রামপালের হুড়কায় আম্পানে কয়েক কোটি টাকার ক্ষতি

নিজস্ব প্রতিবেদক, বাগেরহাটের উপকূলীয় উপজেলা রামপালে আম্পানের তান্ডবে বিভিন্ন দূর্গম এলাকার ক্ষয়ক্ষতির হৃদয় বিদারক খবর পাওয়া যাচ্ছে। তীব্র লবনাক্ততার কারনে এক যুগের ও বেশী সময় ধরে এ উপজেলার অধিকাংশ এলাকায় আমন ফসলসহ সব ধরনের ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হেক্টরের পর হেক্টর জমি অজন্মা হয়ে পড়ে আছে। এ এলাকার জীবন জীবিকা নির্বাহের একমাত্র উৎস চিংড়ি চাষ। ৮০ ভাগ লোকের আয়ের উৎস মৎস্য চাষ। মহামারী করোনার প্রভাবে অধিকাংশ লোকের আয় রোজগার বিপন্ন হয়ে পড়েছে। তার উপর আবার আম্পানের ছোবল। এলাকার মানুষ তাদের শেষ আয়ের পথটি হারিয়ে পথে বসেছেন। পরিবারের সদস্যদের দুবেলা দুমুঠো ভাত তুলে দেওয়া এখন অনেকটা দুরহ হয়ে দাঁড়িয়েছে। উপজেলার হুড়কা ইউনিয়নে কয়েকটি এলাকায় ঘুরে ও এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে পাওয়া গেল এমন চিত্র। হুড়কার উত্তর পাড়ার মৎস্যচাষী শিশির মন্ডল জানান, ধান তো চাষ অয়না। করি এট্টু মাছ চাষ তাও আম্পানে শ্যাষ কইরে দেল। একই কথা জানান সুজিৎ কুমার হালদার, তনয় মজুমদার, অনিমেষ মন্ডল, মহানন্দ শীল, নির্মল মন্ডল প্রমুখ। তারা জানান, আনুমানিক সাড়ে তিন’শ একর জমিতে ২’শ ২৭ টি পরিবারের প্রায় ১০৬টি মৎস্যঘের ভেসে প্রায় ৩ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। এভাবে ছিদামখালী ও মধ্যপাড়া এলাকায়ও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ওই গ্রামের দক্ষিন পাড়ায় গিয়ে দেখা যায় একই চিত্র। আম্পান তান্ডবের চিহ্ন সবখানে দেখা মিলছে। কথা হয় হুড়কা সীতানাথ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক অতিন্দ্রনাথ মন্ডলের সাথে। তিনি কান্না জড়িত কন্ঠে এ প্রতিবেদককে বলেন, আমরা এখন জলবায়ু উদবাস্তুতে পরিনত হয়েছি। আমাদের বেঁচে থাকার শেষ সম্বলটুকুও আম্পানে ভেসে গেছে। কোন ত্রাণ সহযোগীতা বা সরকারি কোন সহায়তা পায়নি। একই কথা বলেন, সুদাস রায়, শুকুর আলী শেখ প্রমুখ। তারা জানান, ২ শত বিঘার ছোট বড় ৫০টি মৎস্যঘের তলিয়ে প্রায় কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। এ ব্যাপারে হুড়কা ইউপি চেয়ারম্যান তপন কুমার গোলদার এর সাথে কথা হলে তিনি জানান, ঝড় ও জলোচ্ছাসে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এই এলাকার মাছ ভেসে যাওয়ার পাশাপাশি গবাদীপশু, হাঁস-মুরগীসহ ফসলেরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। আমরা উপজেলা প্রশাসনকে লিখিতভাবে জানিয়েছি। এখানের দুইটি এলাকার মানুষের জীবন জীবিকা রক্ষা করতে হলে গ্রাম রক্ষা বাঁধ বা নিরাপত্তা বেষ্টনী দিতে হবে। দ্রুততার সাথে বেড়িবাঁধ সংস্কার করা না হলে এ বর্ষা মৌসুমে প্রায় ৩ শত পরিবারকে পানি বন্দি হয়ে মানবেতর জীবন কাটাতে হবে, যা হবে খুবই ভয়াবহ। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তুষার কুমার পাল এর দৃষ্টি আকর্ষন করা হলে তিনি বলেন, আমরা ইতিমধ্যে ক্ষয়ক্ষতির তথ্য পেয়েছি। রবিবার ঘটনান্থল পরিদর্শন করে ও জেলা প্রশাসক মহোদয়ের সাথে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি সকলের সহযোগীতা কামনা করেন।