আধুনিক মোরেলগঞ্জ পৌরসভা গড়া ও মাদক নির্মুলের চ্যালেঞ্জ-মেয়র মনি

নিজস্ব প্রতিবেদক. আধুনিক পৌরসভা গড়া ও মাদক নির্মুলের চ্যালেঞ্জ দিয়েছেন মোরেলগঞ্জ পৌরসভায় চতুর্থবারের মত নির্বাচিত মেয়র এসএম মনিরুল ইসলাম তালুকদার।আগামী পাঁচ বছরে নাগরিক সেবা নিশ্চিত করাসহ মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজ নির্মুলে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দেন মেয়র। একান্ত আলাপচারিতায় এ প্রতিবেদকের কাছে পৌরবাসীর সুযোগ সুবিধা ও নানা উন্নয়ন পরিকল্পনার বিষয় তুলে ধরেন মেয়র মনিরুল ইসলাম।

মেয়র মনি বলেন, দীর্ঘদিন মোরেলগঞ্জ পৌরবাসীর সেবা করেছি।পৌরবাসী ভালবেসে এবারের নির্বাচনে আমাকে বিনাপ্রতিদ্বন্দীতায় নির্বাচিত করেছেন।এর আগে পৌরবাসীর ভোটে আমি তিনবার মেয়র নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব পালন করছি।পৌরবাসীর প্রতি আমি কৃতজ্ঞ।মোরেলগঞ্জ পৌরবাসীর সেবাই আমার একমাত্র ব্রত।পৌরসভার ভৌত অবকাঠামো উন্নয়ন ও নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে আগামী পাঁচ বছর পৌরপরিষদ ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধি নিয়ে কাজ করার আশা ব্যক্ত করেন তিনি। মোরেলগঞ্জ পৌরসভার ভৌগলিক অবস্থান সম্পর্কে মেয়র বলেন, আমার জানামতে বাংলাদেশের একমাত্র পৌরসভা মোরেলগঞ্জ যেখানে বিশাল একটি নদীর একপাশে ৭টি ওয়ার্ড অন্য পাশে দুইটি ওয়ার্ড। পানগুছি নদী আমার এই পৌরসভাকে দুই ভাগে ভাগ করেছে।

মোরেলগঞ্জ উপজেলা সদরে ১ থেকে ৭টি এবং পানগুছি নদী পাড় হয়ে ৮ও৯ নং ওয়ার্ড অবস্থিত। যার ফলে এই পৌরসভার সুষম উন্নয়ন করা অনেকটা কষ্ট সাধ্য।তারপরও দুই প্রান্তে সমানভাবে নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছি। মোরেলগঞ্জ পৌরসভা এলাকায় মাদক ক্রয়-বিক্রয় ও সেবনের বিষয়ে মেয়র এসএম মনিরুল ইসলাম তালুকদার আক্ষেপ করে বলেন, মাদক সেবন ও ক্রয় বিক্রয়ের সাথে রাজনৈতিক নেতা কর্মীরা জড়িয়ে পড়ছে। আমি সকল কাউন্সিলর প্রার্থীদের সাথে কথা বলেছি।আমি স্থানীয়দের সাথেও কথা বলব। পুলিশ প্রশাসন ও স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে আগামীতে মোরেলগঞ্জ পৌরসভা এলাকাকে মাদকমুক্ত করব ইনশা-আল্লাহ।

আগামী পাঁচ বছরের পরিকল্পনার বিষয়ে মেয়র বলেন, মোরেলগঞ্জ পৌরসভায় অনেক কাজ শুরু হয়েছে।রুপা চৌধুরী সড়ক, শেখ হেলাল উদ্দিন সড়ক, শেখ তন্ময় চত্বর, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান চত্বর নির্মানসহ নানা উন্নয়ন কাজ শুরু হয়েছে। এর পাশাপাশি উন্নত ড্রেনেজ ব্যবস্থা, পৌরশহরের রাস্তাঘাট ও সুপেয় পানি সরবরাহের ক্ষেত্রে নানা পরিকল্পনা রয়েছে। মেয়র আরও বলেন, ১৯৯৮ সালে পৌরসভা সৃষ্টি হওয়ার পরে ২০০৪ সাল পর্যন্ত পৌরসভার রাস্তাঘাট ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো খুবই নাজুক ছিল।জীর্ণ অবস্থা ছিল এই পৌরসভার। এখন অনেক ভালো অবস্থায় আছে প্রাণের পৌরসভা। আমি নির্বাচিত হয়ে এসব উন্নয়ন করেছি। রাস্তাঘাট নির্মান, পোল কালভার্ট তৈরিসহ মোরেলগঞ্জ পৌরসভার ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। পাশাপাশি নাগরিক সুবিধাও বৃদ্ধি পেয়েছে। ভবিষ্যতে এই ধারা অব্যাহত থাকবে।এটি এখন প্রথম শ্রেণীর পৌরসভায় রূপান্তরিত হয়েছে।পৌরসভার নাগরিকরা প্রথম শ্রেণির সেবা পাবে বলে প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

পানগুছি নদীতে সেতু নির্মান সম্পর্কে মেয়র মনিরুল ইসলাম বলেন, দক্ষিন বাংলার রাজনীতির সিংহ পুরুষ সংসদ সদস্য শেখ হেলাল উদ্দিন এবং বাগেরহাট-৪ আসনের সংসদ সদস্য কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ নেতা এ্যাড. আমিরুল আলম মিলনও কথা দিয়েছেন এই নদীতে সেতু নির্মান হবে।এই সেতু হবে প্রায়ত সংসদ সদস্য ডা. মোজাম্মেল হকের নামে।এ বছরেই হয়ত ব্রিজ নির্মানের জন্য দরপত্র আহবান করা হতে পারে।পানগুছি নদীতে সেতু নির্মানের সাথে শুধু মোরেলগঞ্জ-শরণখোলা উপজেলা নয় সমগ্র দক্ষিনাঞ্চলের আর্থিক সম্পর্ক জড়িত। বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবন কেন্দ্রীক পর্যটন শিল্পের বিকাশে এই সেতু অগ্রনী ভূমিকা পালন করবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। ২০২১ সালের ৩০ জানুয়ারি মোরেলগঞ্জ পৌরসভার নির্বাচন সম্পূর্ণ হয়। ২৭ ফেব্রুয়ারি খুলনা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে শপথ গ্রহন করেন মেয়র ও নির্বাচিত কাউন্সিলরগন।#