নির্ঘুম রাত কেটেছে লাখো মানুষের, উপকূলে বাড়ছে সচেতনতা

আলী আকবর টুটুল
নির্ঘুম রাত কেটেছে ঘূর্ণিঝড় ফণী আতঙ্কে বাগেরহাটসহ উপকূলের লাখো মানুষের। সেই সাথে বেড়েছে সাধারণ মানুষের সচেতনতা। ২০০৭ সালের ১৫ নভেম্বর সুপার সাইক্লোন সিডরের দিনে ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেতের পরও নিরাপদ স্থানে যায়নি শরণখোলা ও মোরেলগঞ্জের মানুষ। যার ফলে ঘটেছিল হাজারও মানুষের প্রাণহানি। সময়মত নিরাপদ আশ্রয়ে গেলে হিসেব অন্য হতে পারত। তবে এবার ফণীর প্রভাবে উপকূলীয় অঞ্চলে ৭ নম্বর বিপদ সংকেত ও প্রশাসনের নানা প্রস্তুতির কারণে স্ব-স্ব উদ্যোগে আশ্রয়কেন্দ্রে ছুটেছেন লাখ মানুষ। এমনকি গবাদি পশুসহ প্রয়োজনীয় গুরুত্বপূর্ণ মালামালসহ নিরাপদ আশ্রয়ে গেছেন তারা।
শনিবার সকালে উপকূলীয় শরণখোলা এলাকায় সংবাদ সংগ্রহের কাজে যাওয়ার পথে চোখে পড়ে মোরেলগঞ্জ উপজেলার দোনাগ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয় কাম সাইক্লোন শেল্টার। সেখানে আশ্রয়কেন্দ্রের নিচতলায় গরু, ছাগল, হাস-মুরগী এবং দোতলায় নারী-পুরুষ, শিশু-বৃদ্ধসহ পরিবার পরিজন নিয়ে নির্ঘুম রাত কেটেছে অনেকের।

১৫ দিনের শিশু বাচ্চা নিয়ে আশ্রয়কেন্দ্রে আসা পিয়ারা বেগম বলেন, সিডরের সময় গাছপালা ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। আহত হয়েছি। কিন্তু ঘূর্ণীঝড় ফনির কথা শুনে, নিজেদের রক্ষা করতে শুক্রবার বিকেলেই পরিবারের সকলকে নিয়ে আশ্রয় কেন্দ্রে চলে আসছি। তবে সারারাত ঘুম না আসলেও ঝড় থেকে আল্লাহ রহমত করেছেন আমাদের।
বাদশা খানা বলেন, শুক্রবার বিকেলে গোয়ালের গরু ও হাস-মুরগি নিয়ে আশ্রয় কেন্দ্রে এসেছি। নিচতলায় গবাদীপশু রেখে নিজেরা দোতলায় আশ্রয়ে ছিলাম। এখানে প্রতিবন্ধি, অসুস্থ্য, বয়স্ক মানুষ ও শিশুদের সংখ্যা ছিল বেশি। তবে আশ্রয়কেন্দ্রে বাতরুম ও পানির প্রচন্ড রকম সংকট ছিল। তারপরও ঝড় থেকে রক্ষা পেয়েছি, এতেই খুশি।
স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন জাগ্রত যুব সংঘের প্রতিনিধি আব্দুল মালেক বলেন,‘সিডরের পর উপকূলের কয়েকটি উপজেলায় দূর্যোগ মোকাবেলায় পূর্ব ও পরবর্তী করণীয় বিষয়ে বিভিন্ন সময় আমরা মানুষকে প্রশিক্ষন প্রদান ও সচেতনতা বৃদ্ধির চেষ্টা করেছি। এবার ঘূর্ণিঝড়ের মোকাবেলায় প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী নানারকম প্রচারণা চালিয়েছি। মানুষ সতস্ফুর্তভাবে সাইক্লোন শেল্টারে আশ্রয় নিয়েছে’।
রায়েন্দা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আছাদুজ্জামান মিলন বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড়ের ক্ষতি কমিয়ে আনতে, জনগণের জানমাল রক্ষার্থে আমরা বিভিন্ন ওয়ার্ডের জনপ্রতিনিধিদের সহায়তায় প্রচারপ্রচারনা চালিয়েছি। সার্বক্ষনিক মনিটরিংয়ে ব্যবস্থা ছিল আমাদের। জীবন রক্ষার সার্থে তারা আশ্রয় কেন্দ্রে অবস্থান নিয়েছিল। আমরা আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে শুকনো খাবার সরবরাহ করেছি’।
বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক তপন কুমার বিশ্বাস বলেন, ঘূর্ণিঝড় ফণী মোকাবেলায় জেলা প্রশাসনের সব ধরণের প্রস্তুতি ছিল। উপকূলের চারটি উপজেলার আশ্রয়কেন্দ্র গুলোতে ১ লাখ ১৩ হাজার লোক আশ্রয় নিয়েছে। আমরা তাদের মাঝে শুকনা খবার বিতরণ করেছি। প্রায় দুই হাজার সেচ্ছাসেবক প্রস্তুত ছিল। মন্ত্রনালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী সব ধরনের প্রস্তুতি ছিল ঘূর্ণিঝড় ফণী মোকাবেলায়।