মোল্লাহাটে জমি দখল করতে চাচাতো ভাইদের হামলা ও মিথ্যে মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগ

মোল্লাহাট প্রতিনিধি. বাগেরহাটের মোল্লাহাট উপজেলার দক্ষিন গাফরা গ্রামের মোস্তফা শেখ, হাফিজ শেখসহ তার ভাইদের বিরুদ্ধে জমি দখল করার জন্য আপন চাচা ও চাচাতো ভাইদের উপর হামলা ও বিভিন্ন ভাবে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। নির্যাতিত কেরামত শেখ ও তার সন্তানরা এমনই অভিযোগ করেছেন বেলায়েত শেখ ও তার সাত ছেলের বিরুদ্ধে।
কেরামত শেখ বলেন, মোল্লাহাট উপজেলার বোয়ালিয়া বাজার সংলগ্ন খুলনা-মাওয়া মহাসড়কের পাশে আমাদের ৫৪ শতক জমি রয়েছে। ৩৫ বছর ধরে আমরা জমিটি ভোগ দখল করে আসছি। কিন্তু হঠাৎ করে আমার বড় ভাই বেলায়েত শেখ ও তার ছেলেরা আমার জমি দখল করার জন্য ওঠেপরে লেগেছে। আমাকে ও আমার পরিবারকে নানাভাবে হুমকী ধামকী দিচ্ছে। আমাকে ধরে রেজিষ্ট্রি অফিসে নিয়ে জোর করে এই সম্পত্তি দলিল করে নেওয়ার ঘোষনাও দিয়েছে। আমাকে এবং আমার ছেলেদের মারধরও করেছে। আমার ভাই ও ভাতিজাদের অত্যাচারে আমি এখন পালিয়ে বেড়াচ্ছি। আমি আমার ও পরিবারের সকলের জীবনের নিরাপত্তা চাই।
কেরামত শেখের ছোট ছেলে হাফেজ জহিরুল ইসলাম বলেন, আমার চাচা বেলায়েত শেখের সাত ছেলের মধ্যে ৬জনই বিদেশে ছিল। তারা এলাকার খুবই প্রভাবশালী। আমাদের জমি দখল করার জন্য আমার বাবা ও আমাকে কয়েক বার মার ধর করেছে। আমার চাচাতো ভাই মোস্তফা শেখ ও হাফিজ শেখ আমাকে বালুর মধ্যে মাথা চেপে ধরে মেরে ফেলার চেষ্টাও করেছে। ঘর তৈরির জন্য আনা ইট, বালু ও রড খালের মধ্যে ফেলে দিয়েছেন। আমরা পুলিশকে জানালেও তেমন কোন প্রতিকার পাইনি।
কেরামত শেখের স্ত্রী জাহানারা বেগম বলেন, আমার ভাসুরের ছেলেরা আমাদের নামে কয়েকটি ষড়যন্ত্রমূলক মামলা দিয়েছেন। বাড়ি করার জন্য ক্রয় করা সাড়ে তিন লক্ষ টাকার মালামাল খালে ফেলে দিয়েছে। মোস্তফা, হাফিজ ও তাদের ভাইদের অত্যাচারে আমার ছেলে আরিফের স্ত্রী লাজিদা বেগম ও তরিকের স্ত্রী হেনা বেগম বাড়ি ছেড়ে চলে গেছে। আমার স্বামী বিভিন্ন এলাকায় পালিয়ে বেড়াচ্ছে। আমার স্বামীকে পেলে তাকে ধরে রেজিষ্ট্রি অফিসে নিয়ে জমি দলিল করে নিবে। জমি দলিল করে না দিলে মেরে ফেলারও হুমকী দিয়েছে। আমরা শান্তিতে বসবাস করতে চাই। স্বামী সন্তান নিয়ে শান্তিতে বসবাস করার ব্যবস্থা করে দেওয়ার দাবি জানান এই নারী।