বাগেরহাটে বাক ও মানসিক প্রতিবন্ধি কিশোরী জম্ম দিয়েছে কন্যা সন্তান

 

নিজস্ব প্রতিবেদক.

বাগেরহাটে  বাক ও মানসিক প্রতিবন্ধি অজ্ঞাত কিশোরী  জম্ম দিয়েছে কন্যা সন্তান।প্রতিবন্দি মা ও সন্তানের কোন অভিভাবক না থাকায় ওই দিন সন্ধ্যায় হাসপাতাল সমাজ সেবা কর্মকর্তা, চিকিৎসক ও স্থানীয়দের মাধ্যমে শিশুটিকে পার্শ্ববর্তী জিয়াউর রহমান ও কেয়া দম্পতির হেফাজতে রাখা হয়েছে। স্থানীয় বিভিন্ন লোকজন প্রসূতিমাকে খাবার ও পোশাক সরবরাহ করছেন।

বৃহস্পতিবার (১৬মে) বিকেলে শহরের মুনিগঞ্জ খেয়াঘাটে ওই প্রতিবন্ধি কিশোরী একটি কন্যা সন্তান প্রসব করেন। পরে স্থানীয় লোকজন সন্তানসহ প্রসূতি মাকে বাগেরহাট সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন।

প্রসূতি মায়ের ফাইলে রোগীর আনয়নকারী হিসেবে দশানী গ্রামের মৃত হাবিবুর রহমানের স্ত্রী জেসমিন সুলতানার নাম লেখা পাওয়া যায়। তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার সকালে মুনিগঞ্জ ঘাটে উলঙ্গ অবস্থায় দেখে ওই মেয়েটিকে আমি হাসপাতালে নিয়ে যাই। সেখানে ভর্তি করে আমি চলে আসি। পরে জানতে পারি নার্সদের ফাকি দিয়ে ও বাইরে চলে গেছে। বিকেলে মুনিগঞ্জ গাটে একটি সন্তান্ত প্রসব করেছে।

শুক্রবার (১৭) সকালে হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, গাইনি ওয়ার্ডের ফ্লোরে একটি বিছানায় শুয়ে আছেন ওই কিশোরী মা। সেবিকারা তাকে সেবা করছেন।নাম ও ঠিকানা জানতে চাইলে শুধুই হাসে।

সমাজ সেবক জাহিদুল ইসলাম জাদু বলেন, শহরের মুনিগঞ্জ  ঘাটে একটি সন্তান প্রসব করেন ওই প্রসূতি মা। অসুস্থ্য অবস্থায় স্থানীয় লোকজন তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসে। যেহেতু প্রতিবন্ধি কিশোরী ও সন্তানের কোন অভিভাবক বা দাবিদার পাওয়া যায়নি। তাই সন্তানের দেখভালের জন্য হাসপাতাল সমাজসেবকা কর্মকর্তা এস.এন সাকিব, চিকিৎসক ও স্থানীয়দের পরামর্শ সাপেক্ষে পার্শ্ববর্তী জিয়াউর রহমান ও কেয়া দম্পতির হেফাজতে রাখা হয়েছে।

জিয়াউর রহমান ও কেয়া বলেন, শিশুটির কেউ নেই শুনে হাসপাতালে ছুটে আসছি। শিশুটির কোন অভিভাবক না থাকায় আমরা ওকে আগলে রেখেছি। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে শিশুটিকে যদি আমাদেরকে দেয় তাহলে সারা জীবনের জন্য ওকে নিজের সন্তান হিসেবে মানুষ করব।

বাগেরহাট সদর হাসপাতালের জরুরী বিভাগের চিকিৎসক শেখ ইমরান মোহাম্মাদ বলেন, প্রসূতি মাকে গাইনি বিভাগে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। এছাড়া শিশুটিকে আমরা নিরাপদ হেফাজতে রেখেছি।

দেখুন ভিডিও