চিতলমারীর সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে জমি দখলের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক.বাগেরহাট জেলার চিতলমারী উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান শামীমের বিরুদ্ধে ব্যবসায়ীর জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে। জোরপূর্বক বালু ভরাট ও ভবন নির্মানের এক পর্যায়ে জমির মালিক দাবিদার মোঃ জাহিদুল ইসলাম তাপসের অভিযোগে সোমবার (০৩ আগস্ট) চিলতমারী থানা পুলিশ কাজ বন্ধ করে দিয়েছেন।চিতলমারী উপজেলার কিসমত পিপড়াডাঙ্গা মৌজার কালিগঞ্জ বাজার সংলগ্ন উপর ৬০ শতক জমি নিয়ে এ বিরোধের সৃষ্টি হয়েছে।

অভিযোগকারী মোঃ জাহিদুল ইসলাম তাপস বলেণ, ১৯৫৫ সাল থেকে আমার দাদা নাজিম উদ্দিন শেখ কিসমত পিপড়া ডাঙ্গা মৌজার কালিগঞ্জ বাজার সংলগ্ন তিনটি স্থানের মোট ৬০ শতক জমি ভোগদখল করেন। দাদার মৃত্যুর পরে আমার্ পিতা আবুবকর শেখ ও চাচাগণ এই জমি যথারীতি ভোগ দখল করা শুরু করেন।কিন্তু ২০১৬ সালে হঠাৎ করে চিতলামী উপজেলা পরিষদের তৎকালীন চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান শামীম আমাদের জমির উপর বালু ফেলা শুরু করেন। আমরা বাঁধা দিলে বলেন সামান্যকিছু দিনের জন্য বালু গুলো থাকুক, পরে আবার নিয়ে যাব। কিন্তু তিনি বালু তো নেয় না, বরং আমাদের জমি দখলের পায়তারা শুরু করেন। পরবর্তীতে আমরা আদালতের সরনাপন্ন হলে আদালত ওই জমির উপর ১৪৪ ধারা জারি করেন। কিন্তু দখলবাজ মুজিবুর রহমান শামীম রাতের আধারে তার লোকজন নিয়ে জমিতে ঘর নির্মানের উদ্ধত হয়। আমরা বাঁধা দিলে মারপিটের ভয় দেখায়। চেয়ারম্যোনের কাছে গেলে বলে জমি তোমাদের, জমির কাগজ তোমাদের কিন্তু জমি তোমরা খেতে পারবা না। জমি ভোগদখল করব আমি।এক পর্যায়ে রেবিবার রাতে এসে ওই জমিতে আবারও ঘর নির্মান শুরু করেন চেয়ারম্যান ও তার লোকেরা। আমরা বাঁধা দিলে তারা আমাদের উপর চড়াও হন। পরে আমরা থানায় জানালে পুলিশ এসে কাজ বন্ধ করে দেয়। তার কাগজপত্র নিয়ে থানায় দেখা করতে বলেন।

অভিযোগকারী মোঃ জাহিদুল ইসলাম তাপসের ভাই জহিরুল ইসলাম বলেণ, চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান শামীম শুধু আমাদের জমি নয়। স্থানীয় অনেকের জমি জোর দখল করে ভোগ করছেন। অনেকের জমি দখলের জন্য হুমকী ধামকিও দিচ্ছেন। পৈত্রিক সম্পত্তি সুষ্ঠভাবে ভোগ দখল করার জন্য বাগেরহাট-১ আসনের সংসদ সদস্য শেখ হেলাল উদ্দিনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।

স্থানীয় আব্দুস সোবহান বালী বলেণ, আমি একজন হতদরিদ্র মানুষ। চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান শামীম জোর করে আমার ২২ শতক জমি ভোগ দখল করছেন। আমি কোথাও গিয়ে বিচার পাচ্ছি না।দেলোয়ারের জমিও দখল দিয়েছেন মুজিবুর রহমান শামীম।

ভ্যান চালক মোঃ ফারুক শেখ বলেন, ১৯৯৭ সাল থেকে বাজার সংলগ্ন ২৭ শতক জমিতে বাড়ি করে বসবাস করে আসছি। কিন্তু গেল বছর একটি রান্না ঘর তৈরি করতে গেলে চেয়ারম্যানের লোকেরা বাঁধা দেয়, বলে এই জমি চেয়ার‌ম্যান মুজিবুর রহমান শামীমের। পরে আমি আর রান্নাঘর তৈরি করতে পারিনি। যেখানে যাই কেউ তার উপরে কথা বলে না।

চিতলমারী থানার এসআই সঞ্জয় দে বলেন, মোঃ জাহিদুল ইসলাম তাপসের করা অভিযোগের ভিত্তিতে বিবাদপূর্ণ ওই জমিতে আমরা কাজ বন্ধ করে দিয়েছি। ৮ আগস্ট দুই পক্ষকে থানায় ডাকা হয়েছে। দুই পক্ষের সাথে কথা বলে শান্তিপূর্ণ সমাধানের চেষ্টা করব।

এসব বিষয়ে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান শামীমের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন নিউজ করার মত কোন ঘটনা ঘটেনি। জমির ব্যাপারে আমি কোন কথা বলব না।