ফকিরহাটে এসবিএসি ব্যাংকের ৭ম সাধারণ সভা

ফকিরহাট প্রতিনিধি.বাগেরহাটের ফকিরহাটে সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স (এসবিএসি) ব্যাংকের ৭ম বার্ষিক সাধারণ সভা চেয়ারম্যান এস. এম. আমজাদ হোসেনের সভাপতিত্বে মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট), ভার্চ্যুয়াল প্লাটফরমে অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় ব্যাংকের ভাইস চেয়ারম্যান ও খুলনা সিটি করপোরেশনের মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক, পরিচালক ক্যাপ্টেন এম. মোয়াজ্জেম হোসেন, আব্দুল কাদির মোল্লা, ইঞ্জিনিয়ার মোখলেসুর রহমান, বেগম সুফিয়া আমজাদ, আলহাজ্ব মিজানুর রহমান, মোহাম্মাদ নাওয়াজ, এজেডএম শফিউদ্দিন (শামীম), তাহমিনা আফরোজ, মো. আনোয়ার হোসেন, শেখ সাইদুজ্জামান, হাফিজুর রহমান বাবু, মোহাম্মদ আইয়ুব, মোঃ সাখাওয়াত হোসেন, স্বতন্ত্র পরিচালক ড. সৈয়দ হাফিজুর রহমান ও মো. সাজিদুর রহমানসহ শেয়ারহোল্ডাররা অংশ নেন। ছিলেন। সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন- ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী তারিকুল ইসলাম চৌধুরী। সভায় ২০১৯ সালের আর্থিক বিবরণী এবং শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ১০ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ ঘোষণা করা হয়।

ব্যাংকের চেয়ারম্যান এস. এম. আমজাদ হোসেন বলেন, ‘করোনা’ মহামারিতে ব্যবসা-বাণিজ্যের মন্দাভাব আর বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায় নেমে এসেছে অস্বাভাবিক স্থবিরতা। ইতোমধ্যে আইএমএফ পূর্বাভাস দিয়েছে যে বৈশ্বিক জিডিপি এই বছর ৪.৯% কমে যাবে, যদিও বিশ্বব্যাংক মনে কওে, বৈশ্বিক অর্থনীতি ৫.২ শতাংশ সংকুচিত হবে। দুঃখজনক হলেও সত্য যে, বাংলাদেশও এই বাস্তবতার বাহিওে নয়; বিশ্বেও অন্যান্য দেশেরমত ‘কোভিড-১৯’ এর ভয়াল থাবা এ দেশের অর্থনৈতিক, সামাজিক ও দৈনন্দিন জীবনেও ভয়ংকর স্থবিরঅবস্থা নিয়ে এসেছে। তিনি বলেন, বিগত বছরটি ব্যাংকিং খাতের জন্য ছিল অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং একটি বছর, সিঙ্গেল ডিজিট সুদহার কার্যকর করতে গিয়ে আমানত ও ঋণের সুদহার কর্তনসহ নানাবিধ পলিসি প্রবর্তন এবং নন-পারফর্মিং লোনের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা ব্যাংক-ব্যবসার ক্ষেত্রে প্রতিকূল পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে। উদ্বুত চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় এসবিএসি ব্যাংকের দক্ষ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। যার ফলশ্রুতিতে আমরা ভাল মুনাফা করতে পেরেছি। তিনি আরও বলেন, ব্যাংক একটি সেবামূলক প্রতিষ্ঠান, যা জনগণের কাছ থেকে অর্থ নিয়ে দেশের উন্নয়নে ভূমিকা পালন করে। সুতরাং গ্রাহকদের সন্তুষ্টির জন্য আমাদের সর্বদা সজাগ থাকতে হবে। আমাদের ম্যানেজমেন্ট গ্রাহকদের প্রয়োজন বুঝে সর্বাধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির সমন্বয়ে পণ্যের পসরা সাজিয়েছে।
ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও তারিকুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, বিগত বছরটি ব্যাংকিং খাতের জন্য ভিষণ চ্যালেঞ্জিং ছিল। ব্যবসায়-বাণিজ্যে মন্দা ও নন-পারফর্মিং লোনের ঊর্ধ্বমুখীপ্রবণতা ব্যাংক-ব্যবসার ক্ষেত্রে বেশ প্রতিকূল পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে। তা স্বত্ত্বেও আমাদেও ব্যাংক ২০১৯ সালে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক সূচকে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। ২০১৯ সালে ব্যাংকের পরিচালন মুনাফা হয়েছে ২২৭ কোটি টাকা, যা ২০১৮ সালের তুলনায় ১১.৫৭ শতাংশ বেশি। ২০১৯ সালে ব্যাংকের মোট সম্পদ দাঁড়ায় ৮ হাজার ৪৫৬ কোটি টাকা, যা ২০১৮ সালের তুলনায় ১৯ দশমিক ৬৮ শতাংশ বেশি। ২০১৯ সালে ব্যাংকের আমানত ছিল ৭ হাজার ১৫৪ কোটি টাকা; যা এর আগের বছরের তুলনায় প্রবৃদ্ধি ছিল ২০ দশমিক ৬৩ শতাংশ। ২০১৯ সালে ব্যাংকের নীট মুনাফা হয়েছে ৯৬.৭৬ কোটি টাকা এবং আর্নিং পার শেয়ার উন্নীত হয়েছে ১.৫৫ টাকায় বা ১৫.৫০ শতাংশ।