ধর্ষনের অভিযোগে নৌ পুলিশ সদস্য কারাগারে

নিজস্ব প্রতিবেদক

বাগেরহাটের রামপালে মাধ্যমিক পাশ করা কিশোরী এক ছাত্রীকে (১৬) বিয়ের প্রলোভনে দিনের পর দিন ধর্ষণের অভিযোগে নৌ পুলিশের এক সদস্যকে ধরে পুলিশে দিয়েছে স্থানীয় জনতা। বৃহষ্পতিবার গভীর রাতে রামপাল উপজেলার ভোতপাতিয়া ইউনিয়নের কালিকাবাড়ি গ্রাম থেকে স্থানীয় গ্রামবাসী তাদের ধরে পুলিশে দেয়। শুক্রবার রাতে এই ঘটনায় মেয়েটি নিজে বাদী হয়ে রামপাল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে নৌ পুলিশের সদস্য মুস্তাকিন বিল্লাহ’র বিরুদ্ধে একটি মামলা করেছেন। এই ঘটনায় নৌ পুলিশের খুলনা বিভাগের ভারপ্রাপ্ত উপমহাপরিদর্শক  (ডিআইজি) রামপাল থানা পরিদর্শন করেছেন।

এদিকে, শনিবার দুপুরে বাগেরহাট সদর হাসপাতালে মেয়েটির ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে এবং নৌ পুলিশের সদস্য মুস্তকিনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

নৌ পুলিশের সদস্য মুস্তাকিন বিল্লাহ (৩২) রামপাল উপজেলার মোংলা-ঘষিয়াখালী নৌচ্যানেলের সন্নাসী নৌপুলিশ ক্যাম্পে কর্মরত ছিলেন। তিনি খুলনার তেরখাদা উপজেলার বারাসাত গ্রামের হাফেজ জামিল আহমেদের ছেলে।

মামলার বরাত দিয়ে রামপাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. লুৎফর রহমান দুপুরে এই প্রতিবেদককে বলেন, মোংলা-ঘষিয়াখালী নৌচ্যানেলের সন্নাসী নৌপুলিশ ক্যাম্পে কর্মরত নৌ পুলিশের সদস্য মুস্তাকিন বিল্লাহ’র সাথে  প্রায় দুই মাস আগে চলতি শিক্ষাবর্ষে এসএসসি পাশ করা স্থানীয় এক কিশোরীর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পুলিশ সদস্য মেয়েটিকে বিয়ে করার প্রতিশ্রুতি দিলে তাদের মধ্যে শারীরিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সম্প্রতি মেয়েটি ওই পুলিশ সদস্যকে বিয়ে করতে চাপ দেয়। বৃহষ্পতিবার রাত একটার দিকে নৌ পুলিশের সদস্য মেয়েটির সাথে দেখা করতে আসলে স্থানীয় লোকজন তাদের ধরে প্রথমে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের কাছে দেয়। পরে চেয়ারম্যান তাদের পুলিশে সোপর্দ করেন। এই ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা হয়েছে। শনিবার দুপুরে বাগেরহাট সদর হাসপাতালে মেয়েটির ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে এবং নৌ পুলিশের সদস্য মুস্তকিনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

বাগেরহাট সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) চিকিৎসক মশিউর রহমান দুপুরে এই বলেন,  দুপুরে কিশোরীর ডাক্তারী পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে।