বাগেরহাটে ভাঙ্গন কবলিত ভেড়িবাঁধ মেরামত শুরু

নজরুল ইসলাম আকন, শরনখোলা
ঘূর্ণিঝড় ফণীর প্রভাবে বাগেরহাটের শবরণখোলা উপজেলার বগী গ্রামে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ৩৫/১ পোল্ডারের ভেড়িবাঁধের ভাঙ্গন কবলিত স্থানগুলো মেরামত শুরু করেছে কর্তৃপক্ষ। বুধবার সকাল থেকে ভাঙ্গন কবলিত দুটি স্থানে স্কেভেটর দিয়ে মাটি দেয়া হচ্ছে, পাশাপাশি বালুর বস্তা ফেলা হচ্ছে ভাঙ্গনের স্থানে। বৃহস্পতিবার থেকে ওই এলাকায় ভাঙ্গনের বিশ মিটার দূর থেকে নতুন করে মজবুত রিং ভেড়িবাঁধ দেয়া হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। যাতে বর্ষা মৌসুমে জোয়ারের পানি ভিতরে প্রবেশ না করতে পারে।
২০০৭ সালে ঘটে যাওয়া সিডরের পরে এলাকাবাসীর দাবি ছিল বলেশ্বর নদীর তীর ঘেষে গড়ে ওঠা বসতি গ্রামগুলো বাঁচাতে একটি টেকসই বেঁরি বাধ। দাবির প্রেক্ষিতে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে কোস্টাল ইমব্যাংকমেন্ট ইমপ্রুভমেন্ট প্রজেক্ট (সিইআইপি) নামে প্রকল্পের আওতায় ৩শ কোটি টাকা ব্যয়ে বাগেরহাটের উপকূলীয় উপজেলা শরণখোলা, মোরেলগঞ্জ ৩৫/১ পোল্ডারে আওতায় ৬৩ কিলোমিটার টেকসই বাঁধ ২০১৬ সালে জানুয়ারীতে নির্মাণ কাজ শুরু হয়। তবে কাজ শুরু হওয়ার পর থেকে বিভিন্ন সময় বাঁধের বিভিন্ন জায়গা থেকে ভেঙ্গেছে। তারপরও নদী শাসন না করে বাঁধের কাজ করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে সিইআইপি কর্তৃপক্ষ।


কোস্টাল ইমব্যাংকমেন্ট ইমপ্রুভমেন্ট প্রজেক্ট (সিইআইপি)-এর কনসাল্টেন্ট শ্যামল কুমার দত্ত বলেন, ফণীর প্রভাবে ভেড়িবাঁধের তিনটি স্থান ভেঙ্গে যায়। পানির চাপ কমলে ভাটির সময় দুইটি পয়েন্টে বালুর বস্তা ও স্কেভেটর দিয়ে মাটি ফেলে পানি ঢোকা বন্ধ করে দিয়েছি। অন্যটি বৃহস্পতিবার শেষ করে দিব। এর পরে বৃষ্টি মৌসুমে যাতে লোকালয়ে পানি প্রবেশ না করতে পারে সে জন্য ভাঙ্গনের স্থান থেকে লোকালয়ের দিকে বিশ মিটার দূরে একটি রিংবাঁধ করার কাজ শুরু হবে।
সিইআইপি প্রকল্পের ডেপুটি টিম লিডার হাবিবুর রহমান বলেন, ৩৫/১ পোল্ডারে আওতায় ৬৩ কিলোমিটার টেকসই বাঁধ ২০১৬ সালে জানুয়ারী মাসে নির্মান শুরু করে এ পর্যন্ত প্রায় ৭০ শতাংশ কাজ শেষ করেছি। ২০২০ সালের ৩০ জুনের মধ্যে এ প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। তবে বগী এলাকার যে অংশে প্রায় ভাঙ্গন দেখ দেয় সেখানে নদী শাসনের জন্য একটি প্রকল্প প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। প্রস্তাবনাটি পাশ হলে ওই এলাকায় নদী শাসনের কাজ করা হবে।