দাদা ও বাবার পরে উপজেলা চেয়ারম্যান শরণখোলার শান্ত

আলী আকবর টুটুল, বাগেরহাট. দাদা নাছির উদ্দিন আকন ও বাবা কামাল উদ্দিন আকনের পর শরণখোলা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হলেন রায়হান উদ্দিন শান্ত। মাত্র ৪০ বছর বয়সে উপজেলার শীর্ষ জনপ্রতিনিধি হওয়ায় সাধুবাধ জানিয়েছেন স্থানীয়রা।জীবনের প্রথমবারের মত উপজেলা পরিষদ নির্বাচন করে বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়ে বাবার স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন শান্ত। রায়হান উদ্দিন শান্ত‘র পিতা কামাল উদ্দিন আকন শরণখোলা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ছিলেন।কামাল উদ্দিন আকন ২০০৯ সালের মার্চ মাসে শরণখোলা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ২০১৯ সালের ৫ ডিসেম্বর মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি উপজেলা চেয়ারম্যান ছিলেন। শরণখোলা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবেও দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেছেন কামাল উদ্দিন আকন। শান্ত‘র দাদা মরহুম নাছির উদ্দিন আকনও শরণখোলা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ছিলেন। তিনি এরশাদ সরকারের আমলে শরণখোলা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। নব নির্বাচিত উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান রায়হান উদ্দিন শান্ত বলেন, শরণখোলাবাসী বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রতিক নৌকায়ে সর্বোচ্চ ভোট দিয়ে বিজয়ী করেছেন।আমি শরণখোলাবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞ। আমি নির্বাচনের আগে শরণখোলাবাসীকে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছি, তা পালন করার সর্বাত্মক চেষ্টা করব। শান্ত আরও বলেন, আমার দাদা নাছির উদ্দিন আকন ও বাবা কামাল উদ্দিন আকন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন। তারা সব সময় এলাকাবাসীর সেবা করেছেন।মানুষের সেবা করাই ছিল আমার বাপ-দাদার ব্রত।আমিও আমৃত্যু উপজেলার সকল মানুষের সেবা করতে চাই। বিএনপি, আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি সকল রাজনৈতিক দলের কর্মীদের নিরাপদে বসবাসের নিশ্চয়তা প্রেদান করছি।মাদক, বাল্য বিবাহ, যৌতুক ও দূর্নীতির বিরুদ্ধে কাজ করে যাওয়ার ইচ্ছা পোষন করেন তিনি।শরণখোলা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আজমল হোসেন মুক্তা বলেন, নব নির্বাচিত উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান রায়হান উদ্দিন শান্ত জন্মগতভাবে রাজনৈতিক পরিবারের সদস্য। তার বাবা ও দাদা জন প্রতিনিধি ছিলেন। আজকের নির্বাচনের মধ্য দিয়ে তিনিও উপজেলার শীর্ষ জনপ্রতিনিধি হলেন। আমরা আশা করি বাবা ও দাদার মত তিনিও উপজেলার মানুষের সেবা করবেন।

মঙ্গলবার বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার পরিষদের চেয়ারম্যান পদে উপ-নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী রায়হান উদ্দিন শান্ত নৌখা প্রতিকে ৫৬ হাজার ১‘শ ৮৮ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন।তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দী জাতীয় পার্টির এ্যাড. মোঃ শহিদুল ইসলাম লাঙ্গল প্রতিকে পেয়েছেন ৭‘শ ৬৭ ভোট ও বিএনপি মনোনীত মতিয়ার রহমান খান ধানের শীষ প্রতিকে ৬‘শ ৭৩ ভোট পেয়ছেন। শরণখোলা উপজেলা মিলনায়তনে নির্বাচনী নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে বাগেরহাট জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও উপ-নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা ফরাজী বেনজীর আহমেদ এই ফলাফল ঘোষনা দেন।