধর। সে ব্যাপারেও সরকার পদক্ষেপ নিচ্ছে।