পাট শ্রমিকরা কিভাবে পাবেন তাদের প্রাপ্য টাকা

বাংলাদেশ সরকার ২৫টি রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল বন্ধ করে যে প্রায় পঁচিশ হাজার স্থায়ী শ্রমিককে গোল্ডেন হ্যান্ডশেক কর্মসূচির মাধ্যমে অবসরে পাঠাচ্ছে তারা তাদের সব পাওনা নগদ টাকা হিসেবে পাবেন না। বাংলাদেশের বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী শুক্রবার জানিয়েছেন যে যেসব পাট শ্রমিকরা চাকরি হারাতে যাচ্ছেন তারা কে কত টাকা পাবেন সেটি আগামী তিন দিনের মধ্যেই চূড়ান্ত হবে। তবে প্রাথমিক হিসেবে শ্রমিকরা তাদের মজুরি, বকেয়া ও অবসর সুবিধা মিলিয়ে কমপক্ষে সাড়ে তের লাখ টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ৫৪ লাখ টাকা পর্যন্ত পাওনা আছেন।

মন্ত্রী বলছেন, প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন শ্রমিকরা যে টাকা পাবে তার অর্ধেক নগদ টাকা আর বাকী অর্ধেক সঞ্চয়পত্রে দেয়ার জন্য।

প্রসঙ্গত, সরকারি পাটকলগুলো উৎপাদন সক্ষমতা হারিয়েছে এবং সরকার আর বিপুল পরিমাণ ভর্তুকি দিয়ে এসব কারখানা চালু রাখতে রাজী না হওয়ার প্রেক্ষাপটে এসব পাটকল বন্ধ করে শ্রমিকদের অবসরে পাঠানোর সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছিলো।

বাংলাদেশে দ্বিতীয় দফার মতো তিন দিনের একটি ধর্মঘট পালন করছে দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলগুলোর শ্রমিকেরা

মন্ত্রী বলেছেন, “প্রধানমন্ত্রী বলেছেন এই পাট দিয়ে বাংলাদেশ গড়ে তুলবো। তাই এ শ্রমিকদের কোনোভাবে ঠকাবোনা। এই নির্দেশনা দিয়েছেন। অর্ধেক টাকা তিনি ক্যাশ দিবেন। অনেক সময় পিতা টাকা পেলে ছেলেরা নিজেরা নিয়ে নেয়। বা মেয়ের জামাই টাকার জন্য চাপ দেয়। তখন বাবা না খেয়ে মরে। সেজন্য প্রধানমন্ত্রী বলেছেন যারা কাজ করেছে তাদের সঞ্চয়পত্র দিবো যাতে কেউ টাকা নিতে না পারে। শ্রমিকরা যেন নিজেদের টাকা নিজেরা ভোগ করতে পারে”।

তিনি বলেন, যারা ১৪ লাখ পাবেন তারা সাত লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র পাবে এবং তিন মাসে তারা উনিশ হাজার টাকা পাবে। যিনি ৫৪ লাখ টাকা প্রাপ্য হবেন তাকে ২৭ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র দেয়া হবে। তিনি তিন মাসে ৭৪ হাজার টাকা পাবেন ব্যাংক থেকে।

এসব হিসেব প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকেই চূড়ান্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পাট মন্ত্রী।

চলতি মাসের বেতন এ সপ্তাহের শেষেই পাবে, ব্যাংক অ্যাকাউন্টে চলে যাবে। এভাবে গত মাসেরটা এ মাসে এবং এই মাসেরটা আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহে পেয়ে যাবে শ্রমিকরা। এর মধ্যে তিন দিনের মধ্যে চূড়ান্ত হবে কে কতটা পাবেন ও সেটি শ্রমিকদের জানিয়ে দেয়া হবে।

“এটি সরকারি টাকা। মাঝে কোনো দালাল নেই। সব সুবিধাসহ প্রাপ্য টাকা শ্রমিকরা পাবেন। ২০১৫ সালের মজুরিও দেয়া হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী বলে দিয়েছেন শ্রমিকদের ঠকানো যাবেনা”।