কাল বৈশাখীর তান্ডবে দুবলাসহ ৪টি চরের শুঁটকী খাতে অর্ধ-কোটি টাকার ক্ষতি

বাবুল দাস:
কাল বৈশাখীর তান্ডবে বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলাধীন বঙ্গোপসাগরের তীরবর্তী দুবলাসহ চারটি চরের শুঁটকী পল্লীতে শুঁটকী মাছের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। শুঁটকি শুকানো চালনি শুঁটকিসহ উড়ে গিয়ে এবং বৃষ্টির পানিতে ভিজে ওই চরগুলির মৎস্য ব্যবসায়ীদের অন্ততঃ অর্ধ-কোটি টাকার ক্ষতি সাধিত হয়েছে। এদিকে, সাগরে ঢেউয়ের কবলে পড়ে ১টি ট্রলার ডুবে গেছে এবং অপর ৫ জেলেসহ ১টি ট্রলার নিখোঁজ রয়েছে। এছাড়া, ঘূর্নিঝড়ে শরণখোলায় অন্ততঃ ২২/২৩টি ঘর বিধ্বস্ত ও বেশ কিছু গাছপালা উপড়ে পড়েছে।
দুবলা ফিসারম্যান গ্রুপের সাধারন সম্পাদক কামাল উদ্দিন জানান, সোমবার ভোরে দুবলা, আলোরকোল, শেলা, মাঝের কিল্লা, ও নারিকেলবাড়িয়া চরে সাড়ে ৮’শ শুঁটকি ব্যবসায়ী রয়েছে। হঠাৎ বয়ে যাওয়া ঘূর্নিঝড়ে ওই ব্যবসায়ীদের শুঁটকি শুকানো চালনিসহ শুটকি মাছ উড়ে গেছে। বৃষ্টির পােিনত ভিজে ব্যাপকভাবে নষ্ট হয়েছে শুকানো মাছ। এছাড়া, চরগুলিতে ব্যবসসায়ীদের গড়ে তোলা অস্থায়ী ঘরেরও বেশ ক্ষতি হয়েছে। তার মতে, চারটি চরে ব্যসায়ীদের শুঁটকি খাতে ৫০ থেকে ৬০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া, চরের ব্যবসায়ীদের একটি ট্রলার ৫জন জেলেসহ ডুবে গেলেও তাদেরকে অপর জেলেরা উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে এবং অপর ১টি ট্রলার ৫ জেলেসহ এখনো (সন্ধ্যা ৭টা) নিখোঁজ রয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন।
বনবিভাগের দুবলা অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ রেজাউল হক ক্ষক্ষতির কথা স্বীকার করে জানান, কাল বৈশাখী ঝড়ে চরগুলির অর্ধ-কোটি টাকার শুঁটকি মাছের ক্ষতি হয়েছে।
এদিকে, শরণখোলার রায়েন্দা ইউপি চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান মিলন জানান, মালিয়া গ্রামের গৌড়াঞ্জ মিস্ত্রিী ও উত্তর কদমতলা গ্রামের সোবাহান মুন্সীর ঘর এবং বগী ওয়ার্ড যুবলীগের সাধারন সম্পাদক আবু সালেহ্ জানান, ঝড়ে বগী বন্দরের মজিবর হাওলাদার, পান্না ফরাজী, আলী মাঝি আবু সালেহ্ ও বেলাল মাঝির ঘর বিধ্বস্ত হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিংকন বিশ্বাস জানান, ঝড়ে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ঘরবাড়ি ও গাছপালার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে, এখনো তার সঠিক তথ্য পাওয়া যায়নি।