বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দূর্নীতির অভিযোগ

অনিয়ম ও দূর্নীতির অভিযোগে বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। রবিবার বিকেলে বাগেরহাট সিভিল সার্জন ডা. জিকেএম সামসুজ্জামান ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা.পুলক দেবনাথকে প্রধান করে তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেন। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন, চিতলমারী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আলমগীর হোসেন ও বাগেরহাট সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোশারফ হোসেন। দশ কার্য্যদিবসের মধ্যে কমিটিকে ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগের বিষয়ে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোঃ মঞ্জুরুল আলম টাকার বিনিময়ে রোগীদের অপারেশন করেন, ঔষধের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি, পরিস্কার পরিচ্ছন্নতায় বরাদ্দ টাকা আত্মসাত, কোয়াটার ষ্টাফদের কাছে ভাড়া দিয়ে অর্থ আদায়সহ নানা অনিয়ম করেন তিনি। এসব কারণে স্বাস্থ্য সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে উপজেলার লোকজন।
অন্যদিকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে ষ্টাফ কোয়াটারে ভাড়া দিয়ে থাকা এক সেবিকা জানান, ২০১৮ সালের নভেম্বর থেকে মাসে ১৫‘শ টাকা ভাড়া দিয়ে থাকি। স্যার (উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা) বলেছেন পরে সব ঠিক করে দিবে। একইভাবে ওই কোয়াটারে ৪র্থ শ্রেণির এক কর্মচারী মাসে ৫‘শ টাকা ভাড়া দিয়ে থাকেন। এছাড়াও কয়েকজন সেবিকা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার কাছে মাসিক ভাড়া দিয়ে ডরমেটরিতে থাকেন।
পা কাটা রোগী কাওসার শিকদার বলেন, হাসপাতাল থেকে মাত্র একটি ট্যাবলেট দেয় প্রতিদিন। অন্য সব ঔষধ বাইরে থেকে কিনতে হচ্ছে, ৫ দিনে ২৬‘শ টাকার ঔষধ কিনেছি। সরকারি হাসপাতালে টাকা ছাড়া চিকিৎসা হয় না এটাই তার প্রমান।
গিমটাকাঠি গ্রামের শ্বাস কষ্টের রোগী চিত্তরঞ্জন সাহা বলেন, সকালে সাড়ে ৩‘শ এবং রাতে ৩‘শ ৮০ টাকার ঔষধ ক্রয় করেছি। সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসে যদি এত ঔষধ ক্রয় করতে হয় তা হলে আমরা গরীব মানুষ কোথায় যাব।
এসব বিষয়ে সেবিকারা বলেন, চিকিৎসকরা ব্যবস্থাপত্র দেন, সে অনুযায়ী আমরা ঔষধ সরবরাহ করি। উপর পর্যন্ত আমাদের কোন হাত থাকে না, তাদের নির্দেশেই চলতে হয়।সবই তো আপনারা বোঝেন।
চালিতাখালী এলাকার এ্যাপান্ডিসের রোগী কারিমুনের মা শাহিনুর বেগম বলেন, গরীব মানুষ তাই সরকারি হাসপাতালে এসেছি। কিন্তু এখানেও মেয়েকে অপারেশন বাবদ দুই হাজার টাকা দিয়েছি, অনেক কষ্ট করে।
রোগী আশা শীলের পিতা কার্তিক শীল বলেন, দুই হাজার টাকা দিয়ে মেয়েকে এ্যাপান্ডিসের অপারেশন করিয়েছে। ঔষধও আমাদের নিজেদের টাকা দিয়ে ক্রয় করতে হয়েছে।
সকল অভিযোগ অ¯^ীকার করে কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোঃ মঞ্জুরুল আলম বলেন, চিকিৎসক সংকট পূরণের জন্য সরকার কাজ করছে। আমরা রোগীদের জন্য পর্যাপ্ত ঔষধ পাই। যা পাই তা রোগীদের দেই।
তবে বাগেরহাট সিভিল সার্জন ডা. জিকে সামসুজ্জামান বলেন, ‘কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোঃ মঞ্জুরুল আলমের অনিয়মের বিষয়টি ক্ষতিয়ে দেখতে তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পরে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।