প্রথমদিনই দর্শনার্থীদের ভিড় বিশ্ব ঐতিহ্যষাটগম্বুজ মসজিদে

মো. শহিদুল ইসলাম. করোনা পরিস্থিতিতে প্রায় ৬ মাস পর দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়ার প্রথম দিনেই ভিড় ছিল বিশ্ব ঐতিহ্য ষাটগম্বুজ মসজিদে। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে বিভিন্ন জেলা শহর থেকে দর্শনার্থীরা আসতে শুরু করে ষাটগম্বুজ মসজিদে। তবে সামাজিক দূরত্বে ও স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে সচেষ্ট ছিলেন প্রতœতত্ত্ব অধিদপ্তর কর্তৃপক্ষ।

দীর্ঘদিন পরে ষাটগম্বুজে স্ব-শরীরে প্রবেশ করতে পেরে খুশি দর্শনার্থীরা। দীর্ঘদিন পরে দর্শনার্থী প্রবেশ করায় আনন্দিত স্থানীয় বাসিন্দা ও ষাটগম্বুজ কর্তৃপক্ষ।

বুধবার সকাল দশটায় প্রধান ফটকের মধ্যে টিকিট কাউন্টার খোলা হয়্।টিকিট কেটে বিভিন্ন জেলার দর্শনার্থীরা প্রবেশ করতে থাকেন।ভেতরে প্রবেশ করে শিশুরা বিভিন্ন রাইডে চড়েন। প্রধান ফটক থেকে ঢুকেই ডান পাশে অবস্থিত বাগেরহাট যাদুঘরে বিভিন্ন প্রতœতাত্ত্বিক নিদর্শণ দেখেন দর্শনার্থী। তারপরে ষাটগম্বুজ মসজিদের ভিতর ও বাইরের নয়নাভিরাম টেরোকাটা উপভোগ করেন তারা। ষাটগম্বুজ মসজিদ চত্বরে ফোটা নানা রঙ্গের ফুল  ও ঘোড়া দিঘিতে পদ্মফুল যেন দর্শনার্থীদের আরও বেশি বিমোহিত করেছে। দীর্ঘদিন পরে আজ প্রথম ষাটগম্বুজ মসজিদ উন্মুক্ত হওয়ায় এক নতুনমাত্রা যোগ হয়েছে।দর্শনার্থীদের মধ্যে এক ধরণের উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ করা গেছে।

দর্শনার্থীরা জানান, করোনা পরিস্থিতির কারণে ষাটগম্বুজ বন্ধ ছিল। আজ সকালে খোলায় আমরা এখানে এসেছি।প্রথমে গেটের সামনে রাখা হাত ধোয়ার পানি ও সাবান দিয়ে হাত ধুয়েছি।টিকিট কেটে ভিতরে প্রবেশ করেছি। মাস্ক ছাড়া কাউকে ষাটগম্বুজের ভিতর প্রবেশ করতে দেয়নি। এটা খুবই ভাল লেগেছে আমাদের।

গাজীপুর থেকে আসা হৃদয় হাসান বলেন, দীর্ঘদিন ঘরবন্ধি থাকায় বাইরে ঘুরতে বের হয়েছি। সকালে ষাটগম্বুজ মসজিদ প্রাঙ্গন ঘুরে প্রতœতাত্তিক নিদর্শন দেখে খুবই ভাল লাগছে। আমরা জানতাম না যে ষাটগম্বুজ মসজিদ বন্ধ ছিল।প্রবেশ গেটে এসেই হানতে পারলাম যে আজ প্রথম খুলেছে এই বিশ্ব ঐতিহ্য ষাটগম্বুজ মসজিদ। ষাটগম্বুজে প্রবেশ করতে পেরে আমি খুবই আনন্দিত।

মাগুরা থেকে আসা উম্মে কুলসুম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ইচ্ছে ছিল ষাটগম্বুজে আসব। কাল রাতে সংবাদদেখলাম বুধবার সকাল থেকে দর্শনার্থীদের জন্য ষাটগম্বুজ উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে।নিউজটি দেখেই সিদ্ধান্ত নেই সকালে বাগেরহাট যাব ষাটগম্বুজ দেখতে। তাই চলে আসলাম। ষাটগম্বুজ মসজিদ ও বাগেরহাট যাদুঘর দেখে আমি অবিভুত হয়েছি। সত্যিই অনেক স্থাপত্য শিল্পের অনন্য নিদর্শণ ষাটগম্বুজ মসজিদ।

স্থানীয় লুৎফর রহমান বলেন, আসলে ষাটগম্বুজ মসজিদ আমাদের একটি গর্বের জায়গা। করোনা পরিস্থিতিতে মার্চ থেকে এখানে দর্শনার্থী প্রবেশ নিষিদ্ধ ছিল। আমাদের মনের মধ্যে একটি চাপা কষ্ট ছিল। আজ অনেক ভাল লাগছে।

প্রতœতত্ত্ব অধিদপ্তর বাগেরহাটের কাস্টোডিয়ান গোলাম ফেরদাউস বলেন, করোনা পরিস্থিতিতে ১৯ মার্চ থেকে বন্ধছিল প্রাণের ষাটগম্বুজ মসজিদ। সংস্কৃত বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে আজকে আমরা ষাটগম্বুজ মসজিদ উন্মুক্ত করে দিয়েছি। প্রথম দিনেই অনেক দর্শনার্থী প্রবেশ করেছে। আশা করছি কয়েকদিনের মধ্যেই দর্শনার্থীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে। আমরা আশা করব দর্শনার্থীরা স্বাস্থ্যবিধি মেনে ষাটগম্বুজ ক্যাম্পাসে প্রবেশ করবেন।