বাগেরহাটে লকডাউনের দ্বিতীয় দিন. কঠোর প্রশাসন,চলছে আটক ও জরিমানা

নিজস্ব প্রতিবেদক. সরকার ঘোষিত ঈদের পরের কঠোর লকডাউনের দ্বিতীয় দিনে ফাঁকা রয়েছে বাগেরহাটের সড়ক, মহাসড়কসহ বিভিন্ন শহর, বাজার-ঘাট।লকডাউন বাস্তবায়ন ও মানুষকে ঘরে রাখতে জেলা-উপজেলা প্রশাসনও রয়েছে কঠোর অবস্থানে।পুলিশের পাশাপাশি সেনাবাহিনী ও বিজিবি সদস্যরাও টহল দিচ্ছে, শহর থেকে গ্রামে।ভ্রাম্যমান আদালত বসিয়ে তাৎক্ষনিকভাবে জরিমানার পাশাপাশি অটোরিকশা ও ইজিবাইকও আটক করা হচ্ছে।

শনিবার (২৪ জুলাই) দুপুরে বাগেরহাট শহরের প্রাণকেন্দ্র জনাকীর্ণ সাধনার মোড়, রাহাতের মোড়, মিঠাপুকুর, রেলরোড, আলী মাদরাসা মোড়, মা ও শিশু কল্যান কেন্দ্র মোড়সহ বেশিরভাগ স্থানই ছিল জন শূন্য। তবে কিছু মানুষ কোন কাজ ছাড়াই বাইরে লকডাউন দেখতে বাইরে এসেছেন। জরিমানাও গুনেছেন ভ্রাম্যমান আদালতের কাছে। জরুরী প্রয়োজনে দূর-দুরান্তের যাওয়ার জন্য বাড়ির বাইরে এসে যানবাহন না পেয়ে বিপাকে পড়েছেন অনেকে।কেউ হেটে রওনা দিয়েছেন গন্তব্যে। কেউ আবার অতিরিক্ত ভাড়ায় ঝুকি নিয়ে যাচ্ছেন মোটরসাইকেলে।

এদিন সকালে বাগেরহাট সদর উপজেলার বৈটপুর বাজার এলাকায় বাগেরহাট-পিরোজপুর সড়ক দিয়ে দুই ব্যাগ হাতে নিয়ে হেটে পিরোজপুরের দিকে যাওয়া যুবক রফিকুল ইসলাম সাজিদ বলেন, ঈদের আগের দিন বাড়িতে এসেছিলাম।যেকোনভাবে সকাল দশটার মধ্যে স’মিলে পৌছাতে হবে।পৌছাতে না পারলে একদিনের বেতন কাটা যাবে। তাই হেটেই রওনা দিয়েছি। কেন্দ্রীয় বাসস্ট্যান্ড থেকেও বিভিন্ন লোককে হেটে গন্তব্যে যেতে দেখা যায়। অনেক চাকুরীজীবীও হেটে গন্তব্যে যাচ্ছিলেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সরকারি কর্মচারী বলেন, সরকারের ঘোষনা অনুযায়ী ঈদের ছুটিতে কর্মস্থল ত্যাগ নিষেধ ছিল। কিন্তু আমরা ছোট কর্মচারী তিন-চার দিন খুলনায় থেকে করব কি। তাই বাড়িতে আসছিলাম। এখন হেটে রওনা দিয়েছি। পথে-ঘাটে ভ্যান-অটোরিকশা যা পাব তাতেই চলে যাব।এভাবে অনেককেই হেটে গন্তব্যে পৌছাতে দেখা গেছে। অন্যদিকে লকডাউনে কাজ করতে না পেরে অসহায় অবস্থায় পড়েছেন দিনমজুর, রিকশা, ইজিবাইক ও ভ্যানচালকসহ নিম্ন আয়ের মানুষেরা।

ইজিবাইক চালক আবুল কালাম বলেন, লকডাউনের মধ্যে পেটের দায়ে রাস্তায় বের হয়েছিলাম। যাত্রী নামিয়ে ইজিবাইক আটকে রেখে দিয়েছেন স্যাররা। রাতে ছাড়বেন। এর পরে লকডাউনের মধ্যে বাইরে আসলে লকডাউনের পরে গাড়ি ছাড়বে বলেছেন। আমরা তো পেটের দায়ে বের হয়েছি। কি খাব এখন আমরা। রিকশা চালক পলাশ বলেন,রিকশা চালাইয়া খাই আমরা।পোলা-পানতো আর লকডাউন বোঝেনা। তাই রিকশা নিয়ে বের হয়েছি। পুলিশের চোখ ফাকি দিয়ে, যতক্ষন পারি চালাই। পুলিশের সামনে পরলে অন্য রাস্তায় চলে যাই। এভাবে যা পাই তাই দিয়ে চলে আমার পরিবার।

বাগেরহাটের পুলিশ সুপার কেএম আরিফুল ইসলাম বলেন, সরকার ঘোষিত লকডাউন বাস্তবায়নে পুলিশ কঠোর অবস্থানে রয়েছে। বিভিন্ন স্থানে চেকপোস্ট রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ ও জনাকীর্ণ স্থানে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। কয়েকটি ভ্রাম্যমানটিমও টহল দিচ্ছে লকডাউন করতে। গেল ২৪ ঘন্টায় আমরা বিভিন্ন ধরণের অর্ধশতাধিক যানবাহনকে আটক করেছি। লকডাউন যতদিন চলবে ততদিন পুলিশ কঠোর অবস্থানে থাকবে।বাগেরহাট জেলার বিভিন্ন মহাসড়কে ইজিবাইক, অটোরিকশা, নসিমন-করিমন বন্ধেও কাজ করছে পুলিশ বলে জানান এই কর্মকর্তা।

 

বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক মোহাম্মাদ আজিজুর রহমান বলেন, করোনা সংক্রোমন রোধে আমরা সব ধরণের ব্যবস্থা নিয়েছি। সচেতনতার পাশাপাশি লকডাউন বাস্তবায়নে আমরা ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযানও পরিচালনা করছি। ঈদের পরে ঘোষিত লকডাউনের প্রথম দিনে আমরা ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে ৪৮টি মামলা ৫২ জনকে ৩৬ হাজার ৩০০ টাকা জরিমানা করেছি। এর পাশাপাশি আমরা মাস্ক বিতরণ ও সচেতনা বৃদ্ধির জন্য মাইকিংও করছি। নিম্ন আয়, দিন মজুর ও বিশেষ শ্রেণি পেশার মানুষের মাঝে খাদ্যও বিতরণ করা হচ্ছে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে। করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এই ধরণের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলেও জানান জেলারএই শীর্ষ কর্মকর্তা।